Dhaka ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ইমদাদুল হক মিলনকে পেয়ে উচ্ছ্বাসে মাতলো একঝাঁক শিশু-কিশোর নলকূপ আছে, পানি নেই দ্বন্দ্বে বিপর্যস্ত নওগাঁর হাজারো কৃষক ব্রহ্মপুত্র নদের তীর রক্ষা বাঁধের ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি সাঘাটা উপজেলা বিএনপি’র সাথে এমপি মমতাজের মতবিনিময় সভা পাকিস্তানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: শতাধিক প্রাণহানি, ভারী বৃষ্টির সতর্কতা নিষিদ্ধ নেইমার: গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে ছাড়াই মাঠে নামছে সান্তোস পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধি: ধর্মীয় স্থাপনায় হামলায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ, শান্তির আহ্বান গাইবান্ধায় সাবেক সেনা সদস্যের সংবাদ সম্মেলন: জমি বিক্রি ও স্ত্রীর অপপ্রচারের প্রতিবাদ আজ কিংবদন্তি লোকসংগীত শিল্পী আবদুল আলীমের জন্মদিন ইরাকে থাকা মার্কিন ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি ইরানের

জমি নিয়ে বিরোধ: সুন্দরগঞ্জে যাতায়াতের পথ বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে ৩০ পরিবার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৪৬:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬০ Time View

সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে যাতায়াতের রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের পূর্ব সোনারায় গ্রামের অন্তত ৩০টি পরিবারের প্রায় দুই শতাধিক মানুষ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় পরিত্রাণ চেয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মফিজল হক (৪৫)।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মফিজল হকের বসতবাড়ির পশ্চিম পাশ দিয়ে যাওয়া রাস্তাটি ব্যবহার করে আশপাশের ৩০-৩৫টি পরিবারের প্রায় দেড়শ থেকে দুইশ মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। প্রতিবেশী একটি পক্ষের সঙ্গে তাদের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে ২০১০ সালে মফিজলের পিতা বাদী হয়ে একটি মামলা (জিআর নং-৫১৬/২০১০) দায়ের করেন। ওই মামলায় আসামিদের সাজাও হয়। সম্প্রতি তারা জামিনে বের হয়ে এসে পুনরায় ভুক্তভোগীদের ওপর ক্ষুব্ধ আচরণ শুরু করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্ত আবুল কাশেম, সাজা মিয়া, মনজু মিয়া, আবদুল গনি, উজ্জল মিয়া, অবিজল মিয়া ও রবিউল ইসলামসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বসতবাড়ির উত্তর পাশের সীমানায় বাঁশের খুঁটি ও বেড়া দিয়ে রাস্তাটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। এ সময় স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাদের মারধরের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ ওই রাস্তায় বাঁশ ও কঞ্চি দিয়ে শক্ত করে বেড়া দেওয়া হয়েছে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার অন্যান্য ছোট পথগুলোতেও সৃষ্টি করা হয়েছে প্রতিবন্ধকতা। সব মিলিয়ে ৪টি বেড়া দেখা গেছে। এতে চরম আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর নারী, পুরুষ ও শিশুরা। বাড়ি থেকে বের হতে না পারায় শ্রমজীবীরা কাজে যেতে পারছেন না, শিক্ষার্থীদের স্কুল ও কৃষকদের মাঠে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। অসুস্থদের হাসপাতালেও নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

ভুক্তভোগী বৃদ্ধ ছলে হক শেখ (৭৮) বলেন, ‘এই রাস্তা ব্রিটিশ আমল থেকে। আমার বাপ-দাদার চৌদ্দ গোষ্ঠী এই পথে হেঁটেছে। কাশেমের সাথে জমি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে মামলার আসামিদের দিয়ে আমাদের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন তারা আমাদের কোনো দিকেই বের হতে দিচ্ছে না। ছেলেমেয়েদের স্কুল বন্ধ, গরু-ছাগল নিয়েও বের হওয়া যাচ্ছে না।’

আরেক ভুক্তভোগী খতেজা বেগম (৩৬) বলেন, ‘আমাদের রাস্তাঘাট সব বন্ধ করে দিয়েছে। হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল না খেয়ে আছে। বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারছে না। তারা আমাদের জব্দ করে রেখেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রোজিনা বেগম (৫৫) বলেন, ‘আমার এক ছেলে অটো চালায়, আরেকজন কৃষিকাজ করে। আমাদের বাড়ি থেকে বের হতে দেয় না, উল্টো লাঠিসোঁটা নিয়ে মারতে আসে এবং খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করে। সকালে বেড়া দেবে শুনে আমার ছেলে না খেয়েই ভোরে অটো নিয়ে বেরিয়ে গেছে। বিকেলে হাটবাজার করতে হবে, নইলে আমরা খাব কী!’

