Dhaka ০১:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সাঘাটায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বানে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ সাঘাটায় বিদেশে পাঠানোর নামে ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ! সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি লাওসে এশিয়া ন্যাশনাল ওয়াটার কনসালটেটিভ মিটিংয়ে এমপি মিলন নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার সবসময় থাকবে: এমপি মমতাজ আলো আড়াই বছর ধরে আটকে গাইবান্ধার ৯ সেতুর কাজ, ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কায় দুর্ভোগে মানুষ ধ্বংস আর মৃত্যুর মাঝেও ফুটবলকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াইয়ে ফিলিস্তিনিরা গাইবান্ধায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীল কর্মশালা অনুষ্ঠিত নিরাপদ নওগাঁ গঠনে শিক্ষার্থীদের সাথে র‍্যাবের মতবিনিময় সভা অভিভাবকের উদাসীনতাই তরুণ প্রজন্মের অবক্ষয়ের জন্য দায়ী? এবার সয়াবিন তেলে মিলল বিপুল পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক

চাকরি করেন টাঙ্গাইলে, বেতন তোলেন নওগাঁর রাণীনগরে 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:১০:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • ৪২ Time View
নওগাঁ প্রতিনিধি:
দাপ্তরিক কাজ না করেও নিয়মিত বেতন উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের পদে থাকা এক একাডেমিক সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে। শুধুমাত্র কাগজে কলমে সংশ্লিষ্ট অফিসের পদে বহাল থাকায় তিনি গত দুই বছর ধরে এই বেতন উত্তোলন করছেন।
অভিযোগ ওঠা ওই একাডেমিক সুপারভাইজারের নাম কামরুল হাসান। তাকে গত দুৃই বছর আগে টাঙ্গাইল জেলায় সংযুক্ত করা হয়। অথচ তিনি মাসের পর মাস রাণীনগর উপজেলা থেকে তুলছেন বেতন। আর এতে গুরুত্বপূর্ণ এই পদটির দাপ্তরিক কাজ নিয়ে দেখা দিয়েছে জটিলতা।
আবার পদটি বহাল থাকায় কাউকে নিয়োগ দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। তবে ইতিমধ্যে অফিসে পদটির দায়িত্বে থেকে কার্যক্রম সচল করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, কামরুল হাসান রাণীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে গত ২০১৫ সালের ১৫মে যোগদান করেন। পরবর্তী সময়ে তৎকালীন সরকারের স্থানীয় নেতাদের আস্থাভাজন হয়ে দীর্ঘ ১০বছর ধরে চাকরি করেন। কিন্তু ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর কোনো এক রহস্যজনক কারণে হয়ে যান লাপাত্তা। দেখা যায়নি উপজেলার দাপ্তরিক কোনো কাজে। তারপরও গত দু্ই বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক সুপারভাইজার পদটি দখলে রেখেছেন। টাঙ্গাইল জেলায় সংযুক্ত করা হলেও এখান থেকে উত্তোলন করছেন নিয়মিত বেতন-ভাতা।
সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে মতে, মাউশির ২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিল তারিখের এক অফিস আদেশে টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে সংযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে একই বছর ২৭ অক্টোবর আরেকটি আদেশে সেখান থেকে তাকে টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা অফিসে সংযুক্ত করা হয়। গত দুই বছর ধরে টাঙ্গাইল জেলায় চাকরি করলেও রাণীনগর উপজেলার পদ দখল করে নিয়ে আছেন এবং এখান থেকে নিয়মিত বেতন ভাতা উত্তোলন করেন। এতে করে উপজেলার একাডেমিক শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। অন্যদিকে পদটি শুন্য না হওয়া পর্যন্ত কাউকে নতুন করে পদায়ন বা নিয়োগ করা সম্ভব নয়।
রাণীনগর উপজেলা মাধমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী কাম ডাটা এট্রি অপারেটর ফারুক আহমেদ মোল্লা বলেন, আমাদের অফিসে বর্তমানে উর্দ্ধতন কর্মকর্তা বলতে কেউ নেই। উপজেলা মাধমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আছেন অতিরিক্ত দায়িত্বে, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা পদটি শুন্য। আর একাডেমিক সুপারভাইজার পদটি কাগজে কলমে থাকলে এখানে নেই কোনো কার্যক্রম। তিনি আছেন টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা অফিসে। আর এসব কারণে আমাদের খুব সমস্য হচ্ছে। অনেক সময় আমাদের বেতন তুলতেও কয়েকদিন চলে যায়। আর দাপ্তরিক কাজে অনেক হিমশিম খেতে হয়। তবে আশা করি খুব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে।
জানতে চাইলে টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা অফিসে সংযুক্ত করার বিষয়টি মুঠোফোনে নিশ্চিত করেন কামরুল হাসান। আর বেতন তোলার বিষয়ে তিনি বলেন, নিয়ম আছে বলেই বেতন তুলছি। তবে রাণীনগর উপজেলায় দাপ্তরিক কাজ কে করবে এমন প্রশ্নে তিনি অধিদপ্তরের সাথে কথা বলতে বলেন। এছাড়া একটা মিটিং আছেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে, সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল হাসান উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন, তদারকি, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও মনিটরিং সহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নিকট চিঠি পাঠিয়েছেন।
চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউএনও রাকিবুল হাসান। তিনি বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসের ওই পদটির কার্যক্রম সচল করে শিক্ষা কার্যক্রমে গতিশীল আনতে জরুরী ভিত্তিতে একাডেমিক সুপারভাইজার প্রয়োজন।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সাঘাটায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বানে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ

