
আফতাব হোসেন: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হাইস্কুল- বটতলা থেকে ডাকবাংলা বাজার পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ (ওয়াপদা) বাঁধটি চরম বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধটি সংস্কার করলেও সঠিক দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি আবার আগের মতোই জরাজীর্ণ রূপ ধারণ করছে।
বাঁধের ওপর দিয়ে অবাধে ভারী ট্রাক্টর চলাচলের কারণে রাস্তাটি এখন সম্পূর্ণ পথচারীদের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় আবদুল জলিল অভিযোগ, দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকার পর সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ড এই গুরুত্বপূর্ণ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটির সংস্কার কাজ শেষ করে। এতে এলাকাবাসীর মনে স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু বাঁধের ওপর দিয়ে মাটি ও বালুবাহী ভারী ট্রাক্টর (কাকড়া গাড়ি) বেপরোয়াভাবে চলাচল করায় টেকসই করার আগেই বাঁধটি ধসে ও দেবে যাচ্ছে। চাকার গভীর গর্ত আর ধুলো-কাদায় একাকার হয়ে পথচারী ও ছোটখাটো যানবাহনের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বটতলা থেকে ডাকবাংলা বাজার পর্যন্ত এই বাঁধের বেশ কয়েকটি স্থান ইতিমধ্যে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যেকোনো মুহূর্তে বাঁধের বড় অংশ ধসে গিয়ে আসন্ন বর্ষা বা বন্যায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পাউবো কোটি কোটি টাকা খরচ করে বাঁধটা ঠিক করল, কিন্তু প্রশাসন বা পাউবোর কোনো দেখভাল নাই। দিন-রাত শত শত ট্রাক্টর চলায় বাঁধের মাটি সব আলগা হয়ে গেছে। এখন আমাদের হেঁটে চলার উপায়ও নেই। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে বাঁধের ওপর দিয়ে ভারী ও অবৈধ ট্রাক্টর চলাচল বন্ধ করতে হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো দ্রুত মেরামত করে বাঁধটি রক্ষায় কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে সরকারের এই বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি আগামী বন্যায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে সাঘাটার সাধারণ মানুষ।

Reporter Name 



















