Dhaka ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গণমাধ্যমের অন্দরমহলে নিঃশব্দ মৃত্যুমিছিল:কাল হয়তো আমরা কেউ… ব্যবসায়ীর মুখোশে ভয়ংকর প্রতারণা: হাতিয়েছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার দেড় লক্ষ টাকা স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু নভেম্বরের মাঝামাঝিতে খাটের নিচে লুকোচুরি: মামী-ভাগ্নের কাণ্ডে পলাশবাড়িতে তুলকালাম মেসির উদাহরণ টেনে ইয়ামালকে সতর্ক করলেন সাবেক বার্সা তারকা তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে প্রবাসীদের ব্যাপক প্রস্তুতি রুশ ড্রোনের নিশানায় সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক সিআইএ প্রধান ? ৫ কোটি টাকার পানি শোধনাগার দুই বছরেও চালু হয়নি , ১৫ দিনের মধ্যে চালুর আল্টিমেটাম সার্ভার হ্যাক করে এনআইডি-সিডিআরসহ গোপন তথ্য সরবরাহ; যুবক গ্রেপ্তার জাভা সাগরে উল্টে গেল যাত্রীবাহী জাহাজ, ৬ জনের মৃত্যু—নিখোঁজ ১৩০

ব্ল্যাকহোল ক্লাবে যোগ না দেওয়ায় গুলি; কিশোরগ্যাংয়ের দুই সদস্য অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৪:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪৮ Time View
নওগাঁ প্রতিনিধি:  “ব্ল্যাকহোল ক্লাব” নামে তৈরি করা হয়েছিল কিশোর গ্যাং। সেই ক্লাবে কেউ যোগদান না করলে দেখানো হতো ভয়ভীতি, এমনকি করা হতো গুলি। সেই সাথে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ এবং মানুষকে মারধর করে আসছিল।
এমনইভাবে নিজেদেরকে কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে এলাকায় জানান দিচ্ছিল নওগাঁর মান্দা উপজেলার তুরুকবাড়িয়া এলাকার সন্ত্রাসী সুলতান ও পারভেজ। আর এভাবেই তারা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চেয়েছিল।
কিন্তু তাদের সেই আশায় গুঁড়ে বালি দিয়েছেন নওগাঁ জেলা পুলিশ। এলাকার সাফিয়াল যাবের নিরব নামে এক কিশোরকে হত্যার উদ্দেশ্যে ফায়ার করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সদ্য কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠা সন্ত্রাসী সুলতান ও পারভেজকে। সেই সাথে তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়অস্ত্রসহ নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
এর আগে সোমবার (৩১আগস্ট) রাতে পালিয়ে যাওয়ার সময় বগুড়ার শেরপুর এলাকায় হোটেল ফুড ভিলেজে ঢাকাগামী একতা বাস থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, মান্দা উপজেলার কসব ইউনিয়নের তুরুকবাড়িয়া এলাকার সন্ত্রাসী সুলতান ও পারভেজ বেশ  কিছুদিন যাবৎ এলাকায় “ব্ল্যাকহোল ক্লাব” নামে কিশোর গ্যাং তৈরি করেছিল। সেই ক্লাবের সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর জন্য তারা এলাকার স্থানীয় কিশোরদের ভয়ভীতি দেখাতো। এমনকি তাদের দলে যোগদান না করলে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ফায়ারিংও করতো। সেই সাথে তারা এলাকায় বিভিন্ন ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ এবং মানুষকে মারধর করে আসছিল।
এই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ আগষ্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে সুলতান এবং পারভেজ গং তুরুকবাড়িয়া এলাকার সাফিয়াল যাবের নিরবকে হত্যার উদ্দেশ্যে ফায়ার করে।
