
চিলমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা বাঁধে আবারও তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল সড়কটারী এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীরে ৩সপ্তাহের ব্যবধানে আবারো সোমবার রাতে ৩০মিটার স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।তীব্র ভাঙনের ফলে নদের তীরবর্তী স্থানীয়রা মসজিদের মাইকে মাইকিং করে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টায় নির্ঘুম রাত্রি যাপন কথা জানা গেছে।এদিকে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের জন্য বরাদ্দ দেয়া প্রায় ১কোটি ৮লক্ষ টাকার কাজে নানা অনিয়মের কথা বলছেন ভূক্তভোগী ভাঙন কবলিত স্থানীয়রা।
জানা গেছে,ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন থেকে চিলমারীকে রক্ষার জন্য প্রায় সাড়ে ৪শ কোটি টাকা ব্যয়ে ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে নদের ডানতীর ব্লক ডাম্পিং ও পিচিং এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়।প্রকল্পের আওতায় উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরেরহাট এলাকা থেকে রমনা ইউনিয়নের জোড়গাছহাট বাজারের ভাটি পর্যন্ত এলাকার কাজ কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করা হয়।ওই প্রকল্পে কয়েক দফায় ভাঙন দেখা দিলে জরুরী ভিত্তিতে তা দায়সাড়াভাবে মেরামত করা হয়েছিল। গত ৩সপ্তাহ আগে উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাচকোল সড়কটারী এলাকায় ৩ টি স্থানে ভাঙন দেখা দিলে কিছু জিও ব্যাগ ফেলে তা রক্ষার চেষ্টা করা হয়।এজন্য দু’দফায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ১৮হাজার জিও ব্যাগ,যার আর্থিক ব্যয় প্রায় ৮১লক্ষ টাকা। সোমবার রাতে একই এলাকায় আবারও প্রায় ৩০মিটার জায়গার তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদের তীব্র ভাঙনে আতঙ্কিত হয়ে তীরবর্তী স্থানীয়রা মসজিদের মাইকে মাইকিং করে যার যা আছে তাই নিয়ে আসতে বলে।এতে সহস্রাধিক মানুষ ভাঙনের স্থলে জমায়েত হয়ে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে নির্ঘুম রাত্রি যাপন করেছে।এদিকে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের জন্য বরাদ্দ দেয়া ১কোটি ৮লক্ষ টাকার কাজে নানা অনিয়মের কথা বলছেন ভূক্তভোগী ভাঙন কবলিত স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়,রাণীগঞ্জ কাঁচকোল সড়কটারী এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা প্রকল্প বাধের প্রায় ৩০মিটার জায়গার ব্লক ধসে রাস্তা ভেঙে গেছে। বাঁধের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৭টি স্থানে ধসে যাওয়াসহ হুমকির মুখে রয়েছে ওই অঞ্চলটি বলে এলাকাবাসী জানান। কয়েকদিন ধরে ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত্রি যাপন করছেন নদের তীরবর্তী মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ,প্রায় সাড়ে ৪শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ডানতীর রক্ষা প্রকল্পে ২০১৮সাল থেকে বিভিন্ন জায়গায় ধসের ঘটনা ঘটলেও তা স্থায়ী সমাধানের কোন উদ্যোগ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই আতঙ্কে থাকতে হয় ভাঙন কবলিত মানুষদের। চলতি মাসে তিন দফায় ভাঙন প্রতিরোধকল্পে জরুরী মেরামতের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৪হাজার জিও ব্যাগ,যার আর্থিক মূল্য ১ কোটি ৮লক্ষ টাকা। জরুরী মেরামতের জন্য দেয়া বরাদ্দে নিম্নমানের জিও ব্যাগ প্রদান,প্যাকিংয়ে অনিয়মসহ বিভিন্ন অনিয়মের কথাও জানান তারা।
কাঁচকোল সড়কটারী এলাকার বাসিন্দা নব্বইউর্ধো বৃদ্ধা ফেলানী বেওয়া বলেন,“যখন ব্লক ভাঙি যায়,তখন আত্মা ছাড়ি যায়,আল্লাহ আল্লাহ করি।”
ফরজ উদ্দিন(ডেস্কা)ব্যাপারী জানান,রাতে নদী ভাঙনের তীব্রতা এত বেশী ছিল যে,এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।ভাঙন আতঙ্কে মসজিদের মাইক থেকে মাইকিং করে যার যা আছে তাই নিয়ে আসতে বলা হয়।এতে হাজারের বেশী এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে রাস্তায় রাখা জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করতে থাকি।এভাবেই আমরা নির্ঘুম রাত্রি যাপন করেছি।ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ীভাবে ব্লক ডাম্পিং এবং নদের মাঝে থাকা ডুবো চর ড্রেজিং করার দাবী জানান তিনি।
স্থানীয় রফিকুল ইসলাম,আবুল হোসেন,নুরজাহান বেগম,মিজানুর রহমান,ফুল বাবু,মতিয়ার রহমান,খতিব উদ্দিন,মঞ্জু মিয়াসহ অনেকে বলেন, ডানতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের পর আমরা নদীভাঙন থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছিলাম। কিন্তু কয়েক বছর ধরে বারবার ধসের ঘটনায় আমরা আবারও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান দিতে পারেনি। বাঁধটি ভেঙে গেলে আমরা সর্বস্ব হারিয়ে আবারও ভাঙন ও বন্যার কবলে পড়ব বলে জানান তারা।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.রাকিবুল হাসান জানান,ওই ভাঙন এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে নতুন করে ৬হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ হয়েছে। এনিয়ে চলতি মাসে জরুরী মেরামতের জন্য ২৪হাজার জিওব্যাগ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা ডাম্পিং এর কাজ চলছে। জিও ব্যাগ প্যাকিংয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,এমপি,ইউএনও এবং আমাদের প্রতিনিধিদের সামনে জিও ব্যাগ প্যাকিং চেক করা হয়। নিয়মানুযায়ী প্রতি ব্যাগে ২৫০কেজির উপরে বালু ভর্তি করার কথা। প্রয়োজনে আবারও চেক করা হবে।

Reporter Name 




















