
ডেস্ক রিপোর্টঃ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবার কি আরও বড় যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে? সৌদি আরবের জ্বালানি কেন্দ্র ও প্রধান শহরগুলোতে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। এতে অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। বেশ কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডেরও খবর পাওয়া গেছে।
সৌদি শক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে অগ্নিনির্বাপক ও জরুরি উদ্ধারকারী দল। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালকি বলেছেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের চারটি শহরে হামলা চালানো হয়েছে। হুথিদের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক সক্ষমতা পঙ্গু করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে যে সংঘাত শুরু হয়েছিল, ছয় মাস পর এই নতুন হামলা সেই ইরান যুদ্ধকে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক মহা-সংগ্রামে রূপ দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
লোহিত সাগরে রিয়াদমুখী নৌ-অবরোধ ঘোষণার পর থেকেই সৌদি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা জোরদার করেছে হুথিরা। উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো এবং মার্কিন তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলার বিষয়ে ইরানের আগাম সতর্কবার্তার পরপরই এই আক্রমণগুলো ঘটে।
সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারেও। গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে তেলের দাম। বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পারস্য উপসাগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের বিধিনিষেধ ও হুথি হামলার কারণে এই রুটে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও মারাত্মকভাবে ধীর হয়ে পড়েছে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজাই জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন একটি ‘নিষিদ্ধ অঞ্চল’ ঘোষণা করা হবে। এই এলাকায় প্রবেশকারী যেকোনো জাহাজকে ইরানের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এদিকে, পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ইরান ‘কাশেম বাসির’ নামের নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জানা গেছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা আঘাত এড়াতে সক্ষম হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক হামলায় ইরানের প্রচলিত সামরিক শক্তি দুর্বল হলেও দেশটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছে। এর ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং তেলবাহী ট্যাংকারগুলোও নিয়মিত হুমকির মুখে পড়ছে।
এই সংঘাত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য আগামী নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম ও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় মার্কিন জনগণের অসন্তোষ বাড়ছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প তাঁর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে জয়লাভ করলেই তেলের দাম দ্রুত কমে গ্যালনপ্রতি দুই ডলারে নেমে আসবে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেওয়া হবে না।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স

Reporter Name 






















