
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বৈশাখী টেলিভিশনের জেলা সংবাদদাতা আরমান হোসেন রুমন জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় সৃষ্ট জনদুর্ভোগের দায় এড়াতে পারে না পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ। এ সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাইলে উপ পরিচালক গোলাম আজম সাংবাদিক শফিক ছোটনের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন। খবর পেয়ে অন্য টেলিভিশন সাংবাদিকেরা সেখানে গেলে সবার সামনেই তাকে প্রকাশ্যে মামলার হুমকি দেন।
যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার শফিক ছোটন জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং চিকিৎসাসেবা পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দারা। প্রত্যন্ত ওই জনপদের কয়েক হাজার পরিবাবের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। সেই প্রশ্ন করলে উপ পরিচালক গোলাম মো. আজম আকস্মিক আমার উপর মারমুখী আচরণ করেন। তিনি অকথ্য ভাষায় আমার ভিডিও জার্নালিস্টকে গালিগালাজ করেছেন। পরে সহকর্মীদের ঘটনাস্থলে ডেকে নিয়ে পুনরায় দেখা করলে তিনি আমাকে মামলার হুমকি দিয়েছেন।
এনটিভির সিনিয়র রিপোর্টার আসাদুর রহমান জয় বলেন, ছোটনের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ হচ্ছে এমন খবর পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক সেখানে গিয়েছিলাম। ওই কর্মকর্তা যেভাবে প্রকাশ্যে হুমকি-ধামকি দিলেন, তার আচরণ কোনোভাবেই স্বাভাবিক মনে হয়নি। নিজের মধ্যে চেপে রাখা অন্য কারোর উপরের ক্ষোভ তিনি সাংবাদিকদের উপর ঝাড়লেন বলে মনে হয়েছে। এমন কর্মকর্তা শান্তিপ্রিয় জেলা নওগাঁর জন্য সঠিক নয়।
নওগাঁ জেলা টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফরিদুল করিম জানান, জনগণের স্বার্থে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। অবিলম্বে এই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা না হলে কর্মসূচি গ্রহন করবে টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ পরিচালক গোলাম মো. আজম জানান, তিনি (যমুনা টিভির ভিডিও জার্নালিস্ট) অনুমতি ছাড়াই ক্যামেরা বের করেছিলেন। ওই সময়ে একটু উচ্চ স্বরে কথা বলেছি। তবে মারমুখী আচরণ করা হয়নি। ক্যামেরায় কথা বলার ক্ষেত্রে আমাদের বিধিনিষেধ আছে। মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করেন তিনি।

Reporter Name 



















