Dhaka ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সাঘাটায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বানে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ সাঘাটায় বিদেশে পাঠানোর নামে ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ! সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি লাওসে এশিয়া ন্যাশনাল ওয়াটার কনসালটেটিভ মিটিংয়ে এমপি মিলন নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার সবসময় থাকবে: এমপি মমতাজ আলো আড়াই বছর ধরে আটকে গাইবান্ধার ৯ সেতুর কাজ, ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কায় দুর্ভোগে মানুষ ধ্বংস আর মৃত্যুর মাঝেও ফুটবলকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াইয়ে ফিলিস্তিনিরা গাইবান্ধায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীল কর্মশালা অনুষ্ঠিত নিরাপদ নওগাঁ গঠনে শিক্ষার্থীদের সাথে র‍্যাবের মতবিনিময় সভা অভিভাবকের উদাসীনতাই তরুণ প্রজন্মের অবক্ষয়ের জন্য দায়ী? এবার সয়াবিন তেলে মিলল বিপুল পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক

চিলমারীতে বারবার মেয়াদ বাড়লেও শেষ হয়নি সড়কের কাজ, জনভোগান্তি চরমে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:০৪:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • ৩৮ Time View

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে চিলমারী-হরিপুর পিসি গার্ডার সেতুর সংযোগ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘসূত্রতার কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে টানা বৃষ্টিতে সদ্য নির্মিত ৫.২৩ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে ছোট-বড় প্রায় ৯০টি গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষোভের শীর্ষে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, পাঁচপীর বাজার থেকে চিলমারী উপজেলা হেডকোয়ার্টার সড়কে তিস্তা নদীর ওপর ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের (৩য় সংশোধিত) আওতায় এই সংযোগ সড়কটির কাজ শুরু হয়। উপজেলার মাটিকাটামোড় হতে পাঁচপীর জিসি সড়ক পর্যন্ত মোট ৫.২৩ কি.মি. রাস্তা উন্নয়নের জন্য ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি চুক্তি সম্পাদিত হয়। ১০ কোটি ৩৩ লাখ ২ হাজার ৮৩২ টাকা ব্যয়ে নাটোরের মীর হাবিবুল আলমের লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজটি করছেন রৌমারীর রাশেদুল ইসলাম রাশেদ নামের এক ঠিকাদার।

চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া কাজটি ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে কয়েক দফা সময় বাড়িয়েও এখন পর্যন্ত কাজের মাত্র ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সড়কের দুই পাশের মাটি ধসে গেছে। এতে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বিপজ্জনক গর্ত তৈরি হওয়ায় রিকশা, ভ্যান ও পথচারীদের চলাচল ঝঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আতাউর রহমান ও জোবায়দুল ইসলাম বলেন, “সেতু হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সংযোগ সড়কের অভাবে আমরা সুফল পাচ্ছি না। বারবার মেয়াদ বাড়লেও কেন কাজ শেষ হয় না, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”

ফয়সাল হক নামে এক পথচারী জানান, গর্তে পড়ে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রাতে বাইসাইকেল বা মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এই সড়কটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদার রাশেদুল ইসলাম রাশেদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

চিলমারী উপজেলা প্রকৌশলী জুলফিকার আলী জানান, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে এবং কাজটি বর্তমানে চলমান আছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার জন্য দাপ্তরিকভাবে চিঠি দিয়ে তাগাদা দেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সাঘাটায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বানে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ

চিলমারীতে বারবার মেয়াদ বাড়লেও শেষ হয়নি সড়কের কাজ, জনভোগান্তি চরমে

Update Time : ০৫:০৪:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে চিলমারী-হরিপুর পিসি গার্ডার সেতুর সংযোগ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘসূত্রতার কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে টানা বৃষ্টিতে সদ্য নির্মিত ৫.২৩ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে ছোট-বড় প্রায় ৯০টি গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষোভের শীর্ষে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, পাঁচপীর বাজার থেকে চিলমারী উপজেলা হেডকোয়ার্টার সড়কে তিস্তা নদীর ওপর ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের (৩য় সংশোধিত) আওতায় এই সংযোগ সড়কটির কাজ শুরু হয়। উপজেলার মাটিকাটামোড় হতে পাঁচপীর জিসি সড়ক পর্যন্ত মোট ৫.২৩ কি.মি. রাস্তা উন্নয়নের জন্য ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি চুক্তি সম্পাদিত হয়। ১০ কোটি ৩৩ লাখ ২ হাজার ৮৩২ টাকা ব্যয়ে নাটোরের মীর হাবিবুল আলমের লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজটি করছেন রৌমারীর রাশেদুল ইসলাম রাশেদ নামের এক ঠিকাদার।

চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া কাজটি ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে কয়েক দফা সময় বাড়িয়েও এখন পর্যন্ত কাজের মাত্র ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সড়কের দুই পাশের মাটি ধসে গেছে। এতে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বিপজ্জনক গর্ত তৈরি হওয়ায় রিকশা, ভ্যান ও পথচারীদের চলাচল ঝঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আতাউর রহমান ও জোবায়দুল ইসলাম বলেন, “সেতু হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সংযোগ সড়কের অভাবে আমরা সুফল পাচ্ছি না। বারবার মেয়াদ বাড়লেও কেন কাজ শেষ হয় না, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”

ফয়সাল হক নামে এক পথচারী জানান, গর্তে পড়ে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রাতে বাইসাইকেল বা মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এই সড়কটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদার রাশেদুল ইসলাম রাশেদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

চিলমারী উপজেলা প্রকৌশলী জুলফিকার আলী জানান, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে এবং কাজটি বর্তমানে চলমান আছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার জন্য দাপ্তরিকভাবে চিঠি দিয়ে তাগাদা দেওয়া হয়েছে।