
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের চিলমারী নদীবন্দরের পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্রের বিরুদ্ধে ঘাটের ইজারা ও ভাড়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান। ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি পোর্ট অফিসারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি পাইছেন কী এখানে? এখানকার মানুষকে জিম্মি করে ৫০ টাকার ভাড়া ২০০ টাকা পর্যন্ত নেবে, এটা আপনি চোখে দেখেন না? আপনাকে কি ঘাস কাটার জন্য রাখছে এখানে? নৌকাওয়ালারা যে ২০০ টাকা করে ভাড়া নেয়, কোনোদিন প্রতিবাদ করছেন? আপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে কখনো লিখেছেন?”
গত সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে বন্দর এলাকার বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে পোর্ট অফিসারকে লক্ষ্য করে সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্য সংবলিত ৭ মিনিট ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানকে আরও বলতে শোনা যায়, “আপনি চিলমারীতে কী কী করতেছেন, সব তথ্য আমার কাছে আছে। আপনি প্রত্যেকটা নৌকার খাজনা নেওয়াচ্ছেন। ১০০ টাকা করে যেটা ছিল না, সেটাও নেওয়াচ্ছেন এবং মাছ বিক্রেতাদের কাছ থেকেও টাকা নিচ্ছেন। প্রত্যেকটা বিষয় আমার নলেজে আছে এবং এটা নিয়ে আমি (ওপর মহলে) কথা বলব।”
পোর্ট অফিসারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে এমপি আরও বলেন, “আপনি ওই ঘাটে যাইয়েন, ফিরে আসতে পারেন কি না দেখেন। আমি এমপি বইলা গেলাম, আমাকে লাগবে না। ওখানে আমি কোনো নির্দেশও দেব না, কিচ্ছু বলব না। আপনি শুধু ওখানে যাইয়েন। আমি জনগণকে নিয়ে লড়ি। আমি আপনাদের মতো এই দুই-চারজন অফিসারকে নিয়ে খেলি না। জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্যই আমি কাজ করি।”
এ বিষয়ে চিলমারী বন্দরের পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ভিডিওতে যা দেখেছেন তাই, এর বাইরে আমার নতুন করে কিছু বলার নেই।”
চিলমারী উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক নূর আলম মুকুল বলেন, “সরকার নির্ধারিত যে ভাড়া, সেটাই নেওয়া উচিত। ঘাটের খাজনা কত—তার একটি তালিকা এমন জায়গায় টাঙানো দরকার যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই দেখতে পারে। নদীবন্দরের সব অনিয়ম খতিয়ে দেখার এখতিয়ার এমপি মহোদয়ের অবশ্যই আছে।”
সার্বিক বিষয়ে জানতে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বর্তমানে তিনি সংসদ ভবনের একটি কর্মসূচিতে ব্যস্ত আছেন।

Reporter Name 























