Dhaka ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বুড়াইল নদীর বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকি নিয়ে হাজারো মানুষের চলাচল: স্থায়ী সেতুর দাবি ভুক্তভোগীদের সুন্দরগঞ্জে কুকুরের কামড়ে নিহত ৫ ব্যক্তির পরিবারকে জেলা পরিষদের আর্থিক সহায়তা ফুলছড়িতে কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে জেলা প্রশাসকের চাল বিতরণ নেইমারের ব্রাজিল দলে প্রত্যাবর্তন, আবেগঘন খোলা চিঠি বাবার সাপাহারে দিনব্যাপী ইমাম প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ: ঠাকুরগাঁওয়ের বীরগড়কে হারিয়ে কুড়িগ্রামের চিলমারী চ্যাম্পিয়ন বদলগাছীতে সড়ক দূর্ঘটনায় শিক্ষকের প্রাণহানি! খবর শুনে হার্ট অ্যাটাকে ছাত্রীর মৃত্যু নারীবান্ধব ও উন্নয়নমুখী বাজেটের দাবি নাগরিক কমিটির সাদুল্লাপুরে ভূমিসেবা মেলা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক পঞ্চগড়ে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বায়োপেস্টিসাইড ব্যবহার বিষয়ক কৃষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

গাইবান্ধায় টর্নেডোয় ৪ গ্রাম লণ্ডভণ্ড, আহত ১০, গৃহহীন দুই শতাধিক পরিবার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • ২০১ Time View

আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা:

গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার চরাঞ্চলে আজ ভোররাতে আঘাত হানা আকস্মিক টর্নেডোর তাণ্ডবে ৪টি গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। মাত্র ৫ মিনিটের এই প্রলয়ংকরী ঝড়ে দুই উপজেলার অন্তত দুই শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ও আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ের সময় ঘরচাপা পড়ে এবং উড়ে আসা টিনের আঘাতে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০ জন। ঘরবাড়ি হারিয়ে বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে পশ্চিম দিক থেকে হঠাৎ তীব্র বেগে কালবৈশাখী ঝড় ও টর্নেডো ধেয়ে আসে। মাত্র ৫ মিনিট স্থায়ী এই ঝড়ে ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের চৌমোহন ও চর কাউয়াবাঁধা গ্রাম, এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের বুলবুলির চর (আংশিক) এবং সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের খারজানি চরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বাতাসের তীব্রতায় শতশত কাঁচা ও টিনের ঘরবাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ে।

ক্ষতিগ্রস্ত ফুলছড়ির গুপ্তমনি চরের বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন জানান, “ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পশ্চিম দিক থেকে প্রচণ্ড বেগে বাতাস শুরু হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাত্র ৫ মিনিটের ঝড়ে গ্রামের ঘরবাড়ি তছনছ হয়ে যায়।”

একই এলাকার বাসিন্দা তোফাজ্জল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, “ঝড়ে ঘরের চাল উড়িয়ে নিয়ে বহু দূরে ফেলেছে। এখন থাকার মতো কোনো জায়গা নেই। ঘরের আসবাবপত্র ও খাবার সব নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে আছি।”

আকস্মিক এই দুর্যোগে চরের শতাধিক ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং আরও শতাধিক ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিবারগুলো তীব্র সংকটে পড়েছে। জরুরি ভিত্তিতে দুর্গতদের জন্য খাদ্য, নিরাপদ পানি ও আশ্রয়ের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কামারজানি ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আসাদুজ্জামান জানান, ঝড়ে অনেক ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বিষয়টি ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের (জিইউকে) নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস সালাম জানান, সংস্থাটির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে মানবিক সহায়তা প্রদানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চরাঞ্চলে ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি প্রশাসন অবগত রয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বুড়াইল নদীর বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকি নিয়ে হাজারো মানুষের চলাচল: স্থায়ী সেতুর দাবি ভুক্তভোগীদের

গাইবান্ধায় টর্নেডোয় ৪ গ্রাম লণ্ডভণ্ড, আহত ১০, গৃহহীন দুই শতাধিক পরিবার

Update Time : ০২:২৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা:

গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার চরাঞ্চলে আজ ভোররাতে আঘাত হানা আকস্মিক টর্নেডোর তাণ্ডবে ৪টি গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। মাত্র ৫ মিনিটের এই প্রলয়ংকরী ঝড়ে দুই উপজেলার অন্তত দুই শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ও আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ের সময় ঘরচাপা পড়ে এবং উড়ে আসা টিনের আঘাতে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০ জন। ঘরবাড়ি হারিয়ে বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে পশ্চিম দিক থেকে হঠাৎ তীব্র বেগে কালবৈশাখী ঝড় ও টর্নেডো ধেয়ে আসে। মাত্র ৫ মিনিট স্থায়ী এই ঝড়ে ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের চৌমোহন ও চর কাউয়াবাঁধা গ্রাম, এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের বুলবুলির চর (আংশিক) এবং সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের খারজানি চরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বাতাসের তীব্রতায় শতশত কাঁচা ও টিনের ঘরবাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ে।

ক্ষতিগ্রস্ত ফুলছড়ির গুপ্তমনি চরের বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন জানান, “ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পশ্চিম দিক থেকে প্রচণ্ড বেগে বাতাস শুরু হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাত্র ৫ মিনিটের ঝড়ে গ্রামের ঘরবাড়ি তছনছ হয়ে যায়।”

একই এলাকার বাসিন্দা তোফাজ্জল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, “ঝড়ে ঘরের চাল উড়িয়ে নিয়ে বহু দূরে ফেলেছে। এখন থাকার মতো কোনো জায়গা নেই। ঘরের আসবাবপত্র ও খাবার সব নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে আছি।”

আকস্মিক এই দুর্যোগে চরের শতাধিক ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং আরও শতাধিক ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিবারগুলো তীব্র সংকটে পড়েছে। জরুরি ভিত্তিতে দুর্গতদের জন্য খাদ্য, নিরাপদ পানি ও আশ্রয়ের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কামারজানি ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আসাদুজ্জামান জানান, ঝড়ে অনেক ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বিষয়টি ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের (জিইউকে) নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস সালাম জানান, সংস্থাটির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে মানবিক সহায়তা প্রদানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চরাঞ্চলে ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি প্রশাসন অবগত রয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।