Dhaka ১১:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কৃষকের সন্তান থেকে চিকিৎসক হওয়ার পথে শাকিল শনিবার দেশে ফিরছে ৫ প্রবাসীর লাশ, শোকের মাঝেও ঋণের চাপ সাঘাটায় অবৈধ বালু মজুদে জরিমানা করায় এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ সাঘাটায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে সহস্রাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ সুন্দরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১৬ বামনডাঙ্গা জনতা ব্যাংকে প্রকাশ্যে ঋণ বিতরণ গাইবান্ধায় টেলিভিশন রিপোর্টিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গোবিন্দগঞ্জে বর্ণাঢ্য র‌্যালি  ভাড়া বাসায় জাল টাকার কারবার, ডিবির জালে জব্বার সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ

হিমালয়ের ‘সুনামি’র এক সপ্তাহ: মৃত্যু ১,২৫০ ছাড়াল, নিখোঁজ ৪,২০০

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৫৬:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৩৫ Time View

আজকের জনগণ ডেস্ক: নেপালের ভয়াবহ হিমালয় বিপর্যয়ের এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ধ্বংসযজ্ঞের পূর্ণ চিত্র এখনো স্পষ্ট হচ্ছে। ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় থেকে নেমে আসা বরফ, পাথর, কাদা ও পানির প্রবল স্রোত মুহূর্তের মধ্যে জনপদ, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ভাসিয়ে নেয়। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিসির খানাল এই নজিরবিহীন ঘটনাকে ‘Himalayan Tsunami’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সর্বশেষ হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১,২৫০ ছাড়িয়েছে এবং ৪,২০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ। প্রাথমিক আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৩৮৭.৫ বিলিয়ন নেপালি রুপি বা ২.৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রায় ২০ হাজার বাড়ি পুনর্নির্মাণের প্রয়োজন, যার মধ্যে অন্তত ৭,৫০০টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

যেভাবে নেমে এলো ‘হিমালয়ের সুনামি’
প্রাথমিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, তিব্বতের দিকে upstream এলাকায় বিশাল ice-rock avalanche বা বরফ-পাথরের ধস Lhende নদীর প্রবাহ সাময়িকভাবে আটকে দেয়। পরে সেই প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে বিপুল পানি, বরফ, পাথর ও কাদা একসঙ্গে নিচের দিকে ছুটে আসে।

এই ধ্বংসস্রোত Bhote Koshi হয়ে Trishuli নদী ব্যবস্থায় প্রবেশ করে Rasuwa, Nuwakot, Dhadingসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় আঘাত হানে। তবে বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক কারণ নিয়ে অনুসন্ধান এখনো চলছে।

দুর্যোগের প্রথম দিকে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা বোঝা যায়নি। দুর্গম পাহাড়, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ এবং বিপুল কাদা-পাথরের স্তূপ উদ্ধারকাজ বাধাগ্রস্ত করে। ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১১,৯৯৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। নিখোঁজদের মধ্যে বহু বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

২২ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ
UNDP-এর satellite-based assessment বিপর্যয়টির ভয়াবহতার আরেকটি চিত্র সামনে এনেছে। বিশ্লেষণ করা এলাকাগুলোতেই বন্যা ও mudflow প্রায় ২২ লাখ টন debris রেখে গেছে। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসাবশেষই প্রায় ৫ লাখ ৫৬ হাজার টন।

নেপালের গুরুত্বপূর্ণ hydropower খাতেও বড় আঘাত এসেছে। মোট ৪৩১.১ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১১টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি solar plant বন্ধ হয়ে যায়। নির্মাণাধীন আরও ১৫টি বিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও জীবিকায় নতুন সংকট
বন্যার পানি সরে গেলেও বিশুদ্ধ পানির সংকট, ক্ষতিগ্রস্ত sanitation ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবায় বিঘ্নের কারণে পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। WHO জরুরি স্বাস্থ্য সহায়তায় প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার বরাদ্দ করেছে।

কৃষি ও জীবিকার ক্ষতিও দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। UNDP-এর হিসাবে ছয় জেলার ১৭টি municipality-তে ৮৪,২৭০ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অধিকাংশ পরিবার কৃষিনির্ভর হওয়ায় খাদ্যনিরাপত্তা ও আয়েও এর প্রভাব পড়বে।

উদ্ধার থেকে এখন পুনর্গঠনের লড়াই
নেপাল সরকার এখন উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি early recovery ও reconstruction-এর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। সড়ক ও বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপন, বিশুদ্ধ পানি, অস্থায়ী আশ্রয় এবং স্বাস্থ্যসেবা চালু করাই প্রধান অগ্রাধিকার। শুধু প্রাথমিক recovery কার্যক্রমেই প্রায় ৫২.৬ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন বলে হিসাব করা হয়েছে।

এ বিপর্যয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—এটি শুধু প্রচলিত বৃষ্টিজনিত বন্যা নয়। বরফ-পাথরের ধস → নদী অবরুদ্ধ হওয়া → প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি → বাঁধ ভেঙে আকস্মিক বন্যা—একের পর এক ঘটনা মিলেই তৈরি হয়েছে ভয়াবহ cascading disaster।

ফলে দ্রুত পরিবর্তিত হিমালয় অঞ্চলে শুধু বৃষ্টিপাত ও নদীর পানি নয়, হিমবাহ, ice-rock avalanche এবং landslide-dammed lake-কেও সমন্বিত Early Warning System-এর আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এসেছে।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে নেপালের সামনে এখন ভয়াবহ বাস্তবতা—১,২৫০-এর বেশি মৃত্যু, ৪,২০০-এর বেশি নিখোঁজ, ২০ হাজার বাড়ি পুনর্নির্মাণের প্রয়োজন এবং অন্তত ২৫৬ কোটি ডলারের প্রাথমিক ক্ষতি। হিমালয় থেকে নেমে আসা স্রোত থেমে গেছে, কিন্তু নেপালের পুনরুদ্ধারের লড়াই কেবল শুরু হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কৃষকের সন্তান থেকে চিকিৎসক হওয়ার পথে শাকিল

