
প্রতিনিধি গাইবান্ধা:
বাংলাদেশ রেলওয়েতে ওয়েম্যান পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ, হুমকি এবং উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটানোর অভিযোগে এক রেল কর্মচারীর বিরুদ্ধে গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী এক যুবক। ভুক্তভোগী শ্রী সুজন বাবু গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কিশামত সর্বানন্দ গ্রামের সুখিলাল বাবুর ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুজন বাবু জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ের লালমনিরহাটে কর্মরত ওয়েম্যান মোঃ আসাদুল ইসলাম (পিতা: মৃত মাহাতাব ব্যাপারী) ২০১৮ সালের ১৫ মে ওয়েম্যান পদে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা নেন। টাকা নেওয়ার পর চাকরিতে নিয়োগ দিতে ব্যর্থ হয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে টালবাহানা শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে আসাদুল ইসলাম তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এ ঘটনায় সুজন বাবু গাইবান্ধা আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। হুমকি অব্যাহত থাকায় পরবর্তীতে তিনি সুন্দরগঞ্জ আমলী আদালতে সিআর মামলা করেন। সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। পরে আদালতের আদেশ অবমাননা করায় পুলিশ আসাদুল ইসলামকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, আসাদুল ইসলাম গ্রেফতারের আগে আক্রোশ মেটাতে ভাড়াটিয়া লোক দিয়ে সুজন বাবুর কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করান। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গাইবান্ধা সদর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি সাজানো মামলা (নং ২৯৪/২৬) দায়ের করা হয়। ওই মামলায় সুজন বাবুকে গ্রেফতার করা হলে তাঁকে ২০ থেকে ২৪ দিন কারাভোগ করতে হয়। বর্তমানে জামিনে থাকা সুজন বাবু এই হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলাটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
সুজন বাবু অভিযোগ করে বলেন, আসাদুল ইসলাম ও লালমনিরহাটের আরেক রেল কর্মচারী মোঃ হেলাল হোসেন একটি প্রতারক চক্র গড়ে তুলেছেন। চক্রটি রেলওয়েতে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে বহু নিরীহ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই প্রতারক চক্রের সাথে রেলওয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি সুষ্ঠু তদন্তের জোর দাবি জানান। একই সাথে আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত ও প্রতারকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

Reporter Name 
























