
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতাঃ কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাজার জোড়গাছ হাটে খাস আদায়ে ইজারা প্রদানের লক্ষে নিলাম বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দরপত্র না পেয়ে সরকারী ভাবে শুরু করা হয় খাস খাজনা আদায়। ওই হাটে খাস খাজনা আদায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।এতে বিপুল পরিমান রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার অপরদিকে হয়রানির শিকার হচ্ছে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা।
জানা গেছে,কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাজার জোড়গাছ হাট। ঐতিহ্যবাহী ওই হাটটি প্রতিবছর বাংলা সনের শুরুতে নানা উৎসাহ-উদ্দিপনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে প্রতিযোগীতার মাধ্যমে নিলামে ডাক হয়।ডাকের মাধ্যমের সর্বোচ্চ দরদাতার নামে এক বছরের জন্য দেয়া হয় হাট। চলতি ১৪৩২বঙ্গাব্দে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ৫টি হাট বাজারের ইজারার জন্য দরপত্র আহবান করা হলে হাট বাজারগুলোকে নিয়ে সৃষ্ট সিন্ডিকেটের ফলে নিলাম প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।নিলাম বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২টি হাট-বাজার ইজারার জন্য দরপত্র পড়লেরও বাকি ৩টি হাটের বিপরিদে কোন দরপত্র পরেনি। দ্বিতীয় দফায় পুনঃনিলাম বিজ্ঞপ্তি আহ্বান করেও কোন দরপত্র পাওয়া যায়নি। দু’বারের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জোড়গাছ হাট-বাজার থেকে খাজনা আদায়ের লক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাপতিত্বে ৯সদস্য বিশিষ্ট খাস আদায় কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভায় গৃহিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত ১৬এপ্রিল থেকে সপ্তাহে দুটি হাটে (রবি ও বুধবার) সরকারী ভাবে খাস খাজনা আদায় শুরু করা হয়।আদায় পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয় রমনা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্তকর্তা মোঃফজলুল হককে।এই প্রক্রিয়া শুরু করায় পূর্বের ইজাদারের লোকজন কর্তৃক হয়রানী হওয়া ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে স্বস্তি আসে। হাট থেকে সঠিক খাজনা উঠবে এবং ক্রেতা-বিক্রেতারা হয়রানি হবে না এমন প্রত্যাশা দানা বাধে স্থানীয়দের বুকে।
কিন্তু সরকারীভাবে খাস খাজনা আদায় করতে গিয়েও ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ঐতিহ্্যবাহী ওই হাটটির কাঁচা বাজার,মাছ বাজার,কাঠ হাট,বাঁশ হাট,পান-সুপারি বাজারসহ বিভিন্ন ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছে খাস খাজনা আদায়ের নামে নেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা, দেয়া হচ্ছে না কোন রশিদ। ওই সব বাজারে বিভিন্ন জনকে আদায় করতে দেখা গেছে,যাদের অনেকের গলায় ঝুলছে কাড আবার অনেকের নেই কোন পরিচয় পত্র।খাজনা তুলতে নিয়োগ দেয়া আদায়কারীরা ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে দুর্ব্যবহার করছেন এবং জোড়পূর্বক রশিদ ছাড়াই অতিরিক্ত খাজনা তুলছেন বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ।
জোড়গাছ হাটের কাঠ ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া বলেন,সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হচ্ছে কিন্তু রশিদ দিচ্ছেনা আদায়কারীরা,কিছু বললে বিভিন্ন ভয়-ভিতী দেখায় তারা।খাদ্যশস্য ক্রেতা আ.খালেক বলেন,সারাদিনের মাল ক্রয়ের হিসাব অনুযায়ী খাজনা নিয়ে যায় কিন্তু কোন রশিদ দেয় না। একই অভিযোগ করে পান ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন,খাজনা কত সেটিও জানি না,তবে প্রতি হাটে বিনা রশিদে ৪০টাকা করে নেয় সরকারী কাড গলায় দিয়ে আসা লোকজন।চটি দোকান প্রতি ৫থেকে ১০টাকা নেয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে ওইসব দোকান থেকে ২০থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে জানিয়ে ব্যবসায়ী নুর আমিন বলেন,এলা বলে সরকারী ভাবে আদায় হচ্ছে খাজনা কিন্তু রশিদ দেয় না তো।স্থানীয় আমিনুল,ফাহমিদুল,রশিদসহ অনেকে বলেন,খাস খাজনা আদায় করা হচ্ছে সরকারী ভাবে এতেও যদি অনিয়ম আর দুর্নীতি হয়,রশিদ না দেয়া হয় তাহলে কত আদায় হচ্ছে আর রাজস্ব ভান্ডারে কত টাকা জমা হচ্ছে সেটি তো প্রশ্নবিদ্য থেকেই যাচ্ছে।অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগ এনে কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, অনেক আদায়কারী রয়েছে তারা একে তো অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে সাথে বাজে ব্যবহার করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,ঐতিহ্যবাহী ওই হাটটিতে সপ্তাহে দুদিন রোববার ও বুধবার হাট বসে। চিলমারীর পুরাতন ও বড় এই হাটটি পূর্ববর্তী বছরে নিলাম হয়েছিল ভ্যাট+ট্যাক্সসহ ১কোটি ৮৫লক্ষ ৩৮হাজার টাকায়।বর্তমানে এই হাটে মাছ, তরকারী,কাঠ,বিভিন্ন খাদ্যশস্য,মশলা জাতীয় পণ্যসহ প্রায় ৫শতাধিক ভ্রাম্যমান দোকান থেকে খাজনা উত্তোলন করা হচ্ছে।ওইসব ভ্রাম্যমান দোকান থেকে রশিদ না দিয়েই আদায় করা হচ্ছে এসব খাজনা।রশিদ ছাড়া এবং খাজনা তালিকা অপেক্ষা বেশী খাজনা নেয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।এদিকে এতবড় একটি হাট থেকে ৯দিনে আদায় দেখানো হয়েছে প্রায় ৮লক্ষ ২০হাজার টাকা মাত্র।
এবিষয়ে রমনা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্তকর্তা মোঃ ফজলুল হক বলেন,রশিদ ছাড়া আদায় হওয়ার কথা নয়। তবে রশিদ মুলে যা আদায় হয় সেটিই জমা হয়েছে।উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক বলেন,আমরা মনিটরিং বাড়িয়ে বিষয় গুলো ক্ষতিয়ে দেখছি।

Reporter Name 
