ঘটনার পর মান্দা থানা পুলিশ সেখান থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে। এবং তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ক্ষমতা জানান দিতে ২৬ তারিখ রাতেও তারা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পুনরায় ফায়ার করে। এ ঘটনায় মান্দা থানায় একটি মামলা হয়।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে মান্দা সার্কেল অফিসার এএসপি শাওনের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা, মান্দা ও রানীনগর থানার সমন্বয়ে একটি চৌকসদল গঠন করা হয়। এবং সন্ত্রাসীদের ডাটা বিশ্লেষণ করে সমন্বিতভাবে রানীনগর এবং আত্রাই  থানার সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, একসময় পুলিশ জানতে পারে যে সন্ত্রাসী পারভেজ এবং সুলতান ঢাকা পালিয়ে যাবে। এরপরিপ্রেক্ষিতে ত্রিমুখী অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সাথে তাদের গতিরোধ করার জন্য পার্শ্ববর্তী জেলার সাথে যোগাযোগ করা হয়।
তারই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার রাতে পুলিশের একটি বিশেষ টিম বগুড়া শেরপুর থানা এলাকার ফুড ভিলেজ হতে ঢাকাগামী একতা গাড়ি থেকে সন্ত্রাসী  সুলতান এবং পারভেজকে গ্রেপ্তার করে।
পরবর্তীতে সুলতান এবং পারভেজকে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয় এবং একইসাথে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তাদের নিকট অস্ত্র থাকার কথা তারা স্বীকার করে।
এসপি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত সুলতান এবং পারভেজকে নিয়ে একই দিন দিবাগত রাত দেড়টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাদের দেখানো মতে সুলতানের বাড়ির একটি কক্ষ থেকে একটি ওয়ান শুটার গান, একটি খেলনা পিস্তল এবং একটি ধারালো ডেগার, একটি সুইচ গিয়ার ঈগল চাকু, দুইটি পুরাতন চাকু, একটি খুর চাকু, তিনটি মোবাইল এবং নগদ ১৬ হাজার ৮৫০ টাকা জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা যায় সন্ত্রাসী সুলতান এবং পারভেজের বিরুদ্ধে মান্দা থানার বহুল আলোচিত চৌকিদারের ছেলের হত্যা মামলাসহ, সাইবার সুরক্ষা আইন ও মারামারিসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে। তারা হত্যা মামলায় দুজনে আট মাস জেলেও ছিল।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃত সুলতান এবং পারভেজ প্রায়ই মানুষকে আঘাত করার জন্য তাদের পকেটে সুইচ গিয়ার ঈগল চাকু রাখতো। দুই সন্ত্রাসীকে ধরতে পারায় মান্দার জনগণ জেলা পুলিশকে অভিনন্দন জানিয়েছে।
এসপি আরও বলেন, নওগাঁ জেলা পুলিশ পরিষ্কারভাবে বলতে চায়, এই জেলায় যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ জেলা পুলিশ আইন অনুযায়ী কঠোর হস্তে দমন করবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গণমাধ্যমের অন্দরমহলে নিঃশব্দ মৃত্যুমিছিল:কাল হয়তো আমরা কেউ…

ব্ল্যাকহোল ক্লাবে যোগ না দেওয়ায় গুলি; কিশোরগ্যাংয়ের দুই সদস্য অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার

Update Time : ১১:১৪:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নওগাঁ প্রতিনিধি:  “ব্ল্যাকহোল ক্লাব” নামে তৈরি করা হয়েছিল কিশোর গ্যাং। সেই ক্লাবে কেউ যোগদান না করলে দেখানো হতো ভয়ভীতি, এমনকি করা হতো গুলি। সেই সাথে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ এবং মানুষকে মারধর করে আসছিল।
এমনইভাবে নিজেদেরকে কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে এলাকায় জানান দিচ্ছিল নওগাঁর মান্দা উপজেলার তুরুকবাড়িয়া এলাকার সন্ত্রাসী সুলতান ও পারভেজ। আর এভাবেই তারা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চেয়েছিল।
কিন্তু তাদের সেই আশায় গুঁড়ে বালি দিয়েছেন নওগাঁ জেলা পুলিশ। এলাকার সাফিয়াল যাবের নিরব নামে এক কিশোরকে হত্যার উদ্দেশ্যে ফায়ার করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সদ্য কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠা সন্ত্রাসী সুলতান ও পারভেজকে। সেই সাথে তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়অস্ত্রসহ নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
