Dhaka ০৪:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গণমাধ্যমের অন্দরমহলে নিঃশব্দ মৃত্যুমিছিল:কাল হয়তো আমরা কেউ… ব্যবসায়ীর মুখোশে ভয়ংকর প্রতারণা: হাতিয়েছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার দেড় লক্ষ টাকা স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু নভেম্বরের মাঝামাঝিতে খাটের নিচে লুকোচুরি: মামী-ভাগ্নের কাণ্ডে পলাশবাড়িতে তুলকালাম মেসির উদাহরণ টেনে ইয়ামালকে সতর্ক করলেন সাবেক বার্সা তারকা তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে প্রবাসীদের ব্যাপক প্রস্তুতি রুশ ড্রোনের নিশানায় সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক সিআইএ প্রধান ? ৫ কোটি টাকার পানি শোধনাগার দুই বছরেও চালু হয়নি , ১৫ দিনের মধ্যে চালুর আল্টিমেটাম সার্ভার হ্যাক করে এনআইডি-সিডিআরসহ গোপন তথ্য সরবরাহ; যুবক গ্রেপ্তার জাভা সাগরে উল্টে গেল যাত্রীবাহী জাহাজ, ৬ জনের মৃত্যু—নিখোঁজ ১৩০

ডুবে গেছে চরাঞ্চলের কাশবন, গো-খাদ্য নিয়ে বিপাকে চরের মানুষ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২৬:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • ১১৯ Time View

আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা:

তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি বৃদ্ধিতে গাইবান্ধার চরাঞ্চলের গো-চারণ ভূমি তলিয়ে গেছে। এতে চরম গো-খাদ্য সংকটে পড়েছেন চরের গবাদি পশু পালনকারীরা।

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৩৮টি চর গ্রামে প্রায় ২ লাখ পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ পরিবারই গবাদি পশু পালন করেন। সেই হিসাবে এসব চরাঞ্চলে খামারিরা অন্তত ১২ লাখ দেশীয় জাতের গরু লালন-পালন করছেন। সাধারণত চরের প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো কাশগাছ ও অন্যান্য ঘাস খাইয়েই এই বিপুল সংখ্যক গবাদি পশু বড় করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে চরাঞ্চল ডুবে যাওয়ায় তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

সাঘাটা উপজেলার দিঘলকান্দি চরের খামারি বারেক সরকার জানান, “আমার ২০টি গরু এখন গোয়াল ঘরে আটকে রেখেছি। মাঠের ঘাস না থাকায় বাড়ির খড় খাইয়ে কোনোমতে টিকিয়ে রেখেছি।” একই চরের নুর ইসলাম প্রামাণিক জানান, চরের নিচু জমিতে পানি ওঠায় গরু-ছাগল বাড়িতেই বেঁধে রাখতে হচ্ছে। মাঠের কোনো ঘাস না থাকায় এখন বাজার থেকে চড়া দামে খাদ্য কিনে খাওয়াতে হচ্ছে।

এদিকে ফুলছড়ি উপজেলার উজালডাঙ্গা চরের সাদ্দাম হোসেন জানান, চরের কাশ কাটার জমিতে পানি উঠে গেছে। বাধ্য হয়ে পানির নিচ থেকেই কাশ কেটে এনে খাওয়াতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, চরাঞ্চলের গো-চারণ ভূমি ও কাশবনসহ প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা ঘাস লতাপাতা পানিতে ডুবে যাওয়ায় সাময়িক এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে চরের কৃষকদের বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁরা সেই প্রস্তুতি ও অভ্যাস অনুযায়ীই এই প্রতিকূলতার মধ্যেও গবাদি পশু লালন-পালন করে যাচ্ছেন।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গণমাধ্যমের অন্দরমহলে নিঃশব্দ মৃত্যুমিছিল:কাল হয়তো আমরা কেউ…

ডুবে গেছে চরাঞ্চলের কাশবন, গো-খাদ্য নিয়ে বিপাকে চরের মানুষ

Update Time : ০২:২৬:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা:

তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি বৃদ্ধিতে গাইবান্ধার চরাঞ্চলের গো-চারণ ভূমি তলিয়ে গেছে। এতে চরম গো-খাদ্য সংকটে পড়েছেন চরের গবাদি পশু পালনকারীরা।

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৩৮টি চর গ্রামে প্রায় ২ লাখ পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ পরিবারই গবাদি পশু পালন করেন। সেই হিসাবে এসব চরাঞ্চলে খামারিরা অন্তত ১২ লাখ দেশীয় জাতের গরু লালন-পালন করছেন। সাধারণত চরের প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো কাশগাছ ও অন্যান্য ঘাস খাইয়েই এই বিপুল সংখ্যক গবাদি পশু বড় করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে চরাঞ্চল ডুবে যাওয়ায় তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

সাঘাটা উপজেলার দিঘলকান্দি চরের খামারি বারেক সরকার জানান, “আমার ২০টি গরু এখন গোয়াল ঘরে আটকে রেখেছি। মাঠের ঘাস না থাকায় বাড়ির খড় খাইয়ে কোনোমতে টিকিয়ে রেখেছি।” একই চরের নুর ইসলাম প্রামাণিক জানান, চরের নিচু জমিতে পানি ওঠায় গরু-ছাগল বাড়িতেই বেঁধে রাখতে হচ্ছে। মাঠের কোনো ঘাস না থাকায় এখন বাজার থেকে চড়া দামে খাদ্য কিনে খাওয়াতে হচ্ছে।

এদিকে ফুলছড়ি উপজেলার উজালডাঙ্গা চরের সাদ্দাম হোসেন জানান, চরের কাশ কাটার জমিতে পানি উঠে গেছে। বাধ্য হয়ে পানির নিচ থেকেই কাশ কেটে এনে খাওয়াতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, চরাঞ্চলের গো-চারণ ভূমি ও কাশবনসহ প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা ঘাস লতাপাতা পানিতে ডুবে যাওয়ায় সাময়িক এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে চরের কৃষকদের বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁরা সেই প্রস্তুতি ও অভ্যাস অনুযায়ীই এই প্রতিকূলতার মধ্যেও গবাদি পশু লালন-পালন করে যাচ্ছেন।