
সফিকুল আলম দোলন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
নীল আকাশের বুক চিরে জেগে উঠেছে বরফে ঢাকা হিমালয়ের শুভ্র চূড়া। শরৎ বিদায় নিয়ে প্রকৃতিতে এখন হেমন্তের আগমনী সুর। মেঘমুক্ত স্বচ্ছ আকাশে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে আবারও খালি চোখে দেখা মিলছে পৃথিবীর তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার। প্রকৃতির ক্যানভাসে আঁকা এই স্বপ্নময় দৃশ্য দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীরা। অনেকে খালি চোখেই উপভোগ করছেন এই রূপ, আবার কেউ কেউ ক্যামেরাবন্দী করে ছড়িয়ে দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
তেঁতুলিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আকাশ মেঘমুক্ত থাকায় কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া বেশ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। এটি পর্যটকদের জন্য দারুণ এক পাওয়া। হিমালয়ের এমন সৌন্দর্য দেখতে অনেকেই পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে ভারত বা নেপালে যান; অথচ কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই তেঁতুলিয়ায় দাঁড়িয়ে খালি চোখে এই অপার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।”
তেঁতুলিয়া জেলা পরিষদের ঐতিহাসিক ডাকবাংলোর পিকনিক কর্নার, মহানন্দার তীরসহ বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থান থেকেই সবচেয়ে সুন্দরভাবে কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হয়। স্থানীয়রা জানান, অনুকূল আবহাওয়া থাকলে প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকেই মাঝে মাঝে কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মেলে। তবে অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আকাশ সবচেয়ে পরিষ্কার থাকায় প্রায় প্রতিদিনই কাঞ্চনজঙ্ঘার তুষারশুভ্র রূপ এবং রাতে দূরের দার্জিলিং পাহাড়ের আলোর রোশনাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ভারতের সীমান্তঘেঁষা তেঁতুলিয়া ভৌগোলিকভাবে হিমালয় পর্বতমালার বেশ কাছাকাছি অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮ হাজার ৫৮৬ মিটার (২৮,১৬৯ ফুট) উঁচু এই পর্বতশৃঙ্গটি নেপাল ও ভারতের সিকিম সীমান্তে অবস্থিত। মাউন্ট এভারেস্ট ও কে-টুর পর এটি বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ চূড়া।
ভৌগোলিক নৈকট্য আর হেমন্তের স্নিগ্ধ আবহে কাঞ্চনজঙ্ঘার এমন দৃশ্য পঞ্চগড়কে রূপ দিয়েছে পর্যটনের এক অনন্য আকর্ষণীয় কেন্দ্রে। দূর দিগন্তে বরফঢাকা চূড়ার উঁকিঝুঁকি আর সোনালি রোদের খেলা দেখতে এখন দেশের নানা প্রান্তের পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে উত্তরের এই সীমান্ত জনপদ।

Reporter Name 



















