Dhaka ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
পত্নীতলায় ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু শ্বশুরবাড়িতে আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জামাইয়ের মৃত্যু  চিলমারীতে হঠাৎ দমকা হাওয়ায় ডুবে গেছে ৭টি নৌকা সুন্দরগঞ্জে বাড়ির যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করার প্রতিবাদে মানববন্ধন নওগাঁয় বাসের বক্সের ঢাকনার আঘাতে অটোরিকশার ১ যাত্রী নিহত, আহত ২ শিশু   সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণীতে বিশ্বকাপে জিতবে কোন দল? গোবিন্দগঞ্জে এক মানসিক রোগীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার জ্যৈষ্ঠের দাবদাহে পুড়ছে দেশ, জুনে ২-৩ দফা তাপপ্রবাহের আভাস মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা: ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া সতর্কবার্তা ইরানের মুক্তিযুদ্ধের সময় নিখোঁজ বাবা: ৫৪ বছর পর বাংলাদেশে জন্মভিটার সন্ধান পেল পাকিস্তানে বেড়ে ওঠা ছেলে

কানাডার ফেডারেল এমপি নির্বাচিত হয়ে প্রথম বাংলাদেশির রেকর্ড

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৪২:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬০ Time View

তিমির বণিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

কানাডার রাজনীতিতে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম। প্রথমবারের মতো দেশটির ফেডারেল উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়ে তিনি এই রেকর্ড গড়েন। গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন মৌলভীবাজারের এই কৃতী সন্তান।

ডলি বেগমের এই জয়ের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টি কানাডার হাউজ অব কমন্সে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।

জানা যায়, সোমবার কানাডার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে (অন্টারিওর ইউনিভার্সিটি-রোজডেল ও স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট এবং কুইবেকের তেরেবোন) উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান সরকার পরিচালনার জন্য লিবারেল পার্টির কেবল একটি আসনে জয়ের প্রয়োজন ছিল। ডলি বেগমের বিজয় সেই কাঙ্ক্ষিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। উপনির্বাচনের আগে লিবারেলদের আসন ছিল ১৭১টি। ডলির জয়সহ বর্তমানে তাদের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৪-এ। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ফলে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এখন ২০২৯ সালের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত স্থিতিশীলভাবে সরকার পরিচালনা এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী বিলগুলো সহজে পাস করতে পারবেন।

ফেডারেল রাজনীতিতে আসার আগে ডলি বেগম অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্টে টানা তিনবার এমপিপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি প্রথমবারের মতো নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়ে চমক সৃষ্টি করেন। এরপর ২০২২ এবং ২০২৪ সালেও তিনি তার জনপ্রিয়তা ধরে রেখে টানা বিজয়ী হন। এবার ফেডারেল নির্বাচনে লিবারেল পার্টির হয়ে লড়ে তিনি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যুক্ত করলেন।

ডলি বেগমের শেকড় বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার মনু নদের তীরে। মাত্র ১২ বছর বয়সে বাবা রাজা মিয়া এবং মা জবা বেগমের সঙ্গে তিনি কানাডায় পাড়ি জমান। প্রবাসে গিয়েও তিনি পড়াশোনায় মেধার স্বাক্ষর রাখেন। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিখ্যাত ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কানাডার মূলধারার রাজনীতিতে ডলি বেগমের এই ঈর্ষণীয় সাফল্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তার এই জয়ে কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও বইছে উৎসবের আমেজ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

পত্নীতলায় ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু

কানাডার ফেডারেল এমপি নির্বাচিত হয়ে প্রথম বাংলাদেশির রেকর্ড

Update Time : ০৯:৪২:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

তিমির বণিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

কানাডার রাজনীতিতে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম। প্রথমবারের মতো দেশটির ফেডারেল উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়ে তিনি এই রেকর্ড গড়েন। গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন মৌলভীবাজারের এই কৃতী সন্তান।

ডলি বেগমের এই জয়ের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টি কানাডার হাউজ অব কমন্সে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।

জানা যায়, সোমবার কানাডার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে (অন্টারিওর ইউনিভার্সিটি-রোজডেল ও স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট এবং কুইবেকের তেরেবোন) উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান সরকার পরিচালনার জন্য লিবারেল পার্টির কেবল একটি আসনে জয়ের প্রয়োজন ছিল। ডলি বেগমের বিজয় সেই কাঙ্ক্ষিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। উপনির্বাচনের আগে লিবারেলদের আসন ছিল ১৭১টি। ডলির জয়সহ বর্তমানে তাদের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৪-এ। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ফলে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এখন ২০২৯ সালের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত স্থিতিশীলভাবে সরকার পরিচালনা এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী বিলগুলো সহজে পাস করতে পারবেন।

ফেডারেল রাজনীতিতে আসার আগে ডলি বেগম অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্টে টানা তিনবার এমপিপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি প্রথমবারের মতো নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়ে চমক সৃষ্টি করেন। এরপর ২০২২ এবং ২০২৪ সালেও তিনি তার জনপ্রিয়তা ধরে রেখে টানা বিজয়ী হন। এবার ফেডারেল নির্বাচনে লিবারেল পার্টির হয়ে লড়ে তিনি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যুক্ত করলেন।

ডলি বেগমের শেকড় বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার মনু নদের তীরে। মাত্র ১২ বছর বয়সে বাবা রাজা মিয়া এবং মা জবা বেগমের সঙ্গে তিনি কানাডায় পাড়ি জমান। প্রবাসে গিয়েও তিনি পড়াশোনায় মেধার স্বাক্ষর রাখেন। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিখ্যাত ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কানাডার মূলধারার রাজনীতিতে ডলি বেগমের এই ঈর্ষণীয় সাফল্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তার এই জয়ে কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও বইছে উৎসবের আমেজ।