Dhaka ০১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গণমাধ্যমের অন্দরমহলে নিঃশব্দ মৃত্যুমিছিল:কাল হয়তো আমরা কেউ… ব্যবসায়ীর মুখোশে ভয়ংকর প্রতারণা: হাতিয়েছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার দেড় লক্ষ টাকা স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু নভেম্বরের মাঝামাঝিতে খাটের নিচে লুকোচুরি: মামী-ভাগ্নের কাণ্ডে পলাশবাড়িতে তুলকালাম মেসির উদাহরণ টেনে ইয়ামালকে সতর্ক করলেন সাবেক বার্সা তারকা তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে প্রবাসীদের ব্যাপক প্রস্তুতি রুশ ড্রোনের নিশানায় সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক সিআইএ প্রধান ? ৫ কোটি টাকার পানি শোধনাগার দুই বছরেও চালু হয়নি , ১৫ দিনের মধ্যে চালুর আল্টিমেটাম সার্ভার হ্যাক করে এনআইডি-সিডিআরসহ গোপন তথ্য সরবরাহ; যুবক গ্রেপ্তার জাভা সাগরে উল্টে গেল যাত্রীবাহী জাহাজ, ৬ জনের মৃত্যু—নিখোঁজ ১৩০

গোবিন্দগঞ্জে প্রশাসনের নাকের ডডগায় চলছে অবৈধ ইটভাটা: হুমকিতে পরিবেশ, কৃষি ও জনস্বাস্থ্য

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪১:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৬৩ Time View

গোবিন্দগঞ্জ গাইবান্ধা:
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সরকারি আইন ও বিধি অমান্য করে চলছে অবৈধ ইটভাটার রমরমা ব্যবসা। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ফসলি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঘেঁষে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে এসব ভাটা। প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনরাত কাঠ ও কয়লা পুড়িয়ে এবং কৃষি জমির উর্বর মাটি (টপসয়েল) ব্যবহার করে ইট তৈরি করা হলেও, কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
লাইসেন্সবিহীন ভাটার ছঢ়াছড়ি। সরেজমিনে জানা যায় গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভা এলাকাসহ উপজেলার কাটাবাড়ি, সাপমারা, কামারদহ, নাকাই, দরবস্ত, মহিমাগঞ্জ, কোচাশহর, শিবপুর ও রাখালবুরুজ ইউনিয়নের প্রায় ৩৬টি ইট ভাটা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৬টি ভাটার লাইসেন্স থাকলেও সেগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ। বাকি ৩০টি ভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বা জেলা প্রশাসনের কোনো অনুমোদন নেই। তবুও আইন অমান্য করে প্রকাশ্যে চলছে ইট পোড়ানোর কার্যক্রম।
হুমকিতে কৃষি ও পরিবেশ। স্থানীয়দর অভিযোগ, ভাটা মালিকরা প্রলোভন দেখিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে তিন ফসলি জমির উর্বর মাটি (টপসয়েল) কিনে নিচ্ছেন। এতে আবাদী জমি তার উর্বরতা হারাচ্ছে। এছাড়াও ভাটায় অবাধে কাঠ পোড়ানোর ফলে নির্গত কালো ধোঁয়ায় এলাকার পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়ে উঠছে। পৌর শহরের পূর্ব পান্তা পাড়ার কৃষকরা জানান, ভাটার ধোঁয়ায় নারিকেল, সুপারি, আম, কাঁঠালসহ মৌসুমী ফলের ফলন নষ্ট হচ্ছে এবং ফসল উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভা ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিলাস কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, বোয়ালিয়া এলাকায় সরকারি প্রণোদনা দেওয়া একটি ফসলের জমির মাটিও ইটভাটার মালিকরা কেটে নিয়ে গেছে, যা ফসল উৎপাদনে বড়বাধা।
জনস্বাস্থ্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি পুনতাইড় ও ফাঁসিতলাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশেই ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা এবং এলাকাবাসী সারা বছর শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগে ভুগছেন। পরিবেশ আইন অনুযায়ী লোকালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে ভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ হলেও এখানে তা মানা হচ্ছে না।