হিমালয়ের ‘সুনামি’র এক সপ্তাহ: মৃত্যু ১,২৫০ ছাড়াল, নিখোঁজ ৪,২০০

Update Time : ০৪:৫৬:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আজকের জনগণ ডেস্ক: নেপালের ভয়াবহ হিমালয় বিপর্যয়ের এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ধ্বংসযজ্ঞের পূর্ণ চিত্র এখনো স্পষ্ট হচ্ছে। ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় থেকে নেমে আসা বরফ, পাথর, কাদা ও পানির প্রবল স্রোত মুহূর্তের মধ্যে জনপদ, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ভাসিয়ে নেয়। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিসির খানাল এই নজিরবিহীন ঘটনাকে ‘Himalayan Tsunami’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সর্বশেষ হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১,২৫০ ছাড়িয়েছে এবং ৪,২০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ। প্রাথমিক আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৩৮৭.৫ বিলিয়ন নেপালি রুপি বা ২.৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রায় ২০ হাজার বাড়ি পুনর্নির্মাণের প্রয়োজন, যার মধ্যে অন্তত ৭,৫০০টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

যেভাবে নেমে এলো ‘হিমালয়ের সুনামি’
প্রাথমিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, তিব্বতের দিকে upstream এলাকায় বিশাল ice-rock avalanche বা বরফ-পাথরের ধস Lhende নদীর প্রবাহ সাময়িকভাবে আটকে দেয়। পরে সেই প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে বিপুল পানি, বরফ, পাথর ও কাদা একসঙ্গে নিচের দিকে ছুটে আসে।

এই ধ্বংসস্রোত Bhote Koshi হয়ে Trishuli নদী ব্যবস্থায় প্রবেশ করে Rasuwa, Nuwakot, Dhadingসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় আঘাত হানে। তবে বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক কারণ নিয়ে অনুসন্ধান এখনো চলছে।

দুর্যোগের প্রথম দিকে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা বোঝা যায়নি। দুর্গম পাহাড়, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ এবং বিপুল কাদা-পাথরের স্তূপ উদ্ধারকাজ বাধাগ্রস্ত করে। ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১১,৯৯৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। নিখোঁজদের মধ্যে বহু বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

২২ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ
UNDP-এর satellite-based assessment বিপর্যয়টির ভয়াবহতার আরেকটি চিত্র সামনে এনেছে। বিশ্লেষণ করা এলাকাগুলোতেই বন্যা ও mudflow প্রায় ২২ লাখ টন debris রেখে গেছে। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসাবশেষই প্রায় ৫ লাখ ৫৬ হাজার টন।

নেপালের গুরুত্বপূর্ণ hydropower খাতেও বড় আঘাত এসেছে। মোট ৪৩১.১ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১১টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি solar plant বন্ধ হয়ে যায়। নির্মাণাধীন আরও ১৫টি বিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও জীবিকায় নতুন সংকট
বন্যার পানি সরে গেলেও বিশুদ্ধ পানির সংকট, ক্ষতিগ্রস্ত sanitation ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবায় বিঘ্নের কারণে পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। WHO জরুরি স্বাস্থ্য সহায়তায় প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার বরাদ্দ করেছে।

কৃষি ও জীবিকার ক্ষতিও দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। UNDP-এর হিসাবে ছয় জেলার ১৭টি municipality-তে ৮৪,২৭০ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অধিকাংশ পরিবার কৃষিনির্ভর হওয়ায় খাদ্যনিরাপত্তা ও আয়েও এর প্রভাব পড়বে।

উদ্ধার থেকে এখন পুনর্গঠনের লড়াই
নেপাল সরকার এখন উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি early recovery ও reconstruction-এর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। সড়ক ও বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপন, বিশুদ্ধ পানি, অস্থায়ী আশ্রয় এবং স্বাস্থ্যসেবা চালু করাই প্রধান অগ্রাধিকার। শুধু প্রাথমিক recovery কার্যক্রমেই প্রায় ৫২.৬ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন বলে হিসাব করা হয়েছে।

এ বিপর্যয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—এটি শুধু প্রচলিত বৃষ্টিজনিত বন্যা নয়। বরফ-পাথরের ধস → নদী অবরুদ্ধ হওয়া → প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি → বাঁধ ভেঙে আকস্মিক বন্যা—একের পর এক ঘটনা মিলেই তৈরি হয়েছে ভয়াবহ cascading disaster।

ফলে দ্রুত পরিবর্তিত হিমালয় অঞ্চলে শুধু বৃষ্টিপাত ও নদীর পানি নয়, হিমবাহ, ice-rock avalanche এবং landslide-dammed lake-কেও সমন্বিত Early Warning System-এর আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এসেছে।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে নেপালের সামনে এখন ভয়াবহ বাস্তবতা—১,২৫০-এর বেশি মৃত্যু, ৪,২০০-এর বেশি নিখোঁজ, ২০ হাজার বাড়ি পুনর্নির্মাণের প্রয়োজন এবং অন্তত ২৫৬ কোটি ডলারের প্রাথমিক ক্ষতি। হিমালয় থেকে নেমে আসা স্রোত থেমে গেছে, কিন্তু নেপালের পুনরুদ্ধারের লড়াই কেবল শুরু হয়েছে।