
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩২ বছর আগে কেনা পুরোনো এক্স-রে মেশিন দিয়েই চলছে চিকিৎসাসেবা। ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে এসেও পুরোনো আমলের এই মেশিনে এক্স-রে করতে না পেরে রোগী ও রোগীর স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে না পেরে অনেক রোগীকে বাড়তি টাকা খরচ করে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এক্স-রে করাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এক্স-রে করতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো এক্স-রে মেশিনে পরীক্ষা করা সম্ভব না হওয়ায় অনেক রোগীকে সরকারি হাসপাতালের নির্ধারিত ফির চেয়ে বাড়তি টাকা খরচ করে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক্স-রে করিয়ে রিপোর্ট নিয়ে পুনরায় চিকিৎসকের কাছে যেতে হচ্ছে।
এতে নিম্নআয়ের রোগী ও তাদের পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে অতিরিক্ত সময় লাগায় জরুরি রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রমেও সময়ক্ষেপণ হচ্ছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে কথা হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (এক্স-রে) শমশের আলী জানান, দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন থাকলেও ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৯৯৪ সালে কেনা প্রায় ৩২ বছর পুরোনো মেশিন দিয়েই সেবা দিতে হচ্ছে। পুরোনো এই মেশিন দিয়ে বর্তমানে শুধু হাত ও পায়ের এক্স-রে করা সম্ভব।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য ছিল ভিন্ন। তার দাবি, হাত-পায়ের পাশাপাশি বুকের এক্স-রে করা যায়। তবে যক্ষ্মার ক্ষেত্রে বাইরে থেকে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
একদিকে ৩২ বছরের পুরোনো মেশিন, অন্যদিকে একই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা নিয়ে কর্তৃপক্ষ ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টের এমন ভিন্ন তথ্যে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। কোন ধরনের এক্স-রে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করা সম্ভব এবং কোনটি সম্ভব নয়—এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য না পাওয়ায় রোগীদের হয়রানি আরও বাড়ছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন।
চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী ও স্বজনরা বলছেন, একই প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাসেবা নিয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের তথ্যে যদি ভিন্নতা থাকে, তাহলে রোগীরা সঠিক তথ্য পাবেন কীভাবে? এ ধরনের পরিস্থিতি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ঘাটতি কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা আসমা বেগম (৪৫) বলেন, ডাক্তার তাকে এ হাসপাতালে বুকের এক্স-রে করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু এক্স-রে করাতে এসে তিনি জানতে পারেন, এই পুরোনো মেশিনে বুকের এক্স-রে হয় না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চিকিৎসা নিতে এসে এমন অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীন আচরণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
রোগী ও স্বজনদের দাবি, ৫০ শয্যার একটি হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো মেশিন দিয়ে সীমিত এক্স-রে সেবা চালিয়ে না রেখে দ্রুত আধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন স্থাপন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হাসপাতালে বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে রোগীদের নির্ভুল তথ্য ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ ব্যাপারে কথা হলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. প্রিয়াঙ্ক কুন্ডু বলেন, ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন স্থাপনের জন্য এ পর্যন্ত বহুবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আমি নিজে দায়িত্ব গ্রহণের পরও তিনি দুইবার লিখিতভাবে জানিয়েছি। এ ছাড়া মেডিকেল টেকনোলজিস্ট যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা পুরোপুরি সঠিক নয়।
তিনি আরও বলেন, বিষয়গুলো নিয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। তাছাড়া তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এরপরও তিনি ভুল তথ্য প্রদান ও সেবা প্রদানে গাফিলতি করেন তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Reporter Name 


