চাকরি করেন টাঙ্গাইলে, বেতন তোলেন নওগাঁর রাণীনগরে 

Update Time : ০৭:১০:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
নওগাঁ প্রতিনিধি:
দাপ্তরিক কাজ না করেও নিয়মিত বেতন উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের পদে থাকা এক একাডেমিক সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে। শুধুমাত্র কাগজে কলমে সংশ্লিষ্ট অফিসের পদে বহাল থাকায় তিনি গত দুই বছর ধরে এই বেতন উত্তোলন করছেন।
অভিযোগ ওঠা ওই একাডেমিক সুপারভাইজারের নাম কামরুল হাসান। তাকে গত দুৃই বছর আগে টাঙ্গাইল জেলায় সংযুক্ত করা হয়। অথচ তিনি মাসের পর মাস রাণীনগর উপজেলা থেকে তুলছেন বেতন। আর এতে গুরুত্বপূর্ণ এই পদটির দাপ্তরিক কাজ নিয়ে দেখা দিয়েছে জটিলতা।
আবার পদটি বহাল থাকায় কাউকে নিয়োগ দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। তবে ইতিমধ্যে অফিসে পদটির দায়িত্বে থেকে কার্যক্রম সচল করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, কামরুল হাসান রাণীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে গত ২০১৫ সালের ১৫মে যোগদান করেন। পরবর্তী সময়ে তৎকালীন সরকারের স্থানীয় নেতাদের আস্থাভাজন হয়ে দীর্ঘ ১০বছর ধরে চাকরি করেন। কিন্তু ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর কোনো এক রহস্যজনক কারণে হয়ে যান লাপাত্তা। দেখা যায়নি উপজেলার দাপ্তরিক কোনো কাজে। তারপরও গত দু্ই বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক সুপারভাইজার পদটি দখলে রেখেছেন। টাঙ্গাইল জেলায় সংযুক্ত করা হলেও এখান থেকে উত্তোলন করছেন নিয়মিত বেতন-ভাতা।
সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে মতে, মাউশির ২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিল তারিখের এক অফিস আদেশে টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে সংযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে একই বছর ২৭ অক্টোবর আরেকটি আদেশে সেখান থেকে তাকে টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা অফিসে সংযুক্ত করা হয়। গত দুই বছর ধরে টাঙ্গাইল জেলায় চাকরি করলেও রাণীনগর উপজেলার পদ দখল করে নিয়ে আছেন এবং এখান থেকে নিয়মিত বেতন ভাতা উত্তোলন করেন। এতে করে উপজেলার একাডেমিক শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। অন্যদিকে পদটি শুন্য না হওয়া পর্যন্ত কাউকে নতুন করে পদায়ন বা নিয়োগ করা সম্ভব নয়।
রাণীনগর উপজেলা মাধমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী কাম ডাটা এট্রি অপারেটর ফারুক আহমেদ মোল্লা বলেন, আমাদের অফিসে বর্তমানে উর্দ্ধতন কর্মকর্তা বলতে কেউ নেই। উপজেলা মাধমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আছেন অতিরিক্ত দায়িত্বে, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা পদটি শুন্য। আর একাডেমিক সুপারভাইজার পদটি কাগজে কলমে থাকলে এখানে নেই কোনো কার্যক্রম। তিনি আছেন টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা অফিসে। আর এসব কারণে আমাদের খুব সমস্য হচ্ছে। অনেক সময় আমাদের বেতন তুলতেও কয়েকদিন চলে যায়। আর দাপ্তরিক কাজে অনেক হিমশিম খেতে হয়। তবে আশা করি খুব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে।
জানতে চাইলে টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা অফিসে সংযুক্ত করার বিষয়টি মুঠোফোনে নিশ্চিত করেন কামরুল হাসান। আর বেতন তোলার বিষয়ে তিনি বলেন, নিয়ম আছে বলেই বেতন তুলছি। তবে রাণীনগর উপজেলায় দাপ্তরিক কাজ কে করবে এমন প্রশ্নে তিনি অধিদপ্তরের সাথে কথা বলতে বলেন। এছাড়া একটা মিটিং আছেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে, সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল হাসান উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন, তদারকি, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও মনিটরিং সহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নিকট চিঠি পাঠিয়েছেন।
চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউএনও রাকিবুল হাসান। তিনি বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসের ওই পদটির কার্যক্রম সচল করে শিক্ষা কার্যক্রমে গতিশীল আনতে জরুরী ভিত্তিতে একাডেমিক সুপারভাইজার প্রয়োজন।