
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা বাঁধে আবারও তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল বাজারের দক্ষিণে খামার এলাকায় বাঁধের প্রায় ৪০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। হঠাৎ বিকট শব্দে ভাঙন শুরু হলে নদীতীরের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টায় নির্ঘুম রাত কাটান।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাঁচকোল দক্ষিণ খামার এলাকায় তীর রক্ষা বাঁধের ব্লকের স্তর ধসে রাস্তা ভেঙে গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বাঁধটির প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকার অন্তত আটটি স্থানে ফাটল ও ধস দেখা দেওয়ায় পুরো অঞ্চলটিই এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন রোধে প্রায় সাড়ে চারশত কোটি টাকা ব্যয়ে ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের আওতায় ব্লক ডাম্পিং, পিচিং এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ-সড়ক নির্মাণ করা হয়। তবে নির্মাণের পর থেকেই বিভিন্ন অংশে একাধিকবার ধস নামে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবারই জরুরি মেরামতের নামে কেবল দায়সারা কাজ করা হয়েছে। মাত্র দুই মাস আগেও একই ইউনিয়নের কাঁচকোল সড়কটারী এলাকায় চারটি স্থানে ভাঙন দেখা দিলে কিছু জিও ব্যাগ ফেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা গোলাজার হোসেন, মাহবুবুর রহমান ও মানিক মিয়া জানান, বাঁধের রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বিকট শব্দে প্রায় ৪০ মিটার এলাকার ব্লক ধসে নদীতে চলে যায়। বাপ-দাদার ভিটেমাটি আর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটছে তাদের।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২০১৮ সাল থেকে বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ধসের ঘটনা ঘটলেও পাউবো কোনো স্থায়ী সমাধান করেনি। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়। চলতি মৌসুমেই চার দফায় অন্তত ৬০০ মিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া জরুরি সংস্কার কাজের বরাদ্দে নিম্নমানের জিও ব্যাগ ব্যবহার ও বালু ভরাটসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও তোলেন তারা।
ভাঙনের খবর পেয়ে শুক্রবার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, “বাঁধের প্রায় ৬০০ মিটার অংশের চারটি স্থানে কোথাও ফাটল, আবার কোথাও ধস দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলেই মূল কাজ শুরু হবে। তবে তাৎক্ষণিক ভাঙন ঠেকাতে আপাতত বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

Reporter Name 























