Dhaka ০৩:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পথরোধ করে ছিনতাই, দুই ডাকাত গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:০২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৯ Time View
নওগাঁ প্রতিনিধি:  নওগাঁর রাণীনগর-আবাদপুকুর আঞ্চলিক সড়কে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পথচারীদের কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগে চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার রাজাপুর গ্রামের শহিদুল মন্ডলের ছেলে মোঃ নাহিদ হোসেন (২২) ও বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার চা-বাগান কলোনীর আফসার আলীর ছেলে মোঃ মনিরুল ইসলাম বাইরুল ওরফে বেলাল (৩৮)। এই বাইরুল ডাকাতের মূল হোতা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে রবিবার (২০সেপ্টেম্বর) টানা ৪৮ঘন্টা অভিযান চালিয়ে বগুড়ার সান্তাহার ও রাণীনগর উপজেলা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া মন্ডল বলেন, সড়কে ডাকাতির ঘটনায় এসপি স্যারের সার্বক্ষণিক দিক নির্দেশনায় যৌথভাবে অভিযান চালানো হয়। ঘটনার দিন থেকে আমরা প্রায় প্রতিদিন নাটোর, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং নওগাঁর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছি। কিন্তু ডাকাত মনিরুল ইসলাম বাইরুল অতি চতুর প্রকৃতির। সে বারবার তার অবস্থান পরিবর্তন করছিল। আমরা প্রথমে নাটোর অভিযান চালায়। কিন্তু তারা সেখান থেকে আবারও সেই রাণীনগর-আবাদপুকুর সড়কে ডাকাতির উদ্দেশে আসে। যদিও পুলিশ সেখানে অভিযান চালানোর আগেই পালিয়ে যায় জয়পুরহাট। ধুরন্ধর বাইরুল এভাবেই গত ৩দিন তার অবস্থান পরিবর্তন করে। অবশেষে পুলিশ সুপার স্যারের দিক নির্দেশনায় টানা ৪৮ঘন্টার অভিযানে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার কলেজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাণীনগর উপজেলার হাতিরপুল এলাকা থেকে নাহিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় আরও দুই জন জড়িত আছে। তাদেরও খুব দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।
পুলিশ জানায়, গত ১৭সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাণীনগর-আবাদপুকুর সড়কের বেলঘড়িয়া বাজার নির্জন এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা প্রথমে এক হাঁস ব্যবসায়ী, পরে এক ভ্যানচালক এবং দুটি মোটরসাইকেলে থাকা চার আরোহীর পথরোধ করে ধারালো হাসুয়া ও দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে তাদের ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। পরে তাদের কাছ থেকে কয়েক হাজার টাকা ও ছয়-সাতটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় হাবিবুর বাশার, সুজন, এরশাদ সোহেল এবং ফয়সালসহ  কয়েকজন ভুক্তভোগী আহত হন। এমনকি যাত্রীদের কয়েকজনকে তাদের পরনের কাপড় কেটে গাছের সঙ্গে বেঁধেও রাখা হয়েছিল।
ঘটনার পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা, রাণীনগর ও আত্রাই থানার সমন্বয়ে বিশেষ দল গঠন করে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দুই দিনের মধ্যে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২০সেপ্টেম্বর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ডাকাত বাইরুল এবং নাহিদ  ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ১৭ তারিখ সন্ধ্যা রাতে এবং ভোররাতে তারা চারজন মিলে দুই দফায় রানীনগর আবাদ পুকুর রোডে কয়েকজন লোকের নিকট থেকে ছিনতাই করার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। এছাড়াও তারা নওগাঁ নাটোর সড়কে বিভিন্ন সময় ছিনতাইর চেষ্টা করেছিল। নাহিদ তার অপরাধের কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, তাদের কাছ থেকে একটি হাসুয়া, ভুক্তভোগীর একটি মোবাইল ফোনসহ কয়েকটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে মনিরুল ইসলাম ওরফে বাইরুলের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও ডাকাতিসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। সে ১৭ মাস কারাগারে ছিল এবং সম্প্রতি কারামুক্ত হয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সুপার হুঁশিয়ারি করে আরও বলেন, নওগাঁ জেলা পুলিশ নওগাঁ-রাণীনগর -আত্রাই- নাটোর আঞ্চলিক সড়কে যেকোনো ধরনের ছিনতাই ও দস্যুতা দমনে আইন ও বিধি অনুযায়ী শক্তি প্রয়োগ করবে। সেই সাথে অপরাধীদের কঠোর হস্তে দমন করবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