এর আগে সোমবার (৩১আগস্ট) রাতে পালিয়ে যাওয়ার সময় বগুড়ার শেরপুর এলাকায় হোটেল ফুড ভিলেজে ঢাকাগামী একতা বাস থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, মান্দা উপজেলার কসব ইউনিয়নের তুরুকবাড়িয়া এলাকার সন্ত্রাসী সুলতান ও পারভেজ বেশ  কিছুদিন যাবৎ এলাকায় “ব্ল্যাকহোল ক্লাব” নামে কিশোর গ্যাং তৈরি করেছিল। সেই ক্লাবের সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর জন্য তারা এলাকার স্থানীয় কিশোরদের ভয়ভীতি দেখাতো। এমনকি তাদের দলে যোগদান না করলে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ফায়ারিংও করতো। সেই সাথে তারা এলাকায় বিভিন্ন ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ এবং মানুষকে মারধর করে আসছিল।
এই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ আগষ্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে সুলতান এবং পারভেজ গং তুরুকবাড়িয়া এলাকার সাফিয়াল যাবের নিরবকে হত্যার উদ্দেশ্যে ফায়ার করে।
ঘটনার পর মান্দা থানা পুলিশ সেখান থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে। এবং তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ক্ষমতা জানান দিতে ২৬ তারিখ রাতেও তারা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পুনরায় ফায়ার করে। এ ঘটনায় মান্দা থানায় একটি মামলা হয়।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে মান্দা সার্কেল অফিসার এএসপি শাওনের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা, মান্দা ও রানীনগর থানার সমন্বয়ে একটি চৌকসদল গঠন করা হয়। এবং সন্ত্রাসীদের ডাটা বিশ্লেষণ করে সমন্বিতভাবে রানীনগর এবং আত্রাই  থানার সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, একসময় পুলিশ জানতে পারে যে সন্ত্রাসী পারভেজ এবং সুলতান ঢাকা পালিয়ে যাবে। এরপরিপ্রেক্ষিতে ত্রিমুখী অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সাথে তাদের গতিরোধ করার জন্য পার্শ্ববর্তী জেলার সাথে যোগাযোগ করা হয়।
তারই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার রাতে পুলিশের একটি বিশেষ টিম বগুড়া শেরপুর থানা এলাকার ফুড ভিলেজ হতে ঢাকাগামী একতা গাড়ি থেকে সন্ত্রাসী  সুলতান এবং পারভেজকে গ্রেপ্তার করে।
পরবর্তীতে সুলতান এবং পারভেজকে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয় এবং একইসাথে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তাদের নিকট অস্ত্র থাকার কথা তারা স্বীকার করে।
এসপি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত সুলতান এবং পারভেজকে নিয়ে একই দিন দিবাগত রাত দেড়টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাদের দেখানো মতে সুলতানের বাড়ির একটি কক্ষ থেকে একটি ওয়ান শুটার গান, একটি খেলনা পিস্তল এবং একটি ধারালো ডেগার, একটি সুইচ গিয়ার ঈগল চাকু, দুইটি পুরাতন চাকু, একটি খুর চাকু, তিনটি মোবাইল এবং নগদ ১৬ হাজার ৮৫০ টাকা জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা যায় সন্ত্রাসী সুলতান এবং পারভেজের বিরুদ্ধে মান্দা থানার বহুল আলোচিত চৌকিদারের ছেলের হত্যা মামলাসহ, সাইবার সুরক্ষা আইন ও মারামারিসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে। তারা হত্যা মামলায় দুজনে আট মাস জেলেও ছিল।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃত সুলতান এবং পারভেজ প্রায়ই মানুষকে আঘাত করার জন্য তাদের পকেটে সুইচ গিয়ার ঈগল চাকু রাখতো। দুই সন্ত্রাসীকে ধরতে পারায় মান্দার জনগণ জেলা পুলিশকে অভিনন্দন জানিয়েছে।
এসপি আরও বলেন, নওগাঁ জেলা পুলিশ পরিষ্কারভাবে বলতে চায়, এই জেলায় যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ জেলা পুলিশ আইন অনুযায়ী কঠোর হস্তে দমন করবে।