Dhaka ১০:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার সাঁতরে পার হওয়ার সময় বাঙালি নদীতে এক বৃদ্ধ নিখোঁজ ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিতে রাজি মিয়ানমার: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেফতার সাঘাটায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বানে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ সাঘাটায় বিদেশে পাঠানোর নামে ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ! সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি লাওসে এশিয়া ন্যাশনাল ওয়াটার কনসালটেটিভ মিটিংয়ে এমপি মিলন নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার সবসময় থাকবে: এমপি মমতাজ আলো আড়াই বছর ধরে আটকে গাইবান্ধার ৯ সেতুর কাজ, ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কায় দুর্ভোগে মানুষ ধ্বংস আর মৃত্যুর মাঝেও ফুটবলকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াইয়ে ফিলিস্তিনিরা

উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে পাহাড়ধস: শিশুসহ নিহত ৮

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:২৩:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • ৬৫ Time View

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার তিনটি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে টানা ভারী বর্ষণের ফলে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে মাটিচাপা পড়ে ৫ শিশু ও ৩ নারী-পুরুষসহ মোট ৮ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

গত রবিবার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা থেকে সোমবার (৬ জুলাই) ভোররাতের মধ্যে উখিয়ার ১৫ নম্বর জামতলী, ৭ নম্বর কুতুপালং এবং ১১ নম্বর বালুখালী ক্যাম্পে এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।

ক্যাম্প প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটে উখিয়ার ১১ নম্বর বালুখালী ক্যাম্পের সি-১১ ব্লকে। সেখানে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে একটি বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে একই পরিবারের চারজন নিহত হন। নিহতরা হলেন—উম্মে হাবিবা (২৭), তাঁর বোন তানজিনা আক্তার (১৩), উম্মে হাবিবার ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং হারুনুর রশিদ (৩)।

এর আগে রাত ১টার দিকে ১৫ নম্বর জামতলী ক্যাম্পের ডি-৬ ব্লকে পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন—মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তাঁর স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাঁদের ৪ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস। এছাড়া রাত ২টার দিকে ৭ নম্বর কুতুপালং ক্যাম্পের ডি-৭ ব্লকে পাহাড়ধসে একরাম (৭) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মী, এপিবিএন সদস্য, ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। কাদা ও মাটি সরিয়ে পৃথক তিনটি স্থান থেকে আটজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা প্রায় এক হাজার রোহিঙ্গাকে ইতোমধ্যে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে লোকজনকে সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর এই সতর্কবার্তা ও উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্র প্রভাবের কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলাটিতে ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী আরও দু-একদিন এই ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে, যার ফলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার

উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে পাহাড়ধস: শিশুসহ নিহত ৮

Update Time : ০৫:২৩:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার তিনটি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে টানা ভারী বর্ষণের ফলে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে মাটিচাপা পড়ে ৫ শিশু ও ৩ নারী-পুরুষসহ মোট ৮ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

গত রবিবার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা থেকে সোমবার (৬ জুলাই) ভোররাতের মধ্যে উখিয়ার ১৫ নম্বর জামতলী, ৭ নম্বর কুতুপালং এবং ১১ নম্বর বালুখালী ক্যাম্পে এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।

ক্যাম্প প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটে উখিয়ার ১১ নম্বর বালুখালী ক্যাম্পের সি-১১ ব্লকে। সেখানে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে একটি বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে একই পরিবারের চারজন নিহত হন। নিহতরা হলেন—উম্মে হাবিবা (২৭), তাঁর বোন তানজিনা আক্তার (১৩), উম্মে হাবিবার ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং হারুনুর রশিদ (৩)।

এর আগে রাত ১টার দিকে ১৫ নম্বর জামতলী ক্যাম্পের ডি-৬ ব্লকে পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন—মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তাঁর স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাঁদের ৪ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস। এছাড়া রাত ২টার দিকে ৭ নম্বর কুতুপালং ক্যাম্পের ডি-৭ ব্লকে পাহাড়ধসে একরাম (৭) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মী, এপিবিএন সদস্য, ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। কাদা ও মাটি সরিয়ে পৃথক তিনটি স্থান থেকে আটজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা প্রায় এক হাজার রোহিঙ্গাকে ইতোমধ্যে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে লোকজনকে সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর এই সতর্কবার্তা ও উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্র প্রভাবের কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলাটিতে ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী আরও দু-একদিন এই ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে, যার ফলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।