Dhaka ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নটর ডেম ও সেন্ট যোসেফে পলাশবাড়ী গ্রীন ফিল্ড স্কুলের ৭ শিক্ষার্থীর ভর্তির সুযোগ ঢাকা-রংপুর লংমার্চ ও পলাশবাড়ী পথসভা উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রেস ব্রিফিং ৭ ধাপে ইউপি নির্বাচন শুরু ১২ নভেম্বর: প্রথম ধাপে ভোট ৮০ উপজেলার ইউনিয়নে গণমাধ্যমের অন্দরমহলে নিঃশব্দ মৃত্যুমিছিল:কাল হয়তো আমরা কেউ… ব্যবসায়ীর মুখোশে ভয়ংকর প্রতারণা: হাতিয়েছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার দেড় লক্ষ টাকা স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু নভেম্বরের মাঝামাঝিতে খাটের নিচে লুকোচুরি: মামী-ভাগ্নের কাণ্ডে পলাশবাড়িতে তুলকালাম মেসির উদাহরণ টেনে ইয়ামালকে সতর্ক করলেন সাবেক বার্সা তারকা তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে প্রবাসীদের ব্যাপক প্রস্তুতি রুশ ড্রোনের নিশানায় সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক সিআইএ প্রধান ?

নওগাঁয় অধ্যক্ষের স্ত্রীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যা, অভিযুক্ত নারী গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৩৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • ১১০ Time View
নওগাঁ প্রতিনিধি:  নওগাঁ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক শহিদুল আলমের স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে স্বর্ণালংকার লুটের পর হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হাসিনা বেগম (৪৫) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত ৯টায় জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, গত ২৫ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান ফাতেমা বেগম। এর আগে, একটি প্রতারক চক্র তাকে অজ্ঞান করে তার গলা ও হাতের স্বর্ণালংকার লুট করে শহরের নদীপাড় এলাকার একটি ময়লার পট্টিতে ফেলে রেখে যায়। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের পর তদন্তে নামে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
মামলার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ শহরের বিভিন্ন এলাকার ৮৫ থেকে ৮৭টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে। ফুটেজে মুখে মাস্ক, চোখে চশমা এবং সাথে আড়াই বছরের একটি শিশু থাকা এক সন্দেহভাজন নারীকে সনাক্ত করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও স্থানীয় জনগণের তথ্যের ভিত্তিতে নওহাটা এলাকা থেকে অভিযুক্ত হাসিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হাসিনা বেগম স্বীকার করেছেন, তিনি সুকৌশলে বিভিন্ন মানুষের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সর্বস্ব লুট করতেন।
ঘটনার দিন শহরের উকিলপাড়া এলাকায় ফাতেমা বেগম ও তার স্বামীর সাথে পরিচিত হন হাসিনা। একপর্যায়ে তাদের বিশ্বাস অর্জন করে ফাতেমা বেগমকে সাথে নিয়ে একটি রিকশায় ওঠেন তিনি। এরপর নিজের কাছে থাকা ফলের জুসের সাথে আগে থেকে গুঁড়ো করে রাখা ‘জিওনিল’ নামের তীব্র মাত্রার ঘুমের ওষুধের ৬ থেকে ৭টি ট্যাবলেট মিশিয়ে ফাতেমা বেগমকে খাইয়ে দেন। ফাতেমা বেগম অচেতন হয়ে পড়লে তার স্বর্ণালংকার খুলে নিয়ে তাকে রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে যান হাসিনা।
জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত আরও জানান, লুট করা স্বর্ণালংকারগুলো শহরের ‘জোয়ারদার জুয়েলার্স’-এর ইমরান নামের এক ব্যক্তির কাছে মাত্র ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, এই চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শেখ মো. জিন্নাহ আল মামুন, ডিবি পুলিশের ওসি হাসিবুল্লাহ হাবিব এবং সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নটর ডেম ও সেন্ট যোসেফে পলাশবাড়ী গ্রীন ফিল্ড স্কুলের ৭ শিক্ষার্থীর ভর্তির সুযোগ

নওগাঁয় অধ্যক্ষের স্ত্রীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যা, অভিযুক্ত নারী গ্রেপ্তার

Update Time : ০৩:৩৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
নওগাঁ প্রতিনিধি:  নওগাঁ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক শহিদুল আলমের স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে স্বর্ণালংকার লুটের পর হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হাসিনা বেগম (৪৫) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত ৯টায় জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, গত ২৫ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান ফাতেমা বেগম। এর আগে, একটি প্রতারক চক্র তাকে অজ্ঞান করে তার গলা ও হাতের স্বর্ণালংকার লুট করে শহরের নদীপাড় এলাকার একটি ময়লার পট্টিতে ফেলে রেখে যায়। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের পর তদন্তে নামে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
মামলার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ শহরের বিভিন্ন এলাকার ৮৫ থেকে ৮৭টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে। ফুটেজে মুখে মাস্ক, চোখে চশমা এবং সাথে আড়াই বছরের একটি শিশু থাকা এক সন্দেহভাজন নারীকে সনাক্ত করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও স্থানীয় জনগণের তথ্যের ভিত্তিতে নওহাটা এলাকা থেকে অভিযুক্ত হাসিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হাসিনা বেগম স্বীকার করেছেন, তিনি সুকৌশলে বিভিন্ন মানুষের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সর্বস্ব লুট করতেন।
ঘটনার দিন শহরের উকিলপাড়া এলাকায় ফাতেমা বেগম ও তার স্বামীর সাথে পরিচিত হন হাসিনা। একপর্যায়ে তাদের বিশ্বাস অর্জন করে ফাতেমা বেগমকে সাথে নিয়ে একটি রিকশায় ওঠেন তিনি। এরপর নিজের কাছে থাকা ফলের জুসের সাথে আগে থেকে গুঁড়ো করে রাখা ‘জিওনিল’ নামের তীব্র মাত্রার ঘুমের ওষুধের ৬ থেকে ৭টি ট্যাবলেট মিশিয়ে ফাতেমা বেগমকে খাইয়ে দেন। ফাতেমা বেগম অচেতন হয়ে পড়লে তার স্বর্ণালংকার খুলে নিয়ে তাকে রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে যান হাসিনা।
জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত আরও জানান, লুট করা স্বর্ণালংকারগুলো শহরের ‘জোয়ারদার জুয়েলার্স’-এর ইমরান নামের এক ব্যক্তির কাছে মাত্র ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, এই চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শেখ মো. জিন্নাহ আল মামুন, ডিবি পুলিশের ওসি হাসিবুল্লাহ হাবিব এবং সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।