
প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
ব্রহ্মপুত্র নদে গাইবান্ধার বালাসী ঘাট থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার খোলাবাড়ী পর্যন্ত সড়কসহ রেলসেতু/টানেল নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে বাহাদুরাবাদ-জামালপুর রুটে সড়ক ও রেল যোগাযোগ নিশ্চিত করে রংপুর বিভাগের ৮ জেলার অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণের দাবি জানানো হয়।
গত শনিবার (২৬ জুন) সকাল ১১টায় গাইবান্ধার গানাসাস মার্কেটের সামনে ‘ব্রহ্মপুত্র নদে বালাসী থেকে খোলাবাড়ী পর্যন্ত সড়ক ও রেলসেতু বাস্তবায়ন কেন্দ্রীয় কমিটি’র উদ্যোগে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আশরাফ আলী বলেন: “ব্রহ্মপুত্র নদে সড়ক ও রেলসেতু নির্মিত হলে গাইবান্ধা জেলা প্রান্তিক শহরের স্থবিরতা থেকে রক্ষা পাবে। এই সেতুর মাধ্যমে হিলি, সোনাহাট ও চিলাহাটি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি পণ্য দ্রুততম সময়ে রাজধানী ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন করা সম্ভব হবে, যা পণ্য পরিবহন খরচ অনেকাংশে কমিয়ে আনবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নদী শাসনের মাধ্যমে বালাসী থেকে খোলাবাড়ী পর্যন্ত প্রস্তাবিত এই সেতুর দৈর্ঘ্য হবে মাত্র ৪.৫০ কিলোমিটার। দেশের তিস্তা, যমুনা, পদ্মা, কর্ণফুলী ও মেঘনা নদীতে বৃহৎ সব সেতু বা টানেল নির্মাণ করা হলেও ব্রহ্মপুত্র নদে এখন পর্যন্ত কোনো সেতু নির্মিত হয়নি। যথাযথ নদী শাসনের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায়, বিশেষ করে সুন্দরগঞ্জ, রাজিবপুর, ফুলছড়ি ও চিলমারীর চরাঞ্চলগুলোতে কম দামে জমি পেয়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে আগ্রহী হবেন। ফলে এই অঞ্চলে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
কমিটির সাধারণ সম্পাদক জে.এইচ মুজকুরী অনুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বালাসী-খোলাবাড়ী সেতু নির্মাণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে আরও বক্তব্য রাখেন— আনোয়ারুল ইসলাম লেবু, অ্যাডভোকেট মোস্তফা মনিরুজ্জামান, আজিজার রহমান, আব্দুল হালিম, অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রেজা, রেজাউল করিম জুয়েল, অ্যাডভোকেট সৈয়দ কামরুল হাসান লিখন, আলহাজ্ব আব্দুল মোত্তালেব, শামসুজ্জোহা ও আজিজার মাস্টার প্রমুখ।
বক্তারা অনতিবিলম্বে এই সেতু বা টানেল নির্মাণের জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

Reporter Name 


















