Dhaka ০৪:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সঞ্চয়ের ২ লাখ টাকা উইপোকার পেটে: নিঃস্ব দম্পতি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৬ Time View

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের ২ লাখ টাকা উইপোকা কেটে টুকরো-টুকরো করে ফেলায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে এক দম্পতি। শেষ সম্বল হারিয়ে পরিবারটিতে নেমে এসেছে চরম হতাশা। সঞ্চয়ের টাকা হারিয়ে চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছেন তারা।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের দক্ষিণ ধুমাইটারী গ্রামে। ক্ষতিগ্রস্ত দম্পতি হলেন ওই গ্রামের মৃত জহির উদ্দিনের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, তোফাজ্জল হোসেন ও তার স্ত্রী দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে ঢাকায় বসবাস করছেন। তোফাজ্জল হোসেন রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমও ঢাকায় একটি বাসা-বাড়িতে কাজ করতেন। সংসারের খরচ মিটিয়ে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই অল্প অল্প করে টাকা সঞ্চয় করতেন। বৃদ্ধ বয়সে যেন কারও ওপর নির্ভর করতে না হয় এবং ভবিষ্যতে কিছুটা স্বচ্ছলভাবে জীবন কাটাতে পারেন, এই আশায় দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট করে প্রায় ২ লাখ টাকা জমিয়েছিলেন তারা। সঞ্চয়ের সেই টাকা একটি বাক্সে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। সম্প্রতি ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে এসে জমি বন্ধক নেওয়ার পরিকল্পনা করেন তোফাজ্জল হোসেন ও ফাতেমা বেগম। এ সময় সঞ্চয়ের বাক্সটি খুলে টাকা বের করতে গিয়ে তাদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। দেখতে পান, বাক্সে রাখা প্রায় ২ লাখ টাকার নোটই উইপোকা কেটে টুকরো-টুকরো করে ফেলেছে। দীর্ঘদিনের কষ্ট ও শ্রমে
জমানো অর্থ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে মূল্যহীন কাগজের টুকরোয়।

এ ঘটনায় পরিবারটির মধ্যে নেমে এসেছে শোক ও হতাশা। শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে তারা এখন কীভাবে সংসার চালাবেন এবং ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত তোফাজ্জল হোসেন ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমের করুণ আহাজারিতে স্থানীয়দের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে সহমর্মিতা। তাদের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় এভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি বর্তমানে আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে।

স্থানীয়রা রানা মিয়াসহ অনেকে জানান, কষ্ট করে উপার্জন করা অর্থ দীর্ঘদিন ঘরে সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনা না থাকলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

দীর্ঘ ১০-১২ বছরের শ্রমে তিলে তিলে গড়ে তোলা সঞ্চয় হারিয়ে তিন কন্যাসন্তানের তোফাজ্জল-ফাতেমা দম্পতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সঞ্চয়ের ২ লাখ টাকা উইপোকার পেটে: নিঃস্ব দম্পতি

Update Time : ১১:৩৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের ২ লাখ টাকা উইপোকা কেটে টুকরো-টুকরো করে ফেলায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে এক দম্পতি। শেষ সম্বল হারিয়ে পরিবারটিতে নেমে এসেছে চরম হতাশা। সঞ্চয়ের টাকা হারিয়ে চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছেন তারা।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের দক্ষিণ ধুমাইটারী গ্রামে। ক্ষতিগ্রস্ত দম্পতি হলেন ওই গ্রামের মৃত জহির উদ্দিনের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, তোফাজ্জল হোসেন ও তার স্ত্রী দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে ঢাকায় বসবাস করছেন। তোফাজ্জল হোসেন রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমও ঢাকায় একটি বাসা-বাড়িতে কাজ করতেন। সংসারের খরচ মিটিয়ে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই অল্প অল্প করে টাকা সঞ্চয় করতেন। বৃদ্ধ বয়সে যেন কারও ওপর নির্ভর করতে না হয় এবং ভবিষ্যতে কিছুটা স্বচ্ছলভাবে জীবন কাটাতে পারেন, এই আশায় দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট করে প্রায় ২ লাখ টাকা জমিয়েছিলেন তারা। সঞ্চয়ের সেই টাকা একটি বাক্সে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। সম্প্রতি ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে এসে জমি বন্ধক নেওয়ার পরিকল্পনা করেন তোফাজ্জল হোসেন ও ফাতেমা বেগম। এ সময় সঞ্চয়ের বাক্সটি খুলে টাকা বের করতে গিয়ে তাদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। দেখতে পান, বাক্সে রাখা প্রায় ২ লাখ টাকার নোটই উইপোকা কেটে টুকরো-টুকরো করে ফেলেছে। দীর্ঘদিনের কষ্ট ও শ্রমে
জমানো অর্থ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে মূল্যহীন কাগজের টুকরোয়।

এ ঘটনায় পরিবারটির মধ্যে নেমে এসেছে শোক ও হতাশা। শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে তারা এখন কীভাবে সংসার চালাবেন এবং ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত তোফাজ্জল হোসেন ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমের করুণ আহাজারিতে স্থানীয়দের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে সহমর্মিতা। তাদের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় এভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি বর্তমানে আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে।

স্থানীয়রা রানা মিয়াসহ অনেকে জানান, কষ্ট করে উপার্জন করা অর্থ দীর্ঘদিন ঘরে সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনা না থাকলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

দীর্ঘ ১০-১২ বছরের শ্রমে তিলে তিলে গড়ে তোলা সঞ্চয় হারিয়ে তিন কন্যাসন্তানের তোফাজ্জল-ফাতেমা দম্পতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।