Dhaka ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
প্রি-পেইড মিটার বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্থবিরতার অভিযোগ, ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা বাস-অটোরিকশা দ্বন্দ্ব: নওগাঁয় দ্বিতীয় দিনেও বাস চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা উত্তর গিদারী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে মানববন্ধন নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা: ব্যক্তি উদ্যোগে টিকে আছে ঐতিহ্য, নেই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা নিউইয়র্কে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, উপকূলীয় বন্যার সতর্কতা বহাল ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: রাষ্ট্রপতির ছোট ভাই মির্জা ফয়সলের মনোনয়নপত্র দাখিল উদয়ন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মিন্টু : শহরে প্রথম জানাজা, বাদ এশা গটিয়ায় দাফন দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার: নতুন রূপ ও প্রত্যয় নিয়ে এলো স্ট্রমী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি: খরচ কত হবে, কত দামে বিক্রি হবে ধান

ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্থবিরতার অভিযোগ, ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৬ Time View

সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতি ও পরিষদের কার্যক্রমে পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচিত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর প্রথমে ১ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ শেখ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। পরে তাঁর পরিবর্তে হাফিজার রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার পরও পরিষদের নাগরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রত্যাশিত গতি ফেরেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এ ছাড়া ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাফিজার রহমানের বিরুদ্ধে স্থানীয় আশাদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির করা স্ট্যাম্প জালিয়াতির মামলা চলমান রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হয়েছে।

সেবাগ্রহীতাদের কয়েকজন জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সনদ নিতে একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাঁদের।

ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম বলেন, জন্মসনদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। প্রায় এক মাস ঘোরার পর তিনি সনদ পেয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ কেউ নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় হিসাব সংক্রান্ত কাজসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের কার্যক্রমও নিয়মিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

পরিষদের সামগ্রিক কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মাইদুল ইসলাম মুরাদসহ কয়েকজন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিক সেবা চরম ব্যহত হচ্ছে। যা দ্রুত স্বাভাবিক করা জরুরি।  একই সঙ্গে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমকে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী স্বপদে বহালের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

নির্বাচিত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পরিষদের জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন সংক্রান্ত ইউজার আইডি ব্যবহার করে অবৈধভাবে জন্মনিবন্ধন ইস্যুর অভিযোগে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত জবাব দেন। পরে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাঁর দাবি, পরিষদের তৎকালীন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইউজার আইডি ব্যবহার করে কিছু জন্মনিবন্ধন ইস্যু করলেও সেগুলোতে তাঁর কোনো স্বাক্ষর ছিল না।

পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ওয়ালিউর রহমান বলেন, তাঁর বাসা দূরে হলেও তিনি নিয়মিত পরিষদে এসে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছেন।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাফিজার রহমান বলেন, পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে কয়েকদিন ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের সব কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওজাতুন জান্নাতের অফিসিয়াল মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, নাগরিক সেবা নির্বিঘ্ন করতে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও গ্রাম আদালতের কার্যক্রম নিয়মিত করা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

প্রি-পেইড মিটার বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্থবিরতার অভিযোগ, ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা

Update Time : ০২:২২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতি ও পরিষদের কার্যক্রমে পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচিত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর প্রথমে ১ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ শেখ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। পরে তাঁর পরিবর্তে হাফিজার রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার পরও পরিষদের নাগরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রত্যাশিত গতি ফেরেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এ ছাড়া ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাফিজার রহমানের বিরুদ্ধে স্থানীয় আশাদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির করা স্ট্যাম্প জালিয়াতির মামলা চলমান রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হয়েছে।

সেবাগ্রহীতাদের কয়েকজন জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সনদ নিতে একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাঁদের।

ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম বলেন, জন্মসনদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। প্রায় এক মাস ঘোরার পর তিনি সনদ পেয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ কেউ নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় হিসাব সংক্রান্ত কাজসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের কার্যক্রমও নিয়মিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

পরিষদের সামগ্রিক কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মাইদুল ইসলাম মুরাদসহ কয়েকজন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিক সেবা চরম ব্যহত হচ্ছে। যা দ্রুত স্বাভাবিক করা জরুরি।  একই সঙ্গে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমকে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী স্বপদে বহালের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

নির্বাচিত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পরিষদের জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন সংক্রান্ত ইউজার আইডি ব্যবহার করে অবৈধভাবে জন্মনিবন্ধন ইস্যুর অভিযোগে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত জবাব দেন। পরে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাঁর দাবি, পরিষদের তৎকালীন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইউজার আইডি ব্যবহার করে কিছু জন্মনিবন্ধন ইস্যু করলেও সেগুলোতে তাঁর কোনো স্বাক্ষর ছিল না।

পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ওয়ালিউর রহমান বলেন, তাঁর বাসা দূরে হলেও তিনি নিয়মিত পরিষদে এসে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছেন।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাফিজার রহমান বলেন, পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে কয়েকদিন ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের সব কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওজাতুন জান্নাতের অফিসিয়াল মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, নাগরিক সেবা নির্বিঘ্ন করতে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও গ্রাম আদালতের কার্যক্রম নিয়মিত করা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।