Dhaka ১০:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
১৬তম বিজেএস-এ দেশসেরা গাইবান্ধার আরিফ উল করিম সিয়াম করতোয়া নৌ ট্র্যাজেডির ৪ বছর: আজও কাঁদছে নদী পাড়ের মানুষ ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষা বাঁধে আবারও ধস, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ পঞ্চগড়ে করতোয়ায় নৌ ট্র্যাজেডির চার বছর: স্বজনহারাদের কান্না আজও থামেনি গোবিন্দগঞ্জে ভারতে পাচারের আগে দুটি কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার, আটক ৩ সাঘাটা ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার, ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন বিকাশ ও রবিসহ চার প্রতিষ্ঠান পেল ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন গাইবান্ধায় স্পন্দন শিল্পীগোষ্ঠীর মাসিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা গোবিন্দগঞ্জে মাধ্যমিক পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক ওবায়দুল হক আরিফ

করতোয়া নৌ ট্র্যাজেডির ৪ বছর: আজও কাঁদছে নদী পাড়ের মানুষ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:২৮:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৯ Time View

পঞ্চগড় সংবাদদাতা: ২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দেবীপক্ষের সূচনা তথা মহালয়ার দিনে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার  মাড়েয়া ইউনিয়নে করতোয়া নদীর আউলিয়া ঘাটে ঘটেছিল দেশের অন্যতম ভয়াবহ এক নৌকাডুবির ঘটনা। যে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৭১ জন মানুষ। দেখতে দেখতে সেই মর্মস্পর্শী ঘটনার ৪ বছর পূর্ণ হলো, কিন্তু আজও মাড়েয়া আউলিয়া ঘাটের বাতাসে যেন ভেসে বেড়ায় স্বজনহারাদের আর্তনাদ।

সেদিন ভোর থেকেই করতোয়া নদীর আউলিয়া ঘাটে পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছিল। সবার গন্তব্য ছিল নদীর অপর পাড়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক বদেশ্বরী মন্দির। দুপুরে মহালয়ার চণ্ডীপাঠ ও পূজা-অর্চনায় অংশ নিতে কয়েক শ’ মানুষ ঘাটে জড়ো হন। দুপুর ১টার দিকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা মন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ঘাট থেকে কিছুদূর যাওয়ার পরই নৌকাটি দুলতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে মাঝনদীতে উল্টে যায়।

নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘটনার প্রথম দিনেই ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী কয়েকদিন ধরে চলে ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ ও বড় উদ্ধার অভিযান। পঞ্চগড় ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী দিনাজপুর জেলা পর্যন্ত নদী থেকে ভেসে ওঠা লাশ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ ৪৭ দিন পর নদী থেকে সর্বশেষ এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের মাধ্যমে এই দুর্ঘটনায় মোট নিহত বা প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়ায় ৭১ জনে। নিহতদের মধ্যে সিংহভাগই ছিল নারী ও শিশু।

এদিকে, জেলার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ এই ট্র্যাজেডির পরই জোরালো হয়ে ওঠে করতোয়া নদীর ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি। নৌ-ট্র্যাজেডির দুই বছর পর ২০২৪ সালে করতোয়া নদীর ওপর পৃথকভাবে নির্মাণাধীন দুটি সেতুর কাজ এখন দৃশ্যমান। শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততায় চলছে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ। প্রতিদিন নৌকায় করতোয়া নদী পারাপার করছেন ৫ ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ। দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি স্থানীয়দের।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

১৬তম বিজেএস-এ দেশসেরা গাইবান্ধার আরিফ উল করিম সিয়াম

করতোয়া নৌ ট্র্যাজেডির ৪ বছর: আজও কাঁদছে নদী পাড়ের মানুষ

Update Time : ০৮:২৮:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পঞ্চগড় সংবাদদাতা: ২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দেবীপক্ষের সূচনা তথা মহালয়ার দিনে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার  মাড়েয়া ইউনিয়নে করতোয়া নদীর আউলিয়া ঘাটে ঘটেছিল দেশের অন্যতম ভয়াবহ এক নৌকাডুবির ঘটনা। যে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৭১ জন মানুষ। দেখতে দেখতে সেই মর্মস্পর্শী ঘটনার ৪ বছর পূর্ণ হলো, কিন্তু আজও মাড়েয়া আউলিয়া ঘাটের বাতাসে যেন ভেসে বেড়ায় স্বজনহারাদের আর্তনাদ।

সেদিন ভোর থেকেই করতোয়া নদীর আউলিয়া ঘাটে পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছিল। সবার গন্তব্য ছিল নদীর অপর পাড়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক বদেশ্বরী মন্দির। দুপুরে মহালয়ার চণ্ডীপাঠ ও পূজা-অর্চনায় অংশ নিতে কয়েক শ’ মানুষ ঘাটে জড়ো হন। দুপুর ১টার দিকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা মন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ঘাট থেকে কিছুদূর যাওয়ার পরই নৌকাটি দুলতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে মাঝনদীতে উল্টে যায়।

নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘটনার প্রথম দিনেই ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী কয়েকদিন ধরে চলে ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ ও বড় উদ্ধার অভিযান। পঞ্চগড় ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী দিনাজপুর জেলা পর্যন্ত নদী থেকে ভেসে ওঠা লাশ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ ৪৭ দিন পর নদী থেকে সর্বশেষ এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের মাধ্যমে এই দুর্ঘটনায় মোট নিহত বা প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়ায় ৭১ জনে। নিহতদের মধ্যে সিংহভাগই ছিল নারী ও শিশু।

এদিকে, জেলার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ এই ট্র্যাজেডির পরই জোরালো হয়ে ওঠে করতোয়া নদীর ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি। নৌ-ট্র্যাজেডির দুই বছর পর ২০২৪ সালে করতোয়া নদীর ওপর পৃথকভাবে নির্মাণাধীন দুটি সেতুর কাজ এখন দৃশ্যমান। শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততায় চলছে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ। প্রতিদিন নৌকায় করতোয়া নদী পারাপার করছেন ৫ ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ। দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি স্থানীয়দের।