Dhaka ১০:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কৃষকের সন্তান থেকে চিকিৎসক হওয়ার পথে শাকিল শনিবার দেশে ফিরছে ৫ প্রবাসীর লাশ, শোকের মাঝেও ঋণের চাপ সাঘাটায় অবৈধ বালু মজুদে জরিমানা করায় এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ সাঘাটায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে সহস্রাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ সুন্দরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১৬ বামনডাঙ্গা জনতা ব্যাংকে প্রকাশ্যে ঋণ বিতরণ গাইবান্ধায় টেলিভিশন রিপোর্টিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গোবিন্দগঞ্জে বর্ণাঢ্য র‌্যালি  ভাড়া বাসায় জাল টাকার কারবার, ডিবির জালে জব্বার সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ

নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭৭, নিখোঁজ ৮ শতাধিক

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:১৭:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮৮ Time View

ডেস্ক রিপোর্ট: নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবারও দুর্গত এলাকায় ব্যাপক উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান চলছে। নেপালের সরকারি হিসাবে এখনো ৮ শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকশ বিদেশি পর্যটক রয়েছেন।

নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ১৭৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্গতদের খোঁজে নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। দুর্গম এলাকা ও বিপুল কাদা-পলির কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে ভারতীয় নাগরিকদের হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মোট ৮২৬ জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে প্রায় ৫৯০ জন পর্যটক। নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে ১৭৭ জন ভারতীয়, ৬৩ জন মার্কিন, ৫৩ জন ইউক্রেনীয়, ৩৪ জন অস্ট্রেলীয় এবং ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন। ফলে চার শতাধিক ভারতীয় নিহত হওয়ার যে তথ্য ছড়িয়েছে, তা এখন পর্যন্ত সরকারি বা নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সূত্র নিশ্চিত করেনি।

দুর্যোগের কারণ সম্পর্কেও নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। প্রথমদিকে ভূমিকম্পের কারণে বিপর্যয়টি ঘটেছে বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তী বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা USGS জানিয়েছে, ভূমিকম্প নয়—হিমবাহের একটি অংশ ধসে বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল প্রবাহ তৈরি হয়েছিল। সেটি লেন্ধে খোলা নদীতে নেমে সাময়িকভাবে পানিপ্রবাহ আটকে দেয় এবং পরে সেই বাধা ভেঙে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। বন্যায় সড়ক, সেতু, বসতবাড়ি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে অন্তত ৩৫টি যানবাহন চলাচলের সেতু, ৪৫টি ঝুলন্ত সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় নেপালকে সহায়তা করছে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা। হাজার হাজার সেনা ও পুলিশ সদস্য উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত রয়েছেন। হেলিকপ্টারে দুর্গত এলাকায় খাদ্য, তাঁবু ও জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, নিখোঁজদের অনুসন্ধান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কৃষকের সন্তান থেকে চিকিৎসক হওয়ার পথে শাকিল

নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭৭, নিখোঁজ ৮ শতাধিক

Update Time : ০৫:১৭:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবারও দুর্গত এলাকায় ব্যাপক উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান চলছে। নেপালের সরকারি হিসাবে এখনো ৮ শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকশ বিদেশি পর্যটক রয়েছেন।

নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ১৭৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্গতদের খোঁজে নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। দুর্গম এলাকা ও বিপুল কাদা-পলির কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে ভারতীয় নাগরিকদের হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মোট ৮২৬ জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে প্রায় ৫৯০ জন পর্যটক। নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে ১৭৭ জন ভারতীয়, ৬৩ জন মার্কিন, ৫৩ জন ইউক্রেনীয়, ৩৪ জন অস্ট্রেলীয় এবং ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন। ফলে চার শতাধিক ভারতীয় নিহত হওয়ার যে তথ্য ছড়িয়েছে, তা এখন পর্যন্ত সরকারি বা নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সূত্র নিশ্চিত করেনি।

দুর্যোগের কারণ সম্পর্কেও নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। প্রথমদিকে ভূমিকম্পের কারণে বিপর্যয়টি ঘটেছে বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তী বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা USGS জানিয়েছে, ভূমিকম্প নয়—হিমবাহের একটি অংশ ধসে বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল প্রবাহ তৈরি হয়েছিল। সেটি লেন্ধে খোলা নদীতে নেমে সাময়িকভাবে পানিপ্রবাহ আটকে দেয় এবং পরে সেই বাধা ভেঙে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। বন্যায় সড়ক, সেতু, বসতবাড়ি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে অন্তত ৩৫টি যানবাহন চলাচলের সেতু, ৪৫টি ঝুলন্ত সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় নেপালকে সহায়তা করছে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা। হাজার হাজার সেনা ও পুলিশ সদস্য উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত রয়েছেন। হেলিকপ্টারে দুর্গত এলাকায় খাদ্য, তাঁবু ও জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, নিখোঁজদের অনুসন্ধান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।