Dhaka ১২:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
যথাযোগ্য মর্যাদায় নওগাঁয় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন মৃত্যুর ৭৫ দিন পর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, বিক্ষোভে অবরুদ্ধ সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কাঁচ দিয়ে আঘাত, থানায় মামলা চিলমারীর এক ইউনিয়নেই প্রায় কোটি টাকা লোপাট: ইউএনও’র কাছে এলাকাবাসীর অভিযোগ কারখানার রাস্তা বন্ধ করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ফেসবুকে অপপ্রচারের প্রতিবাদে নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থার নিন্দা সুন্দরগঞ্জে ক্লাস ফেলে সমাবেশ-মানববন্ধন, দিনভর প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ গাইবান্ধায় আরসিসি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন সাপের দংশনে সাপুড়ের মৃত্যু

গাইবান্ধায় সাঁওতাল যুব সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৫৮:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ১৩০ Time View

স্টাফ রিপোর্টঃ সাঁওতালসহ সকল বিভিন্ন জনজাতির ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষাসহ সরকারী সেবা প্রাপ্তিতে গাইবান্ধায় সাঁওতাল যুবদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শতাধিক সাঁওতাল-ওড়াওঁ সহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর যুব নারী-পুরুষ এতে অংশগ্রহণ করে।
বুধবার সন্ধ্যায় শিশু স্বর্গ ও বিনোদন পার্ক, গাইবান্ধায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রি প্রেস ইউনাইটেড ও আর্টিকেল নাইটিনের সহায়তায় একর্মসূচির আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অবলম্বন। বিকালে সাঁওতাল-ওড়াওঁসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে তাদের অধিকার, ভাষা-সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশের দাবি-সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুনসহ সমাবেশে অংশ নেয়। সমাবেশ শেষে জাতিগোষ্ঠীর শিল্পীরা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে।
অবলম্বন এর নির্বাহী পরিচালক প্রবীর চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাজহারউল মান্নান, সাংস্কৃতিক কর্মী শিরিন আকতার, নারীনেত্রী মিতা হাসান, নাজমা বেগম, শিক্ষক অশোক সাহা, আহাদুজ্জামান রিমু, অবলম্বন এর প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর একেএম মাহবুব আলম মুকুল, সাঁওতাল নেত্রী সুরভী মার্ডি, ইয়ুথ নেতা স্বরস্বতী পাহাড়ী, সান্তনা রবিদাস প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, এটি হতাশাজনক যে, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের ৭১ বছর পরেও বাংলাদেশে বিভিন্ন জনজাতি নিজ মাতৃভাষায় শিক্ষা লাভের দাবি উপেক্ষিত হয়ে আসছে। বর্তমানে দেশের ৫০টির বেশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভাষায় রয়েছে অনেক গীত, ঝুমুর, লোকগাঁথা, প্রবাদ-প্রবচন, গল্প; যা কালের পরিক্রমায় হারিয়ে যাচ্ছে। এই সকল ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ জরুরি। না হলে ভাষাগুলো গবেষণা ও পরিচর্যার অভাবে হারিয়ে যাবে। তাদের সংস্কৃতিও বিলুপ্ত হচ্ছে। এরা বাংলাদেশের দরিদ্রতম প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। অধিকাংশই ভূমিহীন। সরকারী ও বেসরকারী সেবাদানকারী সংগঠনসমূহকে তাদের জীবনযাত্রার মান ও সংস্কৃতিক রক্ষায় এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়।
তারা বলেন, পৃথিবীর সব ভাষার প্রতি সম্মান এবং সংখ্যালঘু ও দুর্বল সম্প্রদায়ের ভাষা রক্ষায় সব দেশের সরকারদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন ও সক্রিয় থাকা উচিত। দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা চর্চা ও বিকাশ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই দেশের সব জাতির মাতৃভাষার প্রতি আমাদের সম্মান নিশ্চিত করা সম্ভবপর হবে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

kartick kartick

Popular Post

যথাযোগ্য মর্যাদায় নওগাঁয় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন

গাইবান্ধায় সাঁওতাল যুব সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা

Update Time : ০৭:৫৮:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টঃ সাঁওতালসহ সকল বিভিন্ন জনজাতির ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষাসহ সরকারী সেবা প্রাপ্তিতে গাইবান্ধায় সাঁওতাল যুবদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শতাধিক সাঁওতাল-ওড়াওঁ সহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর যুব নারী-পুরুষ এতে অংশগ্রহণ করে।
বুধবার সন্ধ্যায় শিশু স্বর্গ ও বিনোদন পার্ক, গাইবান্ধায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রি প্রেস ইউনাইটেড ও আর্টিকেল নাইটিনের সহায়তায় একর্মসূচির আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অবলম্বন। বিকালে সাঁওতাল-ওড়াওঁসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে তাদের অধিকার, ভাষা-সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশের দাবি-সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুনসহ সমাবেশে অংশ নেয়। সমাবেশ শেষে জাতিগোষ্ঠীর শিল্পীরা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে।
অবলম্বন এর নির্বাহী পরিচালক প্রবীর চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাজহারউল মান্নান, সাংস্কৃতিক কর্মী শিরিন আকতার, নারীনেত্রী মিতা হাসান, নাজমা বেগম, শিক্ষক অশোক সাহা, আহাদুজ্জামান রিমু, অবলম্বন এর প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর একেএম মাহবুব আলম মুকুল, সাঁওতাল নেত্রী সুরভী মার্ডি, ইয়ুথ নেতা স্বরস্বতী পাহাড়ী, সান্তনা রবিদাস প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, এটি হতাশাজনক যে, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের ৭১ বছর পরেও বাংলাদেশে বিভিন্ন জনজাতি নিজ মাতৃভাষায় শিক্ষা লাভের দাবি উপেক্ষিত হয়ে আসছে। বর্তমানে দেশের ৫০টির বেশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভাষায় রয়েছে অনেক গীত, ঝুমুর, লোকগাঁথা, প্রবাদ-প্রবচন, গল্প; যা কালের পরিক্রমায় হারিয়ে যাচ্ছে। এই সকল ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ জরুরি। না হলে ভাষাগুলো গবেষণা ও পরিচর্যার অভাবে হারিয়ে যাবে। তাদের সংস্কৃতিও বিলুপ্ত হচ্ছে। এরা বাংলাদেশের দরিদ্রতম প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। অধিকাংশই ভূমিহীন। সরকারী ও বেসরকারী সেবাদানকারী সংগঠনসমূহকে তাদের জীবনযাত্রার মান ও সংস্কৃতিক রক্ষায় এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়।
তারা বলেন, পৃথিবীর সব ভাষার প্রতি সম্মান এবং সংখ্যালঘু ও দুর্বল সম্প্রদায়ের ভাষা রক্ষায় সব দেশের সরকারদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন ও সক্রিয় থাকা উচিত। দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা চর্চা ও বিকাশ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই দেশের সব জাতির মাতৃভাষার প্রতি আমাদের সম্মান নিশ্চিত করা সম্ভবপর হবে।