
সাদুল্লাপুর প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত এক মাদ্রাসা সুপার দীর্ঘ প্রায় দুই মাস অনুপস্থিত থাকার পর গোপনে প্রতিষ্ঠানে ঢুকে একদিনেই ১৮ কার্যদিবসের হাজিরা স্বাক্ষর করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত মাওলানা মুহা. রেজাউল করিম উপজেলার ইসবপুর দ্বি-মূখী ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট।
স্থানীয়দের তোপের মুখে দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানে না এলেও গত ১৮ জানুয়ারি তিনি গোপনে মাদরাসায় প্রবেশ করেন এবং চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। এ ঘটনায় অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সুপার রেজাউল করিম দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে আসছেন। তার বিরুদ্ধে রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর একেএম আজিজুল বারীর সঙ্গে যোগসাজশে গোপনে অবৈধ ম্যানেজিং কমিটি গঠন, নিয়োগ বাণিজ্য এবং শিক্ষকদের বেতন স্কেল বৃদ্ধির কথা বলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তিনি সাধারণ তহবিলের অর্থ তছরুপ এবং বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষক-কর্মচারীদের শোকজ করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর তা প্রত্যাহার করার মতো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত।
অভিযোগের মাত্রা ছাড়িয়েছে তার স্বজনপ্রীতি। নিয়মবহির্ভূতভাবে গত ২৫ অক্টোবর গোপনে পকেট কমিটি গঠন করেন তিনি। এমনকি তার ছেলে তানভরুল ইসলামকে ২০২৫ সালে একইসাথে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থী দেখিয়ে প্রক্সির মাধ্যমে পাস করানোর অভিযোগও রয়েছে। বর্তমানে সেই ছেলেকে প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন বলে এলাকাবাসী জানান।
এসব অনিয়মের বিষয়ে মাদরাসার সহকারী সুপার খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘সুপার মহোদয় প্রায়দুই মাস ধরে প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ গত ১৮ জানুয়ারি মাদরাসায় এসে হাজিরা খাতায়১ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত স্বাক্ষর করে গেছেন।’
মাদরাসার অভিভাবক কুদ্দুস শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রেজাউল করিমের সীমাহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছি, বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু তিনি উল্টো প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছেন। আমরা দ্রুত তার অপসারণ দাবি করছি।’
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার হারুন অর রশিদ তদন্তের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ইসবপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটি বিধিবর্হিভূতভাবে গঠন করা হয়েছে। তদন্তকাালে সুপারের বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।’
গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, ‘একজন প্রতিষ্ঠান প্রধানের পক্ষে একইদিনে ১৮ কার্যদিবসের স্বাক্ষর করা মোটেও ঠিক নয়। এটি গুরুতর অসদাচরণ। তার দুর্নীতির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা মুহা. রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

Reporter Name 
























