
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বরাদ্দ এবং ডিলার নিয়োগের কথিত ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ডিলার আব্দুর রাজ্জাক দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এই ঘটনা বর্তমানে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু হাসনাত মো. মিজানুর রহমানের কার্যালয়ে যান ডিলার আব্দুর রাজ্জাক। সেখানে ওএমএস ও টিসিবির চাল বিতরণ এবং ডিলারশিপের নিয়ম নিয়ে তাদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। অফিসের ভেতর হট্টগোল শুনে আশপাশের লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শী পারভীন আক্তার এগিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
জানা গেছে, দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নে টিসিবির সুবিধাভোগীদের জন্য দুইজন ডিলার রয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী এক মাস পর পর পালাক্রমে তাদের ওএমএস-এর চাল বিতরণ করার কথা। অভিযোগ রয়েছে, খাদ্য নিয়ন্ত্রক রহস্যজনক কারণে পালাবদল না করে প্রতি মাসেই একই ডিলারকে চাল বরাদ্দ দিচ্ছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আব্দুর রাজ্জাক তার প্রাপ্য অধিকার এবং ডিলার নিয়োগের সময় দেওয়া কথিত ঘুষের টাকা ফেরত চান। খাদ্য নিয়ন্ত্রক টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলে আব্দুর রাজ্জাক তার ওপর চড়াও হন।
অভিযুক্ত ডিলার ও যুবদল নেতা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী এক মাস পর পর দুইজন ডিলারের মধ্যে চাল বরাদ্দ হওয়ার কথা। কিন্তু খাদ্য নিয়ন্ত্রক আমাকে বাদ দিয়ে প্রতি মাসেই অন্য ডিলারকে চাল দিচ্ছেন। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি দুর্ব্যবহার করেন। আমি আমার পাওনা টাকা ফেরত চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন, যা নিয়ে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।”
মারধরের শিকার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু হাসনাত মো. মিজানুর রহমান আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে আমার কোনো আর্থিক লেনদেন নেই। সরকারি নিয়ম মেনেই এক মাসের চাল এক ডিলারকে দেওয়া হয়েছে এবং আগামী মাসে রাজ্জাক চাল পাবেন। বিষয়টি না বুঝেই তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছেন।”
এ বিষয়ে রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাওছার আলী বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি, তবে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলাউদ্দিন জানান, “খাদ্য নিয়ন্ত্রক যদি থানায় অভিযোগ করেন, তবে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। প্রশাসনিকভাবে এখানে আমার সরাসরি কিছু করার নেই।”

Reporter Name 
