প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকা স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অবৈধ ইটভাটা চলছে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরকে ‘ম্যানেজ’ করে। এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদের কাছে অবৈধ ভাটার সঠিক সংখ্যা জানতে চাওয়া হলে হলে তিনি কোনো তথ্য না দিয়ে বিষযটি এরিয়ে যান।
অপরদিকে, গাইবান্ধা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক উত্তম কুমার এবং গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তারা সাংবাদিকদের অফিসে গিেিয় কথা বলার পরামর্শ দেন।
তবে উপজেলা কৃষি অফিসার মেহেদী হাসান জানান, তিনি যোগদানের পর নতুন করে কোনো ইটভাটার ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি।
‘নিপো’-এর নির্বাহী পরিচালক ও পরিবেশকর্মী আহম্মাদুল্লা বলেন, “অবৈধ ইটভাটার বিরেিদ্ধ প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

 

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গণমাধ্যমের অন্দরমহলে নিঃশব্দ মৃত্যুমিছিল:কাল হয়তো আমরা কেউ…

গোবিন্দগঞ্জে প্রশাসনের নাকের ডডগায় চলছে অবৈধ ইটভাটা: হুমকিতে পরিবেশ, কৃষি ও জনস্বাস্থ্য

Update Time : ০১:৪১:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

গোবিন্দগঞ্জ গাইবান্ধা:
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সরকারি আইন ও বিধি অমান্য করে চলছে অবৈধ ইটভাটার রমরমা ব্যবসা। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ফসলি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঘেঁষে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে এসব ভাটা। প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনরাত কাঠ ও কয়লা পুড়িয়ে এবং কৃষি জমির উর্বর মাটি (টপসয়েল) ব্যবহার করে ইট তৈরি করা হলেও, কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
লাইসেন্সবিহীন ভাটার ছঢ়াছড়ি। সরেজমিনে জানা যায় গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভা এলাকাসহ উপজেলার কাটাবাড়ি, সাপমারা, কামারদহ, নাকাই, দরবস্ত, মহিমাগঞ্জ, কোচাশহর, শিবপুর ও রাখালবুরুজ ইউনিয়নের প্রায় ৩৬টি ইট ভাটা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৬টি ভাটার লাইসেন্স থাকলেও সেগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ। বাকি ৩০টি ভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বা জেলা প্রশাসনের কোনো অনুমোদন নেই। তবুও আইন অমান্য করে প্রকাশ্যে চলছে ইট পোড়ানোর কার্যক্রম।
হুমকিতে কৃষি ও পরিবেশ। স্থানীয়দর অভিযোগ, ভাটা মালিকরা প্রলোভন দেখিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে তিন ফসলি জমির উর্বর মাটি (টপসয়েল) কিনে নিচ্ছেন। এতে আবাদী জমি তার উর্বরতা হারাচ্ছে। এছাড়াও ভাটায় অবাধে কাঠ পোড়ানোর ফলে নির্গত কালো ধোঁয়ায় এলাকার পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়ে উঠছে। পৌর শহরের পূর্ব পান্তা পাড়ার কৃষকরা জানান, ভাটার ধোঁয়ায় নারিকেল, সুপারি, আম, কাঁঠালসহ মৌসুমী ফলের ফলন নষ্ট হচ্ছে এবং ফসল উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভা ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিলাস কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, বোয়ালিয়া এলাকায় সরকারি প্রণোদনা দেওয়া একটি ফসলের জমির মাটিও ইটভাটার মালিকরা কেটে নিয়ে গেছে, যা ফসল উৎপাদনে বড়বাধা।
জনস্বাস্থ্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি পুনতাইড় ও ফাঁসিতলাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশেই ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা এবং এলাকাবাসী সারা বছর শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগে ভুগছেন। পরিবেশ আইন অনুযায়ী লোকালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে ভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ হলেও এখানে তা মানা হচ্ছে না।

প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকা স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অবৈধ ইটভাটা চলছে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরকে ‘ম্যানেজ’ করে। এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদের কাছে অবৈধ ভাটার সঠিক সংখ্যা জানতে চাওয়া হলে হলে তিনি কোনো তথ্য না দিয়ে বিষযটি এরিয়ে যান।
অপরদিকে, গাইবান্ধা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক উত্তম কুমার এবং গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তারা সাংবাদিকদের অফিসে গিেিয় কথা বলার পরামর্শ দেন।
তবে উপজেলা কৃষি অফিসার মেহেদী হাসান জানান, তিনি যোগদানের পর নতুন করে কোনো ইটভাটার ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি।
‘নিপো’-এর নির্বাহী পরিচালক ও পরিবেশকর্মী আহম্মাদুল্লা বলেন, “অবৈধ ইটভাটার বিরেিদ্ধ প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।