Dhaka ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গণমাধ্যমের অন্দরমহলে নিঃশব্দ মৃত্যুমিছিল:কাল হয়তো আমরা কেউ… ব্যবসায়ীর মুখোশে ভয়ংকর প্রতারণা: হাতিয়েছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার দেড় লক্ষ টাকা স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু নভেম্বরের মাঝামাঝিতে খাটের নিচে লুকোচুরি: মামী-ভাগ্নের কাণ্ডে পলাশবাড়িতে তুলকালাম মেসির উদাহরণ টেনে ইয়ামালকে সতর্ক করলেন সাবেক বার্সা তারকা তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে প্রবাসীদের ব্যাপক প্রস্তুতি রুশ ড্রোনের নিশানায় সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক সিআইএ প্রধান ? ৫ কোটি টাকার পানি শোধনাগার দুই বছরেও চালু হয়নি , ১৫ দিনের মধ্যে চালুর আল্টিমেটাম সার্ভার হ্যাক করে এনআইডি-সিডিআরসহ গোপন তথ্য সরবরাহ; যুবক গ্রেপ্তার জাভা সাগরে উল্টে গেল যাত্রীবাহী জাহাজ, ৬ জনের মৃত্যু—নিখোঁজ ১৩০

জাহাজভাঙা কারখানায় নিহত গাইবান্ধার খোকন: শেষ দেখার সুযোগ পাননি স্ত্রী, শিশু সন্তান নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৯০ Time View

স্টাফ রিপোর্টার: ট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে নিহত গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের শ্রমিক খোকন মিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তবে স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েও শেষবারের মতো তাঁর মুখ দেখতে পারেননি স্ত্রী শাপলা বেগম। দেড় বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে স্বামীর মৃত্যুতে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন তিনি।

গত শুক্রবার (১৪ আগষ্ট) সকাল ৯টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকায় ‘ফেরদৌস স্টিল’ নামের একটি জাহাজভাঙা কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, স্ক্র্যাপ জাহাজের একটি গ্যাস সিলিন্ডার কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে খোকনসহ কয়েকজন শ্রমিক হতাহত হন। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৯ জন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

নিহত খোকন মিয়া গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের কিসমত হলদিয়া গ্রামের মো. রানা মিয়ার ছেলে। শনিবার সকালে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। দুপুর ১২টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে নামাজে জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়।
তবে দাফনের আগে স্বামীকে শেষবার দেখতে না পারায় কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী শাপলা বেগম। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার সময় তিনি বাবার বাড়িতে ছিলেন। প্রথম দিকে স্বামীর মৃত্যুর খবর তাঁকে জানানো হয়নি। পরে খবর পেয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু পথে জানতে পারেন, মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই দাফন সম্পন্ন হয়।

শাপলার অভিযোগ, তাঁর দেড় বছরের শিশুসন্তানকেও বাবার শেষ চেহারা দেখার সুযোগ দেওয়া হয়নি। স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে তাঁকে ও তাঁর সন্তানকে অস্বীকার করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

খোকন ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও ছোট শিশুসন্তানকে নিয়ে তাঁর সংসার চলত। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে শাপলা বেগম বলেন, ‘এই ছোট বাচ্চাটাকে নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব? আমার আর কোনো চলার পথ নেই। সরকার ও কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে আমার আকুল আবেদন, আমার ও আমার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হোক।’

এদিকে, দুর্ঘটনার পেছনে কারখানা কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে নিহত খোকন মিয়ার স্ত্রী ও শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কারখানা কর্তৃপক্ষ ও সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গণমাধ্যমের অন্দরমহলে নিঃশব্দ মৃত্যুমিছিল:কাল হয়তো আমরা কেউ…

জাহাজভাঙা কারখানায় নিহত গাইবান্ধার খোকন: শেষ দেখার সুযোগ পাননি স্ত্রী, শিশু সন্তান নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

Update Time : ১১:৫৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: ট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে নিহত গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের শ্রমিক খোকন মিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তবে স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েও শেষবারের মতো তাঁর মুখ দেখতে পারেননি স্ত্রী শাপলা বেগম। দেড় বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে স্বামীর মৃত্যুতে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন তিনি।

গত শুক্রবার (১৪ আগষ্ট) সকাল ৯টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকায় ‘ফেরদৌস স্টিল’ নামের একটি জাহাজভাঙা কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, স্ক্র্যাপ জাহাজের একটি গ্যাস সিলিন্ডার কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে খোকনসহ কয়েকজন শ্রমিক হতাহত হন। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৯ জন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

নিহত খোকন মিয়া গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের কিসমত হলদিয়া গ্রামের মো. রানা মিয়ার ছেলে। শনিবার সকালে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। দুপুর ১২টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে নামাজে জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়।
তবে দাফনের আগে স্বামীকে শেষবার দেখতে না পারায় কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী শাপলা বেগম। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার সময় তিনি বাবার বাড়িতে ছিলেন। প্রথম দিকে স্বামীর মৃত্যুর খবর তাঁকে জানানো হয়নি। পরে খবর পেয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু পথে জানতে পারেন, মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই দাফন সম্পন্ন হয়।

শাপলার অভিযোগ, তাঁর দেড় বছরের শিশুসন্তানকেও বাবার শেষ চেহারা দেখার সুযোগ দেওয়া হয়নি। স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে তাঁকে ও তাঁর সন্তানকে অস্বীকার করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

খোকন ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও ছোট শিশুসন্তানকে নিয়ে তাঁর সংসার চলত। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে শাপলা বেগম বলেন, ‘এই ছোট বাচ্চাটাকে নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব? আমার আর কোনো চলার পথ নেই। সরকার ও কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে আমার আকুল আবেদন, আমার ও আমার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হোক।’

এদিকে, দুর্ঘটনার পেছনে কারখানা কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে নিহত খোকন মিয়ার স্ত্রী ও শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কারখানা কর্তৃপক্ষ ও সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।