Dhaka ০১:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গণমাধ্যমের অন্দরমহলে নিঃশব্দ মৃত্যুমিছিল:কাল হয়তো আমরা কেউ… ব্যবসায়ীর মুখোশে ভয়ংকর প্রতারণা: হাতিয়েছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার দেড় লক্ষ টাকা স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু নভেম্বরের মাঝামাঝিতে খাটের নিচে লুকোচুরি: মামী-ভাগ্নের কাণ্ডে পলাশবাড়িতে তুলকালাম মেসির উদাহরণ টেনে ইয়ামালকে সতর্ক করলেন সাবেক বার্সা তারকা তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে প্রবাসীদের ব্যাপক প্রস্তুতি রুশ ড্রোনের নিশানায় সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক সিআইএ প্রধান ? ৫ কোটি টাকার পানি শোধনাগার দুই বছরেও চালু হয়নি , ১৫ দিনের মধ্যে চালুর আল্টিমেটাম সার্ভার হ্যাক করে এনআইডি-সিডিআরসহ গোপন তথ্য সরবরাহ; যুবক গ্রেপ্তার জাভা সাগরে উল্টে গেল যাত্রীবাহী জাহাজ, ৬ জনের মৃত্যু—নিখোঁজ ১৩০

সুন্দরগঞ্জ প্রধান ডাকঘরের বেহাল দশা, দেখার কেউ নেই!

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৪১:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ৫০ Time View

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার প্রধান ডাকঘরটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিনিয়ত ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতারা। চরম ঝুঁকি আর অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চললেও বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের যেন কোনো হেলদোল নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে নির্মিত এই ভবনটির অবস্থা এখন জরাজীর্ণ। বর্ষার দিনে ছাদ চুঁয়ে পানি পড়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাগজপত্র ও নথি ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া সত্ত্বেও ডাকঘরের গুরুত্ব কমেনি; এখনও পাবলিক পরীক্ষার খাতা, সরকারি দপ্তরের অতি জরুরি চিঠিপত্র, রেভিনিউ স্টাম্প বিক্রিসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ এই ডাকঘরের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। অথচ চরম ঝুঁকি নিয়ে মাথার ওপর বিপদের আশঙ্কা বহন করে প্রতিদিন কাজ করতে হচ্ছে কর্মচারীদের।

উল্লেখ্য, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় দুইটি প্রধান ডাকঘরের (সুন্দরগঞ্জ ও বামনডাঙ্গা) অধীনে মোট ২৮টি শাখা ডাকঘর রয়েছে। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ প্রধান ডাকঘরের অধীনে রয়েছে ১২টি শাখা। প্রতিদিন এসব শাখা ডাকঘরের পিয়নদের চিঠিপত্র আনা-নেওয়ার কাজে এই প্রধান কার্যালয়ে আসতে হয়।

সেবা নিতে আসা দহবন্দ ইউনিয়নের সাইদুল ইসলাম বলেন, “উপজেলার প্রধান ডাকঘরটির অবস্থা খুবই খারাপ। ভবনটির বাইরে ও ভেতরের জরাজীর্ণ দশা দেখে ভয় লাগে। সেবা নিতে এসে বেশি সময় ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকতেও আতঙ্ক কাজ করে—কখন ছাদ ধসে পড়ে!”

বেলকা ডাকঘরের পিয়ন মোস্তাফা মিয়া জানান, শাখা ডাকঘরের কর্মচারীদের প্রতিদিন চিঠি আনা-নেওয়ার কাজে এখানে আসতে হয়। জরাজীর্ণ ভবনের ভেতরে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করা অত্যন্ত বিপদজনক। অনতিবিলম্বে এটি সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার নুরুল হুদা বলেন, “এক কথায় ভবনটি বর্তমানে ব্যবহারের একেবারেই অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুঁয়ে পানি পড়ে কাগজপত্র সামলানো দুষ্কর হয়ে দাঁড়ায়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বহুবার লিখিতভাবে জানালেও এখনও কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা পোস্টমাস্টার রমজান আলী জানান, সুন্দরগঞ্জ ডাকঘরের জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়ে তিনি অবগত আছেন। ভবনটি দ্রুত সংস্কার ও মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গণমাধ্যমের অন্দরমহলে নিঃশব্দ মৃত্যুমিছিল:কাল হয়তো আমরা কেউ…

সুন্দরগঞ্জ প্রধান ডাকঘরের বেহাল দশা, দেখার কেউ নেই!

Update Time : ১০:৪১:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার প্রধান ডাকঘরটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিনিয়ত ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতারা। চরম ঝুঁকি আর অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চললেও বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের যেন কোনো হেলদোল নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে নির্মিত এই ভবনটির অবস্থা এখন জরাজীর্ণ। বর্ষার দিনে ছাদ চুঁয়ে পানি পড়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাগজপত্র ও নথি ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া সত্ত্বেও ডাকঘরের গুরুত্ব কমেনি; এখনও পাবলিক পরীক্ষার খাতা, সরকারি দপ্তরের অতি জরুরি চিঠিপত্র, রেভিনিউ স্টাম্প বিক্রিসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ এই ডাকঘরের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। অথচ চরম ঝুঁকি নিয়ে মাথার ওপর বিপদের আশঙ্কা বহন করে প্রতিদিন কাজ করতে হচ্ছে কর্মচারীদের।

উল্লেখ্য, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় দুইটি প্রধান ডাকঘরের (সুন্দরগঞ্জ ও বামনডাঙ্গা) অধীনে মোট ২৮টি শাখা ডাকঘর রয়েছে। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ প্রধান ডাকঘরের অধীনে রয়েছে ১২টি শাখা। প্রতিদিন এসব শাখা ডাকঘরের পিয়নদের চিঠিপত্র আনা-নেওয়ার কাজে এই প্রধান কার্যালয়ে আসতে হয়।

সেবা নিতে আসা দহবন্দ ইউনিয়নের সাইদুল ইসলাম বলেন, “উপজেলার প্রধান ডাকঘরটির অবস্থা খুবই খারাপ। ভবনটির বাইরে ও ভেতরের জরাজীর্ণ দশা দেখে ভয় লাগে। সেবা নিতে এসে বেশি সময় ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকতেও আতঙ্ক কাজ করে—কখন ছাদ ধসে পড়ে!”

বেলকা ডাকঘরের পিয়ন মোস্তাফা মিয়া জানান, শাখা ডাকঘরের কর্মচারীদের প্রতিদিন চিঠি আনা-নেওয়ার কাজে এখানে আসতে হয়। জরাজীর্ণ ভবনের ভেতরে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করা অত্যন্ত বিপদজনক। অনতিবিলম্বে এটি সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার নুরুল হুদা বলেন, “এক কথায় ভবনটি বর্তমানে ব্যবহারের একেবারেই অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুঁয়ে পানি পড়ে কাগজপত্র সামলানো দুষ্কর হয়ে দাঁড়ায়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বহুবার লিখিতভাবে জানালেও এখনও কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা পোস্টমাস্টার রমজান আলী জানান, সুন্দরগঞ্জ ডাকঘরের জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়ে তিনি অবগত আছেন। ভবনটি দ্রুত সংস্কার ও মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে।