Dhaka ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার সাঁতরে পার হওয়ার সময় বাঙালি নদীতে এক বৃদ্ধ নিখোঁজ ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিতে রাজি মিয়ানমার: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেফতার সাঘাটায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বানে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ সাঘাটায় বিদেশে পাঠানোর নামে ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ! সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি লাওসে এশিয়া ন্যাশনাল ওয়াটার কনসালটেটিভ মিটিংয়ে এমপি মিলন নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার সবসময় থাকবে: এমপি মমতাজ আলো আড়াই বছর ধরে আটকে গাইবান্ধার ৯ সেতুর কাজ, ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কায় দুর্ভোগে মানুষ ধ্বংস আর মৃত্যুর মাঝেও ফুটবলকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াইয়ে ফিলিস্তিনিরা

ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো চাপা পড়ে আছে ৮ হাজার মরদেহ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫১:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • ৩৭ Time View

ডেস্ক রিপোর্ট: যুদ্ধ থেমেছে, কিন্তু মৃত্যু আর ধ্বংসের ভয়াবহতা এখনো শেষ হয়নি। উদ্ধার সরঞ্জামের অভাবে গাজার বহু পরিবার আজও তাদের স্বজনদের মরদেহ খুঁজে পাচ্ছে না। একই সময়ে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল জানিয়েছে, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অন্তত ৮ হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ চাপা পড়ে আছে। গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল বলেন, উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি অত্যন্ত পুরোনো এবং ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ মোকাবিলার জন্য একেবারেই যথেষ্ট নয়। তার ভাষায়, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে, ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে মরদেহের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

তিনি আরও জানান, গাজাজুড়ে ইঁদুর ও বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রাণীর বিস্তার ঘটেছে, যা বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। তবে ধ্বংসস্তূপ সরাতে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশের অনুমতি এখনো দিচ্ছে না ইসরায়েল। শুধু ইঁদুরনাশক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় এখনো ৬ কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি ধ্বংসস্তূপ পড়ে আছে, যার মাত্র ১ শতাংশ সরানো সম্ভব হয়েছে। ইসরায়েলি হামলায় ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৭৫ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থাৎ গাজার প্রায় ৮১ শতাংশ স্থাপনা ক্ষতির মুখে পড়েছে।

এদিকে, পুরো গাজা পরিষ্কার করতে ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি ব্যয় হতে পারে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, ধ্বংসস্তূপ আর মানবিক সংকট এখনো ভয়াবহ রূপে রয়ে গেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১ হাজার ১শ’ ৫৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ১১ হাজার ৭৫০ জন এবং আটক হয়েছেন প্রায় ২২ হাজার মানুষ।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজারেরও বেশি মানুষ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার

ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো চাপা পড়ে আছে ৮ হাজার মরদেহ

Update Time : ১১:৫১:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: যুদ্ধ থেমেছে, কিন্তু মৃত্যু আর ধ্বংসের ভয়াবহতা এখনো শেষ হয়নি। উদ্ধার সরঞ্জামের অভাবে গাজার বহু পরিবার আজও তাদের স্বজনদের মরদেহ খুঁজে পাচ্ছে না। একই সময়ে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল জানিয়েছে, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অন্তত ৮ হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ চাপা পড়ে আছে। গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল বলেন, উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি অত্যন্ত পুরোনো এবং ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ মোকাবিলার জন্য একেবারেই যথেষ্ট নয়। তার ভাষায়, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে, ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে মরদেহের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

তিনি আরও জানান, গাজাজুড়ে ইঁদুর ও বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রাণীর বিস্তার ঘটেছে, যা বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। তবে ধ্বংসস্তূপ সরাতে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশের অনুমতি এখনো দিচ্ছে না ইসরায়েল। শুধু ইঁদুরনাশক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় এখনো ৬ কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি ধ্বংসস্তূপ পড়ে আছে, যার মাত্র ১ শতাংশ সরানো সম্ভব হয়েছে। ইসরায়েলি হামলায় ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৭৫ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থাৎ গাজার প্রায় ৮১ শতাংশ স্থাপনা ক্ষতির মুখে পড়েছে।

এদিকে, পুরো গাজা পরিষ্কার করতে ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি ব্যয় হতে পারে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, ধ্বংসস্তূপ আর মানবিক সংকট এখনো ভয়াবহ রূপে রয়ে গেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১ হাজার ১শ’ ৫৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ১১ হাজার ৭৫০ জন এবং আটক হয়েছেন প্রায় ২২ হাজার মানুষ।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজারেরও বেশি মানুষ।