Dhaka ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সাপাহারে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ দিনাজপুরে ৪৭ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উদ্বোধন রাণীনগরে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন রেজু এমপি শ্রীমঙ্গলে ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবা খুন, ভাই গুরুতর আহত সাঘাটায় পাঠাগার উদ্বোধন: ‘জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে পাঠাগারের বিকল্প নেই’ বর্ণিল শোভাযাত্রা ও নানা আয়োজনে গাইবান্ধায় বর্ষবরণ কানাডার ফেডারেল এমপি নির্বাচিত হয়ে প্রথম বাংলাদেশির রেকর্ড প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা আজ, শিক্ষার্থীদের মানতে হবে  ১০ নির্দেশনা সাপাহারে কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা মৌলভীবাজারে হবু স্ত্রীর সাথে প্রতারণা, হবু স্বামীকে পর্নোগ্ৰাফি মামলায় গ্রেপ্তার

পলাশবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৪৭:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জুন ২০২৫
  • ১০৭ Time View

মোঃ ফেরদাউছ মিয়াঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ ফাতেমা কাওসার মিশুর বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা নিয়ে চাকরি গ্রহণ, দায়িত্বে অবহেলা, আর্থিক অনিয়মসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, উপজেলার শরিফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি গত ৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে কৃষি উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহে লিখিতভাবে অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, ফাতেমা কাওসার মিশু ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ প্রদর্শন করে ৩২তম বিসিএস (বিশেষ) এর মাধ্যমে কৃষি ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে একই কর্মস্থল পলাশবাড়ী উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন, যা সরকারি চাকরি বিধিমালার পরিপন্থী।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত থাকেন এবং কর্মস্থলে যথাসময়ে উপস্থিত না হয়ে দায়িত্বে গাফিলতি করেন। নিজেকে ‘মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে চলাফেরা করেন বলেও জানা গেছে।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে কৃষি যন্ত্রপাতি, প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দকৃত প্রদর্শনী, সার, বীজ, প্রশিক্ষণ ভাতা, খাবার ও নাস্তার খরচ বাবদ অর্থ কম বিতরণ, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, ভূয়া ভাউচার ও ভ্রমণ বিল তৈরি করে সরকারি অর্থ উত্তোলন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থেকেও সম্মানী গ্রহণ এবং মাঠ পর্যায়ে কোনো কার্যক্রম ছাড়াই কাগজে-কলমে পরিদর্শনের তথ্য দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং অনেককেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও বদলি হতে বাধ্য করেছেন। সাধারণ কৃষকেরা সেবা চাইলে তিনি সবসময় ব্যস্ততা দেখিয়ে এড়িয়ে যান এবং তাদের প্রতি সাহায্য করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। অভিযোগকারী বলেন, “তিনি বলেন, ‘আমি বিসিএস ক্যাডার, কিভাবে চাকরি করবো তা আমার বিষয়।’ এ ধরনের মনোভাব একজন সরকারি কর্মকর্তার পেশাদারিত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।”
এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, একজন বদমেজাজি, দায়িত্বহীন ও দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার কারণে পলাশবাড়ী উপজেলার কৃষিসেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যদি দ্রুত তদন্ত শেষ করে সঠিক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে কৃষি কার্যক্রমে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে।
সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি স্থানীয়দের জোরালো দাবি, এমন গুরুতর অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কারণ, একজন কৃষি কর্মকর্তার নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতা প্রশ্নের মুখে পড়লে সমগ্র কৃষি সেবা ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

kartick kartick

Popular Post

সাপাহারে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ

পলাশবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ

Update Time : ০৮:৪৭:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জুন ২০২৫

মোঃ ফেরদাউছ মিয়াঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ ফাতেমা কাওসার মিশুর বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা নিয়ে চাকরি গ্রহণ, দায়িত্বে অবহেলা, আর্থিক অনিয়মসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, উপজেলার শরিফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি গত ৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে কৃষি উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহে লিখিতভাবে অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, ফাতেমা কাওসার মিশু ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ প্রদর্শন করে ৩২তম বিসিএস (বিশেষ) এর মাধ্যমে কৃষি ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে একই কর্মস্থল পলাশবাড়ী উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন, যা সরকারি চাকরি বিধিমালার পরিপন্থী।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত থাকেন এবং কর্মস্থলে যথাসময়ে উপস্থিত না হয়ে দায়িত্বে গাফিলতি করেন। নিজেকে ‘মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে চলাফেরা করেন বলেও জানা গেছে।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে কৃষি যন্ত্রপাতি, প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দকৃত প্রদর্শনী, সার, বীজ, প্রশিক্ষণ ভাতা, খাবার ও নাস্তার খরচ বাবদ অর্থ কম বিতরণ, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, ভূয়া ভাউচার ও ভ্রমণ বিল তৈরি করে সরকারি অর্থ উত্তোলন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থেকেও সম্মানী গ্রহণ এবং মাঠ পর্যায়ে কোনো কার্যক্রম ছাড়াই কাগজে-কলমে পরিদর্শনের তথ্য দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং অনেককেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও বদলি হতে বাধ্য করেছেন। সাধারণ কৃষকেরা সেবা চাইলে তিনি সবসময় ব্যস্ততা দেখিয়ে এড়িয়ে যান এবং তাদের প্রতি সাহায্য করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। অভিযোগকারী বলেন, “তিনি বলেন, ‘আমি বিসিএস ক্যাডার, কিভাবে চাকরি করবো তা আমার বিষয়।’ এ ধরনের মনোভাব একজন সরকারি কর্মকর্তার পেশাদারিত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।”
এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, একজন বদমেজাজি, দায়িত্বহীন ও দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার কারণে পলাশবাড়ী উপজেলার কৃষিসেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যদি দ্রুত তদন্ত শেষ করে সঠিক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে কৃষি কার্যক্রমে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে।
সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি স্থানীয়দের জোরালো দাবি, এমন গুরুতর অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কারণ, একজন কৃষি কর্মকর্তার নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতা প্রশ্নের মুখে পড়লে সমগ্র কৃষি সেবা ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।