Dhaka ০৮:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
খোলা বাজারে সরকারি বীজ বিক্রির দায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড গোবিন্দগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার সাঁতরে পার হওয়ার সময় বাঙালি নদীতে এক বৃদ্ধ নিখোঁজ ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিতে রাজি মিয়ানমার: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেফতার সাঘাটায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বানে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ সাঘাটায় বিদেশে পাঠানোর নামে ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ! সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি লাওসে এশিয়া ন্যাশনাল ওয়াটার কনসালটেটিভ মিটিংয়ে এমপি মিলন নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার সবসময় থাকবে: এমপি মমতাজ আলো

গাইবান্ধায় জমে উঠেছে ৩২টি পশুর হাট: নিরাপত্তায় কঠোর প্রশাসন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:১৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
  • ৬৫ Time View

আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে গাইবান্ধার ৭টি উপজেলার কোরবানির পশুর হাটগুলো। ঈদের সময় ঘনিয়ে আসায় পছন্দের পশু কিনতে হাটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। অন্যদিকে, হাটের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে, জালনোটের ব্যবহার রোধ ও প্রতারণা ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি জোরদার করেছে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবার গাইবান্ধার ৭টি উপজেলায় সর্বমোট ৩২টি স্থানে কোরবানির পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে ১৯টি স্থায়ী এবং ১৩টি অস্থায়ী হাট।

জেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও বড় হাটগুলোর মধ্যে-গাইবান্ধা সদরের দাড়িয়াপুর ও লক্ষ্মীপুর হাট, সাদুল্লাপুরের মাঠের হাট এবং সাঘাটার ভরতখালী হাটে ইতোমধ্যে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যাপক সমাগম লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে লালন-পালন করা সুস্থ-সবল গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার চাহিদা বেশি থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা ছুটে আসছেন এই হাটগুলোতে।

ভরতখালী হাটে আসা ক্রেতা অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জানান, “গতবারের চেয়ে এবার হাটে পশুর আমদানি ভালো। দাম কিছুটা বেশি মনে হলেও সাধ্যের মধ্যে পছন্দের গরু খোঁজার চেষ্টা করছি।”

চরাঞ্চলের খামারি ও বিক্রেতা আশরাফুল ইসলাম বলেন, “চরাঞ্চলে ঘাস খাইয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে গরু বড় করেছি। হাটে ক্রেতা অনেক থাকলেও দাম তুলনামূলক কিছুটা কম মনে হচ্ছে। তবে আশা করছি শেষ পর্যন্ত ভালো দামেই বিক্রি করতে পারব।”

প্রথাগত হাটের পাশাপাশি এবার গাইবান্ধার পশুর হাটে লেগেছে তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়া। হাটের ভিড় এড়াতে অনেক বড় খামারি ও সাধারণ ক্রেতারা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহায়তায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে পশু কেনাবেচা করছেন। এতে দূর-দূরান্তের ক্রেতারা সহজেই খামারিদের কাছ থেকে সরাসরি পশু সংগ্রহ করতে পারছেন।

এদিকে হাটে যাতে কোনো অসুস্থ বা স্টেরয়েডযুক্ত ক্ষতিকর পশু প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য কঠোর অবস্থানে রয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা দিতে জেলাজুড়ে কাজ করছে ৩০টি বিশেষ ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম।

ভরতখালী হাটের ইজারাদার এনামুল হক জানান, “আমরা হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের সব ধরনের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছি। দূর-দূরান্তের ব্যাপারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং জালনোট শনাক্তকরণের জন্য ব্যাংকের সহায়তায় বুথ বসানো হয়েছে।”

স্থানীয় প্রশাসন ও ইজারাদাররা জানান, হাটে টাকা লেনদেনে প্রতারণা রোধে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি পশুর হাটের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছেন। প্রশাসনের এমন কঠোর ও সমন্বিত নজরদারিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাটে আসা সাধারণ ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

 

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

খোলা বাজারে সরকারি বীজ বিক্রির দায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড

গাইবান্ধায় জমে উঠেছে ৩২টি পশুর হাট: নিরাপত্তায় কঠোর প্রশাসন

Update Time : ০৫:১৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে গাইবান্ধার ৭টি উপজেলার কোরবানির পশুর হাটগুলো। ঈদের সময় ঘনিয়ে আসায় পছন্দের পশু কিনতে হাটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। অন্যদিকে, হাটের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে, জালনোটের ব্যবহার রোধ ও প্রতারণা ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি জোরদার করেছে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবার গাইবান্ধার ৭টি উপজেলায় সর্বমোট ৩২টি স্থানে কোরবানির পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে ১৯টি স্থায়ী এবং ১৩টি অস্থায়ী হাট।

জেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও বড় হাটগুলোর মধ্যে-গাইবান্ধা সদরের দাড়িয়াপুর ও লক্ষ্মীপুর হাট, সাদুল্লাপুরের মাঠের হাট এবং সাঘাটার ভরতখালী হাটে ইতোমধ্যে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যাপক সমাগম লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে লালন-পালন করা সুস্থ-সবল গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার চাহিদা বেশি থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা ছুটে আসছেন এই হাটগুলোতে।

ভরতখালী হাটে আসা ক্রেতা অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জানান, “গতবারের চেয়ে এবার হাটে পশুর আমদানি ভালো। দাম কিছুটা বেশি মনে হলেও সাধ্যের মধ্যে পছন্দের গরু খোঁজার চেষ্টা করছি।”

চরাঞ্চলের খামারি ও বিক্রেতা আশরাফুল ইসলাম বলেন, “চরাঞ্চলে ঘাস খাইয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে গরু বড় করেছি। হাটে ক্রেতা অনেক থাকলেও দাম তুলনামূলক কিছুটা কম মনে হচ্ছে। তবে আশা করছি শেষ পর্যন্ত ভালো দামেই বিক্রি করতে পারব।”

প্রথাগত হাটের পাশাপাশি এবার গাইবান্ধার পশুর হাটে লেগেছে তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়া। হাটের ভিড় এড়াতে অনেক বড় খামারি ও সাধারণ ক্রেতারা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহায়তায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে পশু কেনাবেচা করছেন। এতে দূর-দূরান্তের ক্রেতারা সহজেই খামারিদের কাছ থেকে সরাসরি পশু সংগ্রহ করতে পারছেন।

এদিকে হাটে যাতে কোনো অসুস্থ বা স্টেরয়েডযুক্ত ক্ষতিকর পশু প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য কঠোর অবস্থানে রয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা দিতে জেলাজুড়ে কাজ করছে ৩০টি বিশেষ ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম।

ভরতখালী হাটের ইজারাদার এনামুল হক জানান, “আমরা হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের সব ধরনের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছি। দূর-দূরান্তের ব্যাপারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং জালনোট শনাক্তকরণের জন্য ব্যাংকের সহায়তায় বুথ বসানো হয়েছে।”

স্থানীয় প্রশাসন ও ইজারাদাররা জানান, হাটে টাকা লেনদেনে প্রতারণা রোধে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি পশুর হাটের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছেন। প্রশাসনের এমন কঠোর ও সমন্বিত নজরদারিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাটে আসা সাধারণ ক্রেতা ও বিক্রেতারা।