
নিজস্ব প্রতিবেদক: যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে লাঠিসোঁটা ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনা গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার। শুধু মারধরই নয়, নির্যাতনের পর ওই গৃহবধূর কাছ থেকে জোরপূর্বক ১শ’ টাকার ৩টি নন-জুডিশিয়াল ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে এবং সন্তানদের আটকে রেখে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে গুরুতর আহত ওই গৃহবধূ গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর পিতা শ্রী পুলিন চন্দ্র বর্মন বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
প্রায় ১৫ বছর আগে সনাতন ধর্মের রীতিনীতি অনুযায়ী সুন্দরগঞ্জ থানার শ্রী প্রশান্ত কুমার (৪০)-এর সাথে পুলিন চন্দ্র বর্মনের কন্যা শ্রীমতি শিল্পী রানী (৩৪)-এর বিবাহ হয়। তাদের সংসারে ৩টি সন্তান রয়েছে। বিবাহের পর থেকেই ১ নম্বর আসামি প্রশান্ত কুমার অন্য আসামিদের প্ররোচনায় যৌতুকের দাবিতে প্রায়ই শিল্পী রানীকে মারপিট করত। এর আগে যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় আদালতে একটি মামলা (সি.আর-৭৯১/২০২৫) দায়ের করা হলে, বিজ্ঞ আদালত গত ৫ জুলাই আসামিকে তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঘর সংসার করার নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশ মোতাবেক শিল্পী রানী সন্তানদের নিয়ে স্বামীর বাড়ি ফিরে যান। কিন্তু বাড়ি ফেরার মাত্র কয়েকদিনের মাথায়, গত ১১ জুলাই তারিখ বিকেল ৫টার দিকে স্বামী প্রশান্ত কুমার ও অন্য আসামিরা পুনরায় তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পিতার বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা এনে দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামীসহ অপর আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠিসোঁটা ও লোহার রড দিয়ে শিল্পী রানীকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে তার সারা শরীরে কালশিরা পড়ে এবং কোমরে গুরুতর জখম হয়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা মারধর থামিয়ে ১শ’ টাকার ৩টি নন-জুডিশিয়াল ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। এরপর সন্তানদের আটকে রেখে শিল্পী রানীকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং যৌতুকের টাকা না আনলে খুন ও লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর বাবা ও স্থানীয় সাক্ষীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই গৃহবধূকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরদিন গত ১২ জুলাই তাকে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন।
বাদী পক্ষ এই বর্বরোচিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন। সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছে।

Reporter Name 
























