Dhaka ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গাইবান্ধায় স্ববল প্রকল্পের আওতায় ৫ হাজার ৭৬০টি গাছের চারা বিতরণ এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তি, যুবক গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তি, যুবক গ্রেফতার সুন্দরগঞ্জে চার মিনিটে তিন ককটেল বিস্ফোরণ, এলাকায় আতঙ্ক সুন্দরগঞ্জে ৪ মিনিটে ৩ ককটেল বিস্ফোরণ, এলাকায় আতঙ্ক তরুণ ও প্রবীণ ওলামায়ে কেরামের উদ্যোগে সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল ৩২ বছরের পুরোনো এক্স-রে মেশিনে চলছে চিকিৎসা, রোগীদের চরম ভোগান্তি এ কেমন অমানুষের দেশ!’: শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে কাঠগড়ায় সমাজ ও রাষ্ট্র! উন্নত প্রযুক্তির নামে গ্রাহকের পকেট কাটছে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার

সাদুল্লাপুরে জাহিদের খামারে কোরবানীর জন্য প্রস্তুত মরুর প্রাণী দুম্বা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • ১৫১ Time View

তোফায়েল হোসেন জাকির, সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা): গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকার খামার থেকে শুরু করে প্রান্তিক কৃষকরা ঈদুল আযহায় কোরবানীর জন্য গরু-ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত করে রাখলেও কাউকে দুম্বা প্রস্তুত রাখতে দেখা যায়নি। তবে এ বছর জাহিরুল ইসলাম জাহিদ নামের এক যুবকের খামারে কোরবানির জন্য বিক্রি করা হবে চারটি দুম্বা। উন্নত জাতের এই দুম্বাগুলো ক্রয়ের জন্য ইতোমধ্যে ক্রেতাদের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে।

মরুর প্রাণী দুম্বার এই খামারটি গড়ে উঠেছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার দড়ি জামালপুর গ্রামে। এ গ্রামের মৃত তারা মন্ডলের ছেলে খামারি জাহিদ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাহিরুল ইসলাম জাহিদ এক সময়ে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের একটি দুম্বার খামার ভিজিট করেন। সেই থেকে নিজেও উদ্যোক্তা হওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এরপর প্রাথমিক অভিজ্ঞতায় গত বছরে এজেন্টের মাধ্যমে ভারত থেকে টার্কি ও আওয়াসি জাতের পাঁঠাসহ পাঁচটি দুম্বা কিনেছেন। এরপর পরিকল্পনা অনুয়ায়ী মাচা পদ্ধতিতে এই পশু পালন শুরু করেছেন জাহিদ। এরই মধ্যে পেয়েছেন ৪ টি বাচ্চাও। ইতোমধ্যে ২টি বাচ্চা ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে লাভের মুখ দেখেছেন তিনি। আসছে কোরবানী ঈদে আরও ৪টি দুম্বা বিক্রির জন্য প্রস্তুত রখেছেন। এ অবস্থায় ধীরে ধীরে খামার সম্প্রাসরাণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ থেকে নিজে স্বাবলম্বী হওয়াসহ অন্যদেরও কর্মসংস্থানের আশা করছেন  উদ্যোক্তা জাহিরুল ইসলাম জাহিদ।

স্থানীয়রা বলছেন, দুম্বা মরু অঞ্চলের প্রাণী হলেও বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে দুম্বা পালন শুরু হয়েছে। এখানে প্রতিদিন উৎসুক জনতা আসেন। এই প্রথম নিজ চোখে দুম্বা দেখতে পেয়ে অনেকটা আনন্দিত ও পালনে আগ্রহ জাগছে তাদের।

ফয়জার রহমান নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, আমরা জানি দেশের বাইরে মরু অঞ্চলে দুম্বা পালন করা হয়। আর দুম্বার নাম অনেক শুনেছি কিন্তু বাস্তবে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে উদ্যোক্তা জাহিদ। প্রায়ই এই খামারটি দেখতে আসি। চিন্তা করছি আগামীতে আমিও দুম্বার খামার দিব।

এ বিষয়ে উদ্যোক্তা জাহিদের ছোট ভাই জিন্না মন্ডল বলেন, দুম্বাকে পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করতে খাবারের ব্যবস্থাপনা জরুরি। প্রতিদিন দুম্বাগুলোকে নেপিয়ার ঘাস, খড়, ভুসি প্রভৃতি পরিমাণ মতো দিনে ৩ বার খাবার দিতে হয়। তবে গরু- ছাগলের চেয়ে সহজে দুম্বা পালন করা যায়।

উদ্যোক্তা জাহিরুল ইসলাম জাহিদ বলেন, শখ ছিল যে আমি আনকমন কিছু একটা করবো। আমি যদি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে পারি তাহলে সবাই এ দুম্বা কিনে কোরবানি ঈদে কোরবানি দিতে পারবে। যেহেতু এটা সুন্নতি প্রাণী, এ উদ্দেশ্য নিয়ে আমার যাত্রা শুরু করা। এবার কোরবানি ঈদে ৪টি দুম্বা বিক্রি করব। তবে ঝুঁকি ছাড়াই দুম্বা পালন অত্যন্ত লাভজনক।

সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, দুম্বা পালন বেশ লাভজনক। জাহিদ নামের যুবক দুম্বার খামার করে সফল হয়েছেন। আমরা তাকে সর্বাত্নকভাবে সহযোগিতা করছি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গাইবান্ধায় স্ববল প্রকল্পের আওতায় ৫ হাজার ৭৬০টি গাছের চারা বিতরণ

সাদুল্লাপুরে জাহিদের খামারে কোরবানীর জন্য প্রস্তুত মরুর প্রাণী দুম্বা

Update Time : ০২:২১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

তোফায়েল হোসেন জাকির, সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা): গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকার খামার থেকে শুরু করে প্রান্তিক কৃষকরা ঈদুল আযহায় কোরবানীর জন্য গরু-ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত করে রাখলেও কাউকে দুম্বা প্রস্তুত রাখতে দেখা যায়নি। তবে এ বছর জাহিরুল ইসলাম জাহিদ নামের এক যুবকের খামারে কোরবানির জন্য বিক্রি করা হবে চারটি দুম্বা। উন্নত জাতের এই দুম্বাগুলো ক্রয়ের জন্য ইতোমধ্যে ক্রেতাদের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে।

মরুর প্রাণী দুম্বার এই খামারটি গড়ে উঠেছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার দড়ি জামালপুর গ্রামে। এ গ্রামের মৃত তারা মন্ডলের ছেলে খামারি জাহিদ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাহিরুল ইসলাম জাহিদ এক সময়ে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের একটি দুম্বার খামার ভিজিট করেন। সেই থেকে নিজেও উদ্যোক্তা হওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এরপর প্রাথমিক অভিজ্ঞতায় গত বছরে এজেন্টের মাধ্যমে ভারত থেকে টার্কি ও আওয়াসি জাতের পাঁঠাসহ পাঁচটি দুম্বা কিনেছেন। এরপর পরিকল্পনা অনুয়ায়ী মাচা পদ্ধতিতে এই পশু পালন শুরু করেছেন জাহিদ। এরই মধ্যে পেয়েছেন ৪ টি বাচ্চাও। ইতোমধ্যে ২টি বাচ্চা ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে লাভের মুখ দেখেছেন তিনি। আসছে কোরবানী ঈদে আরও ৪টি দুম্বা বিক্রির জন্য প্রস্তুত রখেছেন। এ অবস্থায় ধীরে ধীরে খামার সম্প্রাসরাণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ থেকে নিজে স্বাবলম্বী হওয়াসহ অন্যদেরও কর্মসংস্থানের আশা করছেন  উদ্যোক্তা জাহিরুল ইসলাম জাহিদ।

স্থানীয়রা বলছেন, দুম্বা মরু অঞ্চলের প্রাণী হলেও বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে দুম্বা পালন শুরু হয়েছে। এখানে প্রতিদিন উৎসুক জনতা আসেন। এই প্রথম নিজ চোখে দুম্বা দেখতে পেয়ে অনেকটা আনন্দিত ও পালনে আগ্রহ জাগছে তাদের।

ফয়জার রহমান নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, আমরা জানি দেশের বাইরে মরু অঞ্চলে দুম্বা পালন করা হয়। আর দুম্বার নাম অনেক শুনেছি কিন্তু বাস্তবে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে উদ্যোক্তা জাহিদ। প্রায়ই এই খামারটি দেখতে আসি। চিন্তা করছি আগামীতে আমিও দুম্বার খামার দিব।

এ বিষয়ে উদ্যোক্তা জাহিদের ছোট ভাই জিন্না মন্ডল বলেন, দুম্বাকে পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করতে খাবারের ব্যবস্থাপনা জরুরি। প্রতিদিন দুম্বাগুলোকে নেপিয়ার ঘাস, খড়, ভুসি প্রভৃতি পরিমাণ মতো দিনে ৩ বার খাবার দিতে হয়। তবে গরু- ছাগলের চেয়ে সহজে দুম্বা পালন করা যায়।

উদ্যোক্তা জাহিরুল ইসলাম জাহিদ বলেন, শখ ছিল যে আমি আনকমন কিছু একটা করবো। আমি যদি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে পারি তাহলে সবাই এ দুম্বা কিনে কোরবানি ঈদে কোরবানি দিতে পারবে। যেহেতু এটা সুন্নতি প্রাণী, এ উদ্দেশ্য নিয়ে আমার যাত্রা শুরু করা। এবার কোরবানি ঈদে ৪টি দুম্বা বিক্রি করব। তবে ঝুঁকি ছাড়াই দুম্বা পালন অত্যন্ত লাভজনক।

সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, দুম্বা পালন বেশ লাভজনক। জাহিদ নামের যুবক দুম্বার খামার করে সফল হয়েছেন। আমরা তাকে সর্বাত্নকভাবে সহযোগিতা করছি।