
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
অধিকার প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানিয়ে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ১৭১তম সাঁওতাল বিদ্রোহ বা ‘হুল দিবস’ উদযাপিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটা মোড় ও বাগদা ফার্ম এলাকায় পৃথক পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির ব্যানারে আয়োজিত এসব কর্মসূচির মধ্যে ছিল— বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, শোভাযাত্রা ও আলোচনা সমাবেশ।
সুফল হেমরমের সভাপতিত্বে কাটা মোড় এলাকায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আমিনুল ফরিদ, আদিবাসী ইউনিয়নের সভাপতি রেবেকা সরেন, সাধারণ সম্পাদক শ্রীকান্ত মাহাতো, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের দপ্তর সম্পাদক ছামিউল আলম রাসু, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন এবং কৃষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তাজুল ইসলাম। এছাড়া আরও বক্তব্য দেন যোজ্ঞেশ্বর বর্মন, বার্নাবাস টুডু, গনেশ মুরমু, জাফরুল ইসলাম প্রধান, আজমল হোসেন, আতাউর রহমান, চামিল হেমরম, রুমিলা কিসকু ও মাহালয়া প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “স্বাধীনতার ৫০ বছরেরও বেশি সময় পার হলেও সাঁওতালরা আজও তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। ২০১৬ সালে গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের বাড়ি-ঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ ও তিন সাঁওতালকে হত্যার ঘটনার বিচার আজও সম্পন্ন হয়নি।” বক্তারা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং সাঁওতালদের বাপ-দাদার পৈতৃক সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে, সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির অপর অংশ বাগদা ফার্ম এলাকায় পৃথক কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল শহীদ বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, শোভাযাত্রা ও সমাবেশ। সংগঠনের সভাপতি ফিলিমন বাসকের সভাপতিত্বে এ সমাবেশে বক্তব্য দেন-রাফায়েল হাঁসদা, আব্দুল আজিজ, বিটিশ সরেন, আনিসুর রহমান ময়নুল, আমিন হেমরম, অলিভিয়া হেমরম, ফিলিপ বাসকে, বিমল বেসরা, রিপন বেসরা জয়, সাহেব মুরমু, অঞ্জলি মুরমু ও সিউলি টুডু প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন ভারতের ভাগলপুরে ব্রিটিশ শাসক, স্থানীয় জমিদার ও মহাজনদের জুলুম-নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রথম সাঁওতাল বিদ্রোহের সূচনা হয়। ঐতিহাসিক সেই সশস্ত্র সংগ্রামে সাঁওতাল নেতা সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরবসহ বহু সাঁওতাল বীর শহীদ হন। সাঁওতালদের কাছে এই বিদ্রোহ ‘হুল’ নামে পরিচিত। তখন থেকেই প্রতি বছর ৩০ জুন বিশ্বজুড়ে সাঁওতাল সম্প্রদায় ‘হুল দিবস’ বা সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

Reporter Name 


















