Dhaka ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার সাঁতরে পার হওয়ার সময় বাঙালি নদীতে এক বৃদ্ধ নিখোঁজ ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিতে রাজি মিয়ানমার: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেফতার সাঘাটায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বানে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ সাঘাটায় বিদেশে পাঠানোর নামে ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ! সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি লাওসে এশিয়া ন্যাশনাল ওয়াটার কনসালটেটিভ মিটিংয়ে এমপি মিলন নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার সবসময় থাকবে: এমপি মমতাজ আলো আড়াই বছর ধরে আটকে গাইবান্ধার ৯ সেতুর কাজ, ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কায় দুর্ভোগে মানুষ ধ্বংস আর মৃত্যুর মাঝেও ফুটবলকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াইয়ে ফিলিস্তিনিরা

১৫ হাজার মানুষ হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে আটক ব্যক্তি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪৮:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • ৪৯ Time View

ডেস্ক রিপোর্টঃ তিন নারী স্বেচ্ছাসেবকের তৎপরতায় ভয়াবহ এক ট্র্যাজেডি হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে ভারতের মুম্বাই। তাজিয়া মিছিলে ব্যথানাশক ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর ওষুধ বলে বিষাক্ত ক্যাপসুল বিতরণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য।

পুলিশ জানিয়েছে, গত শুক্রবার (২৬ জুন) মুম্বাইয়ের বাইকুল্লা এলাকায় তাজিয়া মিছিলের সময় ফাইয়াজ প্রেমজি নামে ওই ব্যক্তি ক্যাপসুল বিতরণ করছিলেন। অভিযোগ, তিনি ক্যাপসুলগুলোকে ওষুধ বলে প্রচার করছিলেন। অন্তত ১১ জন সেগুলো খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সবাই বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

পরীক্ষায় দেখা যায়, ক্যাপসুলগুলোতে ছিল জিংক ফসফাইড, যা ইঁদুর মারার বিষ হিসেবে ব্যবহৃত অত্যন্ত প্রাণঘাতী রাসায়নিক।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে ফাইয়াজ স্বীকার করেছেন যে তিনি প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে বিষপ্রয়োগে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, তার কাছ থেকে ১৪ হাজার ৯০০টি ক্যাপসুল জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া ৩০ হাজার খালি ক্যাপসুল এবং ৫০ কেজি ফসফরাসের অর্ডার দেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।

এই ঘটনায় তিন নারী স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তাদের একজন প্রথমে ফাইয়াজের কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক মনে করে অন্যদের সতর্ক করেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয় এবং লাউডস্পিকারে ঘোষণা দিয়ে সবাইকে ওই ক্যাপসুল না খাওয়ার অনুরোধ করা হয়। এতে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়।

শনিবার (২৭ জুন) স্থানীয় আদালত ফাইয়াজকে দুই দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৩ ধারায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনার পেছনে কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

জিংক ফসফাইড কী?
এটি অত্যন্ত বিষাক্ত একটি রাসায়নিক। শরীরে প্রবেশ করলে পাকস্থলীর অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে প্রাণঘাতী ফসফিন গ্যাস তৈরি করে, যা হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুস, যকৃত, কিডনি ও মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এই বিষের নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই। তাই আক্রান্ত হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসাই একমাত্র ভরসা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার

১৫ হাজার মানুষ হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে আটক ব্যক্তি

Update Time : ১২:৪৮:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্টঃ তিন নারী স্বেচ্ছাসেবকের তৎপরতায় ভয়াবহ এক ট্র্যাজেডি হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে ভারতের মুম্বাই। তাজিয়া মিছিলে ব্যথানাশক ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর ওষুধ বলে বিষাক্ত ক্যাপসুল বিতরণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য।

পুলিশ জানিয়েছে, গত শুক্রবার (২৬ জুন) মুম্বাইয়ের বাইকুল্লা এলাকায় তাজিয়া মিছিলের সময় ফাইয়াজ প্রেমজি নামে ওই ব্যক্তি ক্যাপসুল বিতরণ করছিলেন। অভিযোগ, তিনি ক্যাপসুলগুলোকে ওষুধ বলে প্রচার করছিলেন। অন্তত ১১ জন সেগুলো খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সবাই বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

পরীক্ষায় দেখা যায়, ক্যাপসুলগুলোতে ছিল জিংক ফসফাইড, যা ইঁদুর মারার বিষ হিসেবে ব্যবহৃত অত্যন্ত প্রাণঘাতী রাসায়নিক।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে ফাইয়াজ স্বীকার করেছেন যে তিনি প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে বিষপ্রয়োগে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, তার কাছ থেকে ১৪ হাজার ৯০০টি ক্যাপসুল জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া ৩০ হাজার খালি ক্যাপসুল এবং ৫০ কেজি ফসফরাসের অর্ডার দেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।

এই ঘটনায় তিন নারী স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তাদের একজন প্রথমে ফাইয়াজের কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক মনে করে অন্যদের সতর্ক করেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয় এবং লাউডস্পিকারে ঘোষণা দিয়ে সবাইকে ওই ক্যাপসুল না খাওয়ার অনুরোধ করা হয়। এতে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়।

শনিবার (২৭ জুন) স্থানীয় আদালত ফাইয়াজকে দুই দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৩ ধারায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনার পেছনে কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

জিংক ফসফাইড কী?
এটি অত্যন্ত বিষাক্ত একটি রাসায়নিক। শরীরে প্রবেশ করলে পাকস্থলীর অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে প্রাণঘাতী ফসফিন গ্যাস তৈরি করে, যা হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুস, যকৃত, কিডনি ও মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এই বিষের নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই। তাই আক্রান্ত হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসাই একমাত্র ভরসা।