Dhaka ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
খোলা বাজারে সরকারি বীজ বিক্রির দায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড গোবিন্দগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার সাঁতরে পার হওয়ার সময় বাঙালি নদীতে এক বৃদ্ধ নিখোঁজ ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিতে রাজি মিয়ানমার: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেফতার সাঘাটায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বানে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ সাঘাটায় বিদেশে পাঠানোর নামে ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ! সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি লাওসে এশিয়া ন্যাশনাল ওয়াটার কনসালটেটিভ মিটিংয়ে এমপি মিলন নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার সবসময় থাকবে: এমপি মমতাজ আলো

চালকুমড়ো ও আদার সমন্বিত চাষে সাঁওতাল নারী রুজিনা টুডুর অভাবনীয় সফলতা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০৭:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • ৭২ Time View

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

সঠিক কারিগরি জ্ঞান, নিজস্ব উদ্যোগ এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তির সমন্বয়ে প্রান্তিক ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবিকা উন্নয়ন সম্ভব-তা অনন্যভাবে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন সাঁওতাল নারী রুজিনা টুডু। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া আদিবাসী পল্লির এই নারী এখন এলাকার অনেকের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। তিনি স্থানীয় ‘ময়না পাখি’ সেলফ রিলায়েন্স গ্রুপ (এসআরজি)-এর একজন সক্রিয় সদস্য। বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) বাস্তবায়িত ও স্ট্রমি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় পরিচালিত ‘সিডস’ প্রকল্পের কারিগরি ও প্রশিক্ষণ সহায়তায় রুজিনা সমন্বিত সবজি চাষে এই চমৎকার সফলতা অর্জন করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুজিনা টুডু জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে একই জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করেছেন। তিনি বুদ্ধিমত্তার সাথে চালকুমড়ার মাচার নিচের ছায়াযুক্ত স্থানে সাথি ফসল হিসেবে আদা চাষ করেছেন। এর পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে বস্তায় আদা চাষও করছেন তিনি। সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব উপায়ে নিরাপদ ও ভালো ফলন পেতে তিনি কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহার করেননি; বরং ব্যবহার করেছেন সম্পূর্ণ জৈব কম্পোস্ট সার। বর্তমানে ফসলের চমৎকার ফলন দেখে রুজিনা ও তার পরিবার ভালো লাভের আশা করছেন। রুজিনার এই ব্যক্তিগত সফলতা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ‘ময়না পাখি’ গ্রুপের অন্য সদস্যরাও এখন নিজ উদ্যোগে এই উদ্ভাবনী পদ্ধতিতে সবজি চাষ শুরু করেছেন।

কৃষিতে এই অভাবনীয় সাফল্যের ছোঁয়া লেগেছে রুজিনা টুডু’র পারিবারিক জীবনেও। স্বামী নরেন টুডু এবং দুই সন্তান-ছেলে মিণ্টন বাবু ও মেয়ে মারমা মুরমু-কে নিয়ে তাদের এখন সচ্ছল সংসার। এই কৃষিজ আয় এবং আর্থিক সচ্ছলতার ওপর ভর করে তিনি তার দুই সন্তানকেই উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পাস করিয়েছেন। একসময়ের অভাব-অনটনে থাকা প্রান্তিক এই পরিবারটি এখন বেশ সুখে-শান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন।

সিডস প্রকল্পের প্রকল্প অফিসার মাহমুদুল হাসান রুমেন জানান, “জলবায়ু সহনশীল শস্য চাষাবাদে নারীদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি আমরা তাদের নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান এবং স্থানীয় কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ নিয়ে তারা এখন সফলভাবে সবজি চাষ করছেন।”

উল্লেখ্য, স্ট্রমি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি, সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে প্রান্তিক ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনমান ও টেকসই জীবিকা উন্নয়নে এই ‘সিডস’ প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করে আসছে। রুজিনা টুডু’র মতো উদ্যমী নারীদের হাত ধরে এই প্রকল্প গ্রামীণ অর্থনীতি ও নারীর ক্ষমতায়নে এক ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

খোলা বাজারে সরকারি বীজ বিক্রির দায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড

চালকুমড়ো ও আদার সমন্বিত চাষে সাঁওতাল নারী রুজিনা টুডুর অভাবনীয় সফলতা

Update Time : ০৩:০৭:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

সঠিক কারিগরি জ্ঞান, নিজস্ব উদ্যোগ এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তির সমন্বয়ে প্রান্তিক ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবিকা উন্নয়ন সম্ভব-তা অনন্যভাবে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন সাঁওতাল নারী রুজিনা টুডু। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া আদিবাসী পল্লির এই নারী এখন এলাকার অনেকের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। তিনি স্থানীয় ‘ময়না পাখি’ সেলফ রিলায়েন্স গ্রুপ (এসআরজি)-এর একজন সক্রিয় সদস্য। বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) বাস্তবায়িত ও স্ট্রমি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় পরিচালিত ‘সিডস’ প্রকল্পের কারিগরি ও প্রশিক্ষণ সহায়তায় রুজিনা সমন্বিত সবজি চাষে এই চমৎকার সফলতা অর্জন করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুজিনা টুডু জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে একই জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করেছেন। তিনি বুদ্ধিমত্তার সাথে চালকুমড়ার মাচার নিচের ছায়াযুক্ত স্থানে সাথি ফসল হিসেবে আদা চাষ করেছেন। এর পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে বস্তায় আদা চাষও করছেন তিনি। সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব উপায়ে নিরাপদ ও ভালো ফলন পেতে তিনি কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহার করেননি; বরং ব্যবহার করেছেন সম্পূর্ণ জৈব কম্পোস্ট সার। বর্তমানে ফসলের চমৎকার ফলন দেখে রুজিনা ও তার পরিবার ভালো লাভের আশা করছেন। রুজিনার এই ব্যক্তিগত সফলতা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ‘ময়না পাখি’ গ্রুপের অন্য সদস্যরাও এখন নিজ উদ্যোগে এই উদ্ভাবনী পদ্ধতিতে সবজি চাষ শুরু করেছেন।

কৃষিতে এই অভাবনীয় সাফল্যের ছোঁয়া লেগেছে রুজিনা টুডু’র পারিবারিক জীবনেও। স্বামী নরেন টুডু এবং দুই সন্তান-ছেলে মিণ্টন বাবু ও মেয়ে মারমা মুরমু-কে নিয়ে তাদের এখন সচ্ছল সংসার। এই কৃষিজ আয় এবং আর্থিক সচ্ছলতার ওপর ভর করে তিনি তার দুই সন্তানকেই উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পাস করিয়েছেন। একসময়ের অভাব-অনটনে থাকা প্রান্তিক এই পরিবারটি এখন বেশ সুখে-শান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন।

সিডস প্রকল্পের প্রকল্প অফিসার মাহমুদুল হাসান রুমেন জানান, “জলবায়ু সহনশীল শস্য চাষাবাদে নারীদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি আমরা তাদের নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান এবং স্থানীয় কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ নিয়ে তারা এখন সফলভাবে সবজি চাষ করছেন।”

উল্লেখ্য, স্ট্রমি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি, সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে প্রান্তিক ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনমান ও টেকসই জীবিকা উন্নয়নে এই ‘সিডস’ প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করে আসছে। রুজিনা টুডু’র মতো উদ্যমী নারীদের হাত ধরে এই প্রকল্প গ্রামীণ অর্থনীতি ও নারীর ক্ষমতায়নে এক ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে।