
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পাগলা কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে আফরোজা বেগম নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল আটটার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি । তার বাড়ি উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের ঝাকুয়া পাড়ায়। এ নিয়ে সুন্দরগঞ্জে কুকুরের কামড়ে মারা গেলেন মোট ৪ জন। কুকুরের কামড়ে একে একে ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্বজনরা জানান, প্রায় ২০ দিন আগে একটি বেওয়ারিশ পাগলা কুকুর আফরোজা বেগমকে কামড় দেয়। এরপর দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া হয় এবং সম্পূর্ণ র্যাবিস ভ্যাকসিনও গ্রহণ করেন তিনি। কিন্তু এরপরও অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে তার মৃত্যু হয়। এর আগে গত ২২ এপ্রিল উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ি, কঞ্চিবাড়ি গ্রাম ও পাশের ছাপড়হাটী ইউনিয়নের মন্ডলেরহাট এলাকায় একটি পাগলা কুকুরের আক্রমণে দুই শিশু ও দুই নারীসহ অন্তত ১৩ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়।
আক্রান্তদের স্বজনরা বলেন, কুকুর কামড়ানোর পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত র্যাবিস ভ্যাকসিন না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদেরকে। পরে বিভিন্ন ফার্মেসি ও বেসরকারি ক্লিনিক থেকে অতিরিক্ত দামে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে হয়েছে।
এর আগে কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামের নন্দ রানী (৫৫) ও ফুলু মিয়া গত ৬ মে মারা যান। ৮ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান রাজমিস্ত্রি রতনেশ্বর কুমার। সর্বশেষ আফরোজা বেগমের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো চারজনে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় এখন শিশুদের বাইরে বের হতে দিচ্ছেন না অনেক পরিবার। পাগলা কুকুরের আতঙ্কে পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও শঙ্কা বিরাজ করছে। তারা পর্যাপ্ত র্যাবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ, আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ এবং বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।