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম আক্তার জানায়, সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় রাস্তায় বাঁশের বেড়া দেখে তারা আর স্কুলে যেতে পারেনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনজু মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাঁশের বেড়া দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘তারা ১০-১২ বছর ধরে মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করছে। কয়েকদিন হলো জেল থেকে এসেছি, তাই মনমানসিকতা ভালো নেই। এরপরও তারা আমাদের অহেতুক গালিগালাজ করে, সে কারণেই বেড়া দিয়েছি। তবে তারা আমাদের সাথে ভালো ব্যবহার করলে বিষয়টি ভেবে দেখা হবে।’

সার্বিক বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ জানান, থানায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ এ বিষয়ে তৎপর রয়েছে। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ইমদাদুল হক মিলনকে পেয়ে উচ্ছ্বাসে মাতলো একঝাঁক শিশু-কিশোর

জমি নিয়ে বিরোধ: সুন্দরগঞ্জে যাতায়াতের পথ বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে ৩০ পরিবার

Update Time : ০৯:৪৬:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে যাতায়াতের রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের পূর্ব সোনারায় গ্রামের অন্তত ৩০টি পরিবারের প্রায় দুই শতাধিক মানুষ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় পরিত্রাণ চেয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মফিজল হক (৪৫)।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মফিজল হকের বসতবাড়ির পশ্চিম পাশ দিয়ে যাওয়া রাস্তাটি ব্যবহার করে আশপাশের ৩০-৩৫টি পরিবারের প্রায় দেড়শ থেকে দুইশ মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। প্রতিবেশী একটি পক্ষের সঙ্গে তাদের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে ২০১০ সালে মফিজলের পিতা বাদী হয়ে একটি মামলা (জিআর নং-৫১৬/২০১০) দায়ের করেন। ওই মামলায় আসামিদের সাজাও হয়। সম্প্রতি তারা জামিনে বের হয়ে এসে পুনরায় ভুক্তভোগীদের ওপর ক্ষুব্ধ আচরণ শুরু করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্ত আবুল কাশেম, সাজা মিয়া, মনজু মিয়া, আবদুল গনি, উজ্জল মিয়া, অবিজল মিয়া ও রবিউল ইসলামসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বসতবাড়ির উত্তর পাশের সীমানায় বাঁশের খুঁটি ও বেড়া দিয়ে রাস্তাটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। এ সময় স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাদের মারধরের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ ওই রাস্তায় বাঁশ ও কঞ্চি দিয়ে শক্ত করে বেড়া দেওয়া হয়েছে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার অন্যান্য ছোট পথগুলোতেও সৃষ্টি করা হয়েছে প্রতিবন্ধকতা। সব মিলিয়ে ৪টি বেড়া দেখা গেছে। এতে চরম আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর নারী, পুরুষ ও শিশুরা। বাড়ি থেকে বের হতে না পারায় শ্রমজীবীরা কাজে যেতে পারছেন না, শিক্ষার্থীদের স্কুল ও কৃষকদের মাঠে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। অসুস্থদের হাসপাতালেও নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

ভুক্তভোগী বৃদ্ধ ছলে হক শেখ (৭৮) বলেন, ‘এই রাস্তা ব্রিটিশ আমল থেকে। আমার বাপ-দাদার চৌদ্দ গোষ্ঠী এই পথে হেঁটেছে। কাশেমের সাথে জমি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে মামলার আসামিদের দিয়ে আমাদের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন তারা আমাদের কোনো দিকেই বের হতে দিচ্ছে না। ছেলেমেয়েদের স্কুল বন্ধ, গরু-ছাগল নিয়েও বের হওয়া যাচ্ছে না।’

আরেক ভুক্তভোগী খতেজা বেগম (৩৬) বলেন, ‘আমাদের রাস্তাঘাট সব বন্ধ করে দিয়েছে। হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল না খেয়ে আছে। বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারছে না। তারা আমাদের জব্দ করে রেখেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রোজিনা বেগম (৫৫) বলেন, ‘আমার এক ছেলে অটো চালায়, আরেকজন কৃষিকাজ করে। আমাদের বাড়ি থেকে বের হতে দেয় না, উল্টো লাঠিসোঁটা নিয়ে মারতে আসে এবং খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করে। সকালে বেড়া দেবে শুনে আমার ছেলে না খেয়েই ভোরে অটো নিয়ে বেরিয়ে গেছে। বিকেলে হাটবাজার করতে হবে, নইলে আমরা খাব কী!’

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম আক্তার জানায়, সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় রাস্তায় বাঁশের বেড়া দেখে তারা আর স্কুলে যেতে পারেনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনজু মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাঁশের বেড়া দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘তারা ১০-১২ বছর ধরে মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করছে। কয়েকদিন হলো জেল থেকে এসেছি, তাই মনমানসিকতা ভালো নেই। এরপরও তারা আমাদের অহেতুক গালিগালাজ করে, সে কারণেই বেড়া দিয়েছি। তবে তারা আমাদের সাথে ভালো ব্যবহার করলে বিষয়টি ভেবে দেখা হবে।’

সার্বিক বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ জানান, থানায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ এ বিষয়ে তৎপর রয়েছে। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।