Dhaka ০১:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গণমাধ্যমের অন্দরমহলে নিঃশব্দ মৃত্যুমিছিল:কাল হয়তো আমরা কেউ… ব্যবসায়ীর মুখোশে ভয়ংকর প্রতারণা: হাতিয়েছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার দেড় লক্ষ টাকা স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু নভেম্বরের মাঝামাঝিতে খাটের নিচে লুকোচুরি: মামী-ভাগ্নের কাণ্ডে পলাশবাড়িতে তুলকালাম মেসির উদাহরণ টেনে ইয়ামালকে সতর্ক করলেন সাবেক বার্সা তারকা তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে প্রবাসীদের ব্যাপক প্রস্তুতি রুশ ড্রোনের নিশানায় সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক সিআইএ প্রধান ? ৫ কোটি টাকার পানি শোধনাগার দুই বছরেও চালু হয়নি , ১৫ দিনের মধ্যে চালুর আল্টিমেটাম সার্ভার হ্যাক করে এনআইডি-সিডিআরসহ গোপন তথ্য সরবরাহ; যুবক গ্রেপ্তার জাভা সাগরে উল্টে গেল যাত্রীবাহী জাহাজ, ৬ জনের মৃত্যু—নিখোঁজ ১৩০

সুন্দরগঞ্জে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে বোরো ধানঃ অধিক লাভ ভুট্টায়

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:১৩:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫
  • ১৬০ Time View

সুন্দরগঞ্জ সংবাদদাতাঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে চলতি মৌসূমে বোরো ধান চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। অধিক লাভজনক হওয়ায় ভুট্টার চাষাবাদে বেশি আগ্রহী কৃষকরা।
জানা যায়, এবারে বোরো ধান চাষে ২৬ হাজার ৭’শ ৯০ ও ভুট্টা চাষে ৩ হাজার ৮’শ ২৮ হেক্টর জমি নির্ধারণ করা হয়। চাষীদের আগ্রহ আর অক্লান্ত পরিশ্রমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বোরো ধান ২৬ হাজার ৭’শ ৯২ ও ভুট্টা ৩ হাজার ৮’শ ২০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। এতে বোরো ধান চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। আর ভুট্টা চাষে অতীতের তুলনায় এবারে লক্ষ্যমাত্রা ছুঁই ছুঁই করছে। স্থানীয়, উফশী ও হাইব্রিড জাতের বোরো ধানের মধ্যে স্থানীয় অর্জিত ১’শ ১৬ হেক্টরের স্থলে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১’শ ১৮ হেক্টর জমি। উফশী জাত অর্জিত ১৬ হাজার ৬’শ ৬৬ হেক্টরের স্থলে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ হাজার ১’শ ২৫ হেক্টর ও হাইব্রিড জাতের বোরো ধান চাষে অর্জিত ১০ হাজার ১০ হেক্টরের স্থলে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১০ হাজার ৫’শ ৪৭ হেক্টর জমি। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭’শ ৫১ মেট্রিক টন। লক্ষ্যমাত্রাতিরিক্ত জমিতে বোরো ধানের চাষ হওয়াসহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলন হয়। ফলে সম্ভাব্য উৎপাদন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭’শ ৬৪ মেট্রিক টন (ধান)।