পথরোধ করে ছিনতাই, দুই ডাকাত গ্রেপ্তার

Update Time : ১২:০২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নওগাঁ প্রতিনিধি:  নওগাঁর রাণীনগর-আবাদপুকুর আঞ্চলিক সড়কে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পথচারীদের কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগে চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার রাজাপুর গ্রামের শহিদুল মন্ডলের ছেলে মোঃ নাহিদ হোসেন (২২) ও বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার চা-বাগান কলোনীর আফসার আলীর ছেলে মোঃ মনিরুল ইসলাম বাইরুল ওরফে বেলাল (৩৮)। এই বাইরুল ডাকাতের মূল হোতা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে রবিবার (২০সেপ্টেম্বর) টানা ৪৮ঘন্টা অভিযান চালিয়ে বগুড়ার সান্তাহার ও রাণীনগর উপজেলা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া মন্ডল বলেন, সড়কে ডাকাতির ঘটনায় এসপি স্যারের সার্বক্ষণিক দিক নির্দেশনায় যৌথভাবে অভিযান চালানো হয়। ঘটনার দিন থেকে আমরা প্রায় প্রতিদিন নাটোর, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং নওগাঁর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছি। কিন্তু ডাকাত মনিরুল ইসলাম বাইরুল অতি চতুর প্রকৃতির। সে বারবার তার অবস্থান পরিবর্তন করছিল। আমরা প্রথমে নাটোর অভিযান চালায়। কিন্তু তারা সেখান থেকে আবারও সেই রাণীনগর-আবাদপুকুর সড়কে ডাকাতির উদ্দেশে আসে। যদিও পুলিশ সেখানে অভিযান চালানোর আগেই পালিয়ে যায় জয়পুরহাট। ধুরন্ধর বাইরুল এভাবেই গত ৩দিন তার অবস্থান পরিবর্তন করে। অবশেষে পুলিশ সুপার স্যারের দিক নির্দেশনায় টানা ৪৮ঘন্টার অভিযানে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার কলেজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাণীনগর উপজেলার হাতিরপুল এলাকা থেকে নাহিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় আরও দুই জন জড়িত আছে। তাদেরও খুব দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।
পুলিশ জানায়, গত ১৭সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাণীনগর-আবাদপুকুর সড়কের বেলঘড়িয়া বাজার নির্জন এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা প্রথমে এক হাঁস ব্যবসায়ী, পরে এক ভ্যানচালক এবং দুটি মোটরসাইকেলে থাকা চার আরোহীর পথরোধ করে ধারালো হাসুয়া ও দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে তাদের ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। পরে তাদের কাছ থেকে কয়েক হাজার টাকা ও ছয়-সাতটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় হাবিবুর বাশার, সুজন, এরশাদ সোহেল এবং ফয়সালসহ  কয়েকজন ভুক্তভোগী আহত হন। এমনকি যাত্রীদের কয়েকজনকে তাদের পরনের কাপড় কেটে গাছের সঙ্গে বেঁধেও রাখা হয়েছিল।
ঘটনার পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা, রাণীনগর ও আত্রাই থানার সমন্বয়ে বিশেষ দল গঠন করে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দুই দিনের মধ্যে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২০সেপ্টেম্বর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ডাকাত বাইরুল এবং নাহিদ  ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ১৭ তারিখ সন্ধ্যা রাতে এবং ভোররাতে তারা চারজন মিলে দুই দফায় রানীনগর আবাদ পুকুর রোডে কয়েকজন লোকের নিকট থেকে ছিনতাই করার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। এছাড়াও তারা নওগাঁ নাটোর সড়কে বিভিন্ন সময় ছিনতাইর চেষ্টা করেছিল। নাহিদ তার অপরাধের কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, তাদের কাছ থেকে একটি হাসুয়া, ভুক্তভোগীর একটি মোবাইল ফোনসহ কয়েকটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে মনিরুল ইসলাম ওরফে বাইরুলের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও ডাকাতিসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। সে ১৭ মাস কারাগারে ছিল এবং সম্প্রতি কারামুক্ত হয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সুপার হুঁশিয়ারি করে আরও বলেন, নওগাঁ জেলা পুলিশ নওগাঁ-রাণীনগর -আত্রাই- নাটোর আঞ্চলিক সড়কে যেকোনো ধরনের ছিনতাই ও দস্যুতা দমনে আইন ও বিধি অনুযায়ী শক্তি প্রয়োগ করবে। সেই সাথে অপরাধীদের কঠোর হস্তে দমন করবে।