
ডেস্ক রিপোর্টঃ একজন কিংবদন্তি ফুটবলার হিসেবে পুরো বিশ্বকে জয় করলেও বাবার কাছে তিনি ছিলেন সেই ছোট্ট ছেলেটিই। সেই বাবাই যখন চলে গেলেন না-ফেরার দেশে, তখন সব ব্যস্ততা ছেড়ে ক্ষুদে জাদুকর ছুটে গেলেন নিজের শহর রোজারিওতে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার থেকে শনিবারের মধ্যবর্তী রাতে, রাত ২টার দিকে মারা যান মেসির বাবা হোর্হে মেসি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। তবে তার মৃত্যুর কারণ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
হোর্হে মেসি শুধু লিওনেল মেসির বাবা ছিলেন না, তার ক্যারিয়ারের দীর্ঘ পথচলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গীও ছিলেন। কখনও বাবার ভূমিকায়, কখনও এজেন্ট হিসেবে ছেলের পাশে থেকে গেছেন তিনি।
এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ফোর্ট লডারডেল থেকে রওনা হয়ে স্থানীয় সময় শনিবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রোজারিওতে পৌঁছান মেসি। স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও সন্তানদের নিয়ে পুলিশের নিরাপত্তাবেষ্টনীতে একটি ভ্যানে করে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি।
রোজারিওর কাছের শহর পেরেজে হোর্হে মেসিকে সমাহিত করা হবে। টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, শেষবিদায়ের আয়োজন হবে একান্ত পারিবারিক পরিসরে। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনেরাই সেখানে উপস্থিত থাকবেন।
তবে কবরস্থানের ফটকে এরই মধ্যে ভিড় করেছেন অসংখ্য মেসিভক্ত। প্রিয় তারকার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে পাশে থাকার বার্তা দিতেই সেখানে জড়ো হয়েছেন তারা।
বাবার শেষবিদায় ও শোকাহত পরিবারের পাশে থাকতে মেসি রোজারিওতে গেছেন। বিশেষ করে মা সেলিয়ার পাশে থাকার বিষয়টিও তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাবার মৃত্যুর কারণে ইন্টার মায়ামি থেকেও তাকে দ্রুত ফেরানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। লিগস কাপের গ্রুপ পর্বে মন্টেরির বিপক্ষে ম্যাচে তার খেলার কথা থাকলেও তাকে সেই ম্যাচ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মেসি পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের অসংখ্য মানুষ ও ক্লাব। বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ, রোজারিও সেন্ট্রাল ও নিউয়েলসসহ বিভিন্ন ক্লাব শোক প্রকাশ করেছে।
এদিকে বাবার মৃত্যুর দিন মেসিকে ছাড়াই মন্টেরির বিপক্ষে মাঠে নামে ইন্টার মায়ামি। ম্যাচ শুরুর আগে পালন করা হয় এক মিনিট নীরবতা। গ্যালারিতে সমর্থকেরা প্ল্যাকার্ড হাতে মেসির প্রতি সমর্থন জানান—‘ফোর্সা, লিও’, অর্থাৎ ‘শক্ত থাকো, লিও’।
এরপর ম