
সফিকুল আলম দোলন, পঞ্চগড়:
দেখতে দেখতে পার হয়ে গেল চারটি বছর। কিন্তু পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার করতোয়া তীরের বাতাসে আজও যেন ভেসে বেড়ায় স্বজনহারাদের বুকফাটা আর্তনাদ। ২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর দেবীপক্ষের সূচনা তথা মহালয়ার দিনে মাড়েয়া ইউনিয়নের আউলিয়া ঘাটে ঘটেছিল দেশের অন্যতম ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনা। সেই মর্মান্তিক স্মৃতি আজও তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে করতোয়াপাড়ের মানুষকে।
সেদিন ভোর থেকেই করতোয়া নদীর আউলিয়া ঘাটে পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছিল। সবার গন্তব্য ছিল নদীপারের ঐতিহাসিক বদেশ্বরী মন্দির। দুপুরে মহালয়ার চণ্ডীপাঠ ও পূজা-অর্চনায় অংশ নিতে ঘাটে জড়ো হয়েছিলেন কয়েক শত মানুষ। দুপুর ১টার দিকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা মন্দিরের উদ্দেশে রওনা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘাট থেকে কিছু দূর যাওয়ার পরই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বোঝাই নৌকাটি দুলতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে মাঝনদীতে উল্টে ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা এবং পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘটনার প্রথম দিনেই উদ্ধার হয় ২৪ জনের মরদেহ। এরপর টানা কয়েক দিন ধরে চলে উদ্ধার তৎপরতা। পঞ্চগড় ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী দিনাজপুর জেলার নদীসীমানা থেকেও মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ ৪৭ দিন পর সর্বশেষ এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭১ জনে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় প্রাণ হারানোদের সিংহভাগই ছিলেন নারী ও শিশু।
জেলার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এই ট্র্যাজেডির পরই করতোয়া নদীর ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণের জোরালো দাবি ওঠে। নৌ ট্র্যাজেডির দুই বছর পর ২০২৪ সালে নদীর ওপর দুটি পৃথক সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়, যা এখন অনেকটাই দৃশ্যমান। বর্তমানে শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততায় দ্রুত এগিয়ে চলছে নির্মাণকাজ। তবে এখনো প্রতিদিন নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হতে হচ্ছে অন্তত পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে। নদীপারের মানুষের একটাই দাবি—দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সেতু দুটির কাজ দ্রুত শেষ করে যেন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

Reporter Name 























