
ঢাকা, টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
ঈদুল আজহার মাত্র দুদিন আগে রাজধানী ছেড়ে ঘরে ফিরছেন লাখ লাখ মানুষ। তবে আজ মঙ্গলবার দুপুর থেকে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ঈদযাত্রায় যোগ হয়েছে চরম ভোগান্তি। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের যাত্রীদের যানজট ও বৃষ্টির জোড়া ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে। সেই তুলনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের পথ ছিল অনেকটাই স্বস্তিদায়ক।
চন্দ্রা-ভোগড়ায় থমকে আছে উত্তরাঞ্চল, যাত্রীদের ত্রাহি দশা
ভারী বৃষ্টি ও ঘরমুখী মানুষের অতিরিক্ত চাপের কারণে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দুপুরের দিকে মহাসড়কের কোনাবাড়ির নূরবাগ থেকে চন্দ্রা ত্রিমোড় পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহন থমকে দাঁড়ায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থেকে নাকাল হচ্ছেন উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা।
একই অবস্থা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও কালিয়াকৈর-নবীনগর সড়কেও। ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া এলাকায় রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ায় চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। গণপরিবহন সংকটের কারণে চরম ঝুঁকি নিয়ে উত্তরাঞ্চলের অনেক যাত্রীকে খোলা ট্রাক ও পিকআপে করে রওনা হতে দেখা গেছে, হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে যাদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। অন্যদিকে বাসে জায়গা না পেয়ে গাজীপুরের জয়দেবপুর জংশনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেককে ট্রেনের ছাদে চড়ে উত্তরাঞ্চলের দিকে যেতে দেখা গেছে।
কালবৈশাখীর তোড়ে পাটুরিয়ায় ফেরি বন্ধ
ঝড়ো হাওয়া ও কালবৈশাখীর আশঙ্কায় আজ বেলা সোয়া ১১টা থেকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ ফেরি বন্ধ হওয়ায় ঘাট এলাকায় প্রায় অর্ধশত দূরপাল্লার বাস ও শত শত যাত্রী আটকা পড়েছেন। নদী পারাপারের ক্ষেত্রেও যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
চট্টগ্রাম ও সিলেট মহাসড়ক স্বাভাবিক, ভাড়া নৈরাজ্য
ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এখন পর্যন্ত বড় কোনো যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সরাইল বিশ্বরোড গোলচত্বর এলাকায় খানাখন্দে পানি জমে থাকা এবং চালকদের বিশৃঙ্খল প্রতিযোগিতার কারণে ৩-৪ কিলোমিটার জুড়ে যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। এছাড়া মহাসড়ক দুটি স্বাভাবিক থাকলেও বৃষ্টিতে কাউন্টারে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা।
পদ্মা সেতুতে স্বস্তির যাত্রা
উত্তরাঞ্চলের ভোগান্তির চিত্রের পুরো উল্টো রূপ দেখা গেছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার পদ্মা সেতু এলাকায়। ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে এবং পদ্মা সেতুর মাওয়া টোল প্লাজা এলাকায় যানবাহনের চাপ থাকলেও কোথাও কোনো দীর্ঘ জটলা তৈরি হয়নি। দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা অত্যন্ত নির্বিঘ্নে ও স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন। সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু দিয়ে রেকর্ড ৪৪ হাজার ৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে টোল আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ১৫ swelled ৩৫০ টাকা।
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়কগুলো সচল রাখতে এবং যানজট নিরসনে বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যার পর ঘরমুখী মানুষের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Reporter Name 







