
কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার তিনটি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে টানা ভারী বর্ষণের ফলে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে মাটিচাপা পড়ে ৫ শিশু ও ৩ নারী-পুরুষসহ মোট ৮ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
গত রবিবার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা থেকে সোমবার (৬ জুলাই) ভোররাতের মধ্যে উখিয়ার ১৫ নম্বর জামতলী, ৭ নম্বর কুতুপালং এবং ১১ নম্বর বালুখালী ক্যাম্পে এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
ক্যাম্প প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটে উখিয়ার ১১ নম্বর বালুখালী ক্যাম্পের সি-১১ ব্লকে। সেখানে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে একটি বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে একই পরিবারের চারজন নিহত হন। নিহতরা হলেন—উম্মে হাবিবা (২৭), তাঁর বোন তানজিনা আক্তার (১৩), উম্মে হাবিবার ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং হারুনুর রশিদ (৩)।
এর আগে রাত ১টার দিকে ১৫ নম্বর জামতলী ক্যাম্পের ডি-৬ ব্লকে পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন—মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তাঁর স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাঁদের ৪ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস। এছাড়া রাত ২টার দিকে ৭ নম্বর কুতুপালং ক্যাম্পের ডি-৭ ব্লকে পাহাড়ধসে একরাম (৭) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মী, এপিবিএন সদস্য, ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। কাদা ও মাটি সরিয়ে পৃথক তিনটি স্থান থেকে আটজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা প্রায় এক হাজার রোহিঙ্গাকে ইতোমধ্যে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে লোকজনকে সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর এই সতর্কবার্তা ও উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্র প্রভাবের কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলাটিতে ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী আরও দু-একদিন এই ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে, যার ফলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Reporter Name 






