এদিকে, ভুট্টা চাষে অর্জিত হয়েছে ৩ হাজার ৮’শ ২০ হেক্টর জমি। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪৩ হাজার ৪’শ ১০ মেট্রিক টনের স্থলে অর্জিত হয়েছে ৪৩ হাজার ৩’শ ২০ মেট্রিক টন। এরমধ্যে ঘাঘট, তিস্তানদী ও ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২ হাজার ৮’শ ৮৬ হেক্টরে উৎপাদনে ৩২ হাজার ৭’শ ২৭ মেট্রিক টন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা, কৃষি বিভাগের উদ্বুদ্ধ করণ ও কৃষকদের আগ্রহী অক্লান্ত শ্রমে এবারে বোরো ও ভুট্টা চাষে লক্ষ্যনীয় ছিল বাম্পার ফলন।
নদ-নদী বেষ্টিত এ উপজেলার চরাঞ্চলসহ কৃষি মাঠে ঘুরে বোরো ধান ও ভুট্টা কর্তন (কাটা-মাড়াই) কাজে ন্যাস্ত কৃষক-কৃষাণীদের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা বলেন, অশানুরূপ ফলন হয়েছে। এবারে ফলন দেখে তাদের মন ভরে গেছে। তাই তাঁরা ভুলে গেছে সকল পরিশ্রমের কথা। তবে, দিনমজুর সঙ্কট, অধিক পরিমাণ খরচ হওয়ায় বোরো ধানে তেমন লাভের আশা করা যায়না। অপরদিক, ভুট্টা চাষীরা জানান, চরাঞ্চলের যেসব জমি ধানচাষের অনুপযোগী সেসব জমিতেও ভুট্টাচাষ করে বিঘা প্রতি ৪৫ মণ থেকে ৪৮ মণ ভুট্টা উৎপাদন হয়েছে। ভুট্টা চাষে খরচ কম, অধিক লাভজনক, জমিতে বিনা হালচাষে পাটবীজ ছিটিয়ে শুধু নিড়ানি দিলেই হয়। তবে, ভুট্টাচাষে সময় কিছুটা বেশি লাগে। ভুট্টা চাষ থেকে আমরা গো-খাদ্য, জ্বালানীও আহরণ করা সম্ভব।
বিভিন্ন মাঠে ফসলের কাজে ন্যাস্ত কৃষক হারুন- মিয়া, গোলজার হোসেন, নাজমুল হুদা, আকবর আলী, জয়নাল আবেদীন, আলম মিয়া, রাজা মিয়া, সফিউল ইসলাম জানান, তাঁরা কোন জমিতে ভুট্টা আর কোন জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। ভুট্টা ক্ষেতে দেখা যায় একটু সময় বেশি লাগে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করণ, চাষাবাদে সার্বিক পরামর্শ প্রদান, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অধীনে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদেরকে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে সহযোগিতা করাসহ মাঠ পর্যায়ে কৃষি উৎপাদনে সার্বিক ধারণা প্রদান করা হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার রাশিদুল কবির জানান, লক্ষ্যমাত্রাতিরিক্ত বোরো চাষ, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা, কৃষকদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি, উদ্বুদ্ধ করণে অত্র দপ্তর কাজ করে যাচ্ছে। ভৃট্টাচাষে লাভজনক ও চরাঞ্চলের জমিগুলোতে (যেসব জমিতে ধান চাষে অনুপযোগিত) উৎপাদন বাড়াতে আমাদের অবিরাম প্রচেষ্টা চলমান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামীতে খাদ্যশস্যোৎপাদনে কৃষদের আরো আগ্রহ বাড়ছে বলে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।কৃষকরা এখন অনেকাটই উৎপাদনমূখী হয়েছে। অধিক লাভজনক ও উচ্চ ফলনশীল ফসল ফলাতে তাঁরা প্রতিযোগিতামূলক ফসলের পরিচর্যা করছেন। পরামর্শ নিতে তাঁদের আগ্রহ বেড়েছে। পাশাপাশি আমরাও সচেষ্ট।

