
ডেস্ক রিপোর্টঃ এক মুহূর্তের ধাক্কায় তছনছ হয়ে গেছে নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকা। আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রয়টার্স ও কাঠমান্ডু পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর লেন্দে নদীর উজানে বড় একটি হিমবাহ বা বরফের স্তূপ ধসে পড়ার কারণে এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে। বরফ ও মাটির বিশাল অংশ নদীর প্রবাহ আটকে সাময়িকভাবে প্রাকৃতিক বাঁধের মতো পরিস্থিতি তৈরি করে। পরে জমে থাকা বিপুল পানি ও বরফ হঠাৎ ভেঙে নিচের দিকে নেমে এলে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা।
প্রবল স্রোতে নেপাল ও তিব্বতের সংযোগকারী সড়ক ও সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে বসতবাড়িও। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বহু বিদেশি পর্যটক ও শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে শতাধিক ভারতীয় নাগরিক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিপদ এখনো পুরোপুরি কাটেনি বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। লেন্দে নদীর উজানে মাটি ও বরফের বড় অংশ আটকে থাকায় সেখানে নতুন করে পানি জমতে পারে। সেই পানি হঠাৎ নেমে এলে ফের আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে নেপালের নদীগুলোর পানি ভারতের দিকে প্রবাহিত হওয়ায় বিহার ও উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন এলাকাও বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। দুর্গত এলাকায় নেপালের সেনাবাহিনী ও পুলিশ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে কাদা, পাথর ও ধ্বংসস্তূপে অনেক এলাকা দুর্গম হয়ে পড়ায় নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধারকাজে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন উদ্ধারকারীরা।

Reporter Name 






















