
নিজস্ব প্রতিবেদক: গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় রাস্তায় মাটি দেওয়া নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম সোনাসহ (৪৬) ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও আসামীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন মর্মে দাবি ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম সোনার।
শহিদুল ইসলাম সোনা উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের মধ্য হাটবামুনী গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে এবং কামারপাড়া ইউনিয়ন শাখা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক।
মামলা সুত্রে জানা গেছে, শহিদুল ইসলাম সোনা নিজ পুকুরে মাছের উৎপাদন বাড়াতে পুকুরের মাটি কেটে
মহেন্দ্র ট্রাক্টরে করে সাদুল্লাপুর-নলডাঙ্গা রাস্তার কাজে দিতেন। এই রাস্তায় একই উপজেলার প্রতিপক্ষ পূর্ব দামোদরপুর গ্রামের মৃত আঃ কুদ্দুছ মিয়ার ছেলে মাটি ব্যবসায়ী আঃ খালেক নিজে মাটি দিতে না পেরে শহিদুল ইসলাম সোনাকে মাটি দিতে নিষেধ করেন। নিষেধের পরেও মাটি দিতে থাকলে প্রতিপক্ষ আঃ খালেক তার পক্ষের লোকজন নিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করেন। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করিলে ক্ষিপ্ততা পোষন করে আসেন।
এমতাবস্থায় ২৭ জুন সকাল আনুমানিক ৭টায় শহিদুল ইসলাম সোনা দামোদরপুর গ্রামের জনৈক সুজা মিয়ার মুদির দোকানে গেলে ক্ষিপ্ত প্রতিপক্ষ ঘটনার জের ধরে পূর্ব-পরিকল্পিত ভাবে হাতে লাঠি, লোহার রড ও ছোরা নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে বর্বরোচিত হামলা করে শহিদুল ইসলাম সোনাকে গুরুতর আহত করেন। খবর পেয়ে ছেলে বিপ্লব হোসেনসহ প্রতিবেশী হুমায়ন মিয়া উদ্ধারে এগিয়ে এলে তাদেরও বেধড়ক আঘাত করে আহত করা হয়। এ সময় আহতদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে সাদুল্লাপুর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম সোনা গত ০২ জুলাই আঃ খালেকসহ ১০ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০/৩০ জনকে অভিযুক্ত করে সাদুল্লাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্ত আঃ খালেকের দাবি, শহিদুল ইসলাম সোনা পার্শবর্তী প্রতিবেশী। কোথায় কি নিয়ে বিরোধে তিনি হামলার শিকার হয়েছেন আমি জানি না। তবে আমার বাড়ির সামনের কাঁচা রাস্তা দিয়ে মহেন্দ্র ট্রাক্টর দিয়ে সাদুল্লাপুর-নলডাঙ্গা রাস্তায় মাটি বহন করায় অক্ষত রাস্তাটি খানাখন্দে পরিনত হয়ে যানবাহনসহ লোকজনের চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। এতে গ্রামের লোকজন বাধা দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমার নামে মিথ্যা মামলা করেন। এরপর লোকজন লেলিয়ে দিয়ে আমার বাড়িঘরে হামলা করে ভাংচুরের ঘটনা ঘটান।
ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম সোনার দাবী, আমার বিরুদ্ধে আঃ খালেকের আনিত অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন। আঃ খালেক একজন আওয়ামীলীগ নেতা। সরকার পরিবর্তন হলেও তার দাম্ভিকতার পরিবর্তন হয়নি। সে মামলা থেকে বাঁচার কৌশল নিতে নিজের বাড়িঘর নিজে ভাংচুর করে আমাকেসহ আমার দলীয় নেতাকর্মীদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। এ ছাড়াও আমার দলীয় কিছু লোকজনকে উস্কে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। আমি তার এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

Reporter Name 



