 

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

kartick kartick

Popular Post

গণমাধ্যমের অন্দরমহলে নিঃশব্দ মৃত্যুমিছিল:কাল হয়তো আমরা কেউ…

সুন্দরগঞ্জে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে বোরো ধানঃ অধিক লাভ ভুট্টায়

Update Time : ০৮:১৩:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫

সুন্দরগঞ্জ সংবাদদাতাঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে চলতি মৌসূমে বোরো ধান চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। অধিক লাভজনক হওয়ায় ভুট্টার চাষাবাদে বেশি আগ্রহী কৃষকরা।
জানা যায়, এবারে বোরো ধান চাষে ২৬ হাজার ৭’শ ৯০ ও ভুট্টা চাষে ৩ হাজার ৮’শ ২৮ হেক্টর জমি নির্ধারণ করা হয়। চাষীদের আগ্রহ আর অক্লান্ত পরিশ্রমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বোরো ধান ২৬ হাজার ৭’শ ৯২ ও ভুট্টা ৩ হাজার ৮’শ ২০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। এতে বোরো ধান চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। আর ভুট্টা চাষে অতীতের তুলনায় এবারে লক্ষ্যমাত্রা ছুঁই ছুঁই করছে। স্থানীয়, উফশী ও হাইব্রিড জাতের বোরো ধানের মধ্যে স্থানীয় অর্জিত ১’শ ১৬ হেক্টরের স্থলে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১’শ ১৮ হেক্টর জমি। উফশী জাত অর্জিত ১৬ হাজার ৬’শ ৬৬ হেক্টরের স্থলে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ হাজার ১’শ ২৫ হেক্টর ও হাইব্রিড জাতের বোরো ধান চাষে অর্জিত ১০ হাজার ১০ হেক্টরের স্থলে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১০ হাজার ৫’শ ৪৭ হেক্টর জমি। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭’শ ৫১ মেট্রিক টন। লক্ষ্যমাত্রাতিরিক্ত জমিতে বোরো ধানের চাষ হওয়াসহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলন হয়। ফলে সম্ভাব্য উৎপাদন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭’শ ৬৪ মেট্রিক টন (ধান)।
এদিকে, ভুট্টা চাষে অর্জিত হয়েছে ৩ হাজার ৮’শ ২০ হেক্টর জমি। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪৩ হাজার ৪’শ ১০ মেট্রিক টনের স্থলে অর্জিত হয়েছে ৪৩ হাজার ৩’শ ২০ মেট্রিক টন। এরমধ্যে ঘাঘট, তিস্তানদী ও ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২ হাজার ৮’শ ৮৬ হেক্টরে উৎপাদনে ৩২ হাজার ৭’শ ২৭ মেট্রিক টন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা, কৃষি বিভাগের উদ্বুদ্ধ করণ ও কৃষকদের আগ্রহী অক্লান্ত শ্রমে এবারে বোরো ও ভুট্টা চাষে লক্ষ্যনীয় ছিল বাম্পার ফলন।
নদ-নদী বেষ্টিত এ উপজেলার চরাঞ্চলসহ কৃষি মাঠে ঘুরে বোরো ধান ও ভুট্টা কর্তন (কাটা-মাড়াই) কাজে ন্যাস্ত কৃষক-কৃষাণীদের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা বলেন, অশানুরূপ ফলন হয়েছে। এবারে ফলন দেখে তাদের মন ভরে গেছে। তাই তাঁরা ভুলে গেছে সকল পরিশ্রমের কথা। তবে, দিনমজুর সঙ্কট, অধিক পরিমাণ খরচ হওয়ায় বোরো ধানে তেমন লাভের আশা করা যায়না। অপরদিক, ভুট্টা চাষীরা জানান, চরাঞ্চলের যেসব জমি ধানচাষের অনুপযোগী সেসব জমিতেও ভুট্টাচাষ করে বিঘা প্রতি ৪৫ মণ থেকে ৪৮ মণ ভুট্টা উৎপাদন হয়েছে। ভুট্টা চাষে খরচ কম, অধিক লাভজনক, জমিতে বিনা হালচাষে পাটবীজ ছিটিয়ে শুধু নিড়ানি দিলেই হয়। তবে, ভুট্টাচাষে সময় কিছুটা বেশি লাগে। ভুট্টা চাষ থেকে আমরা গো-খাদ্য, জ্বালানীও আহরণ করা সম্ভব।
বিভিন্ন মাঠে ফসলের কাজে ন্যাস্ত কৃষক হারুন- মিয়া, গোলজার হোসেন, নাজমুল হুদা, আকবর আলী, জয়নাল আবেদীন, আলম মিয়া, রাজা মিয়া, সফিউল ইসলাম জানান, তাঁরা কোন জমিতে ভুট্টা আর কোন জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। ভুট্টা ক্ষেতে দেখা যায় একটু সময় বেশি লাগে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করণ, চাষাবাদে সার্বিক পরামর্শ প্রদান, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অধীনে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদেরকে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে সহযোগিতা করাসহ মাঠ পর্যায়ে কৃষি উৎপাদনে সার্বিক ধারণা প্রদান করা হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার রাশিদুল কবির জানান, লক্ষ্যমাত্রাতিরিক্ত বোরো চাষ, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা, কৃষকদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি, উদ্বুদ্ধ করণে অত্র দপ্তর কাজ করে যাচ্ছে। ভৃট্টাচাষে লাভজনক ও চরাঞ্চলের জমিগুলোতে (যেসব জমিতে ধান চাষে অনুপযোগিত) উৎপাদন বাড়াতে আমাদের অবিরাম প্রচেষ্টা চলমান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামীতে খাদ্যশস্যোৎপাদনে কৃষদের আরো আগ্রহ বাড়ছে বলে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।কৃষকরা এখন অনেকাটই উৎপাদনমূখী হয়েছে। অধিক লাভজনক ও উচ্চ ফলনশীল ফসল ফলাতে তাঁরা প্রতিযোগিতামূলক ফসলের পরিচর্যা করছেন। পরামর্শ নিতে তাঁদের আগ্রহ বেড়েছে। পাশাপাশি আমরাও সচেষ্ট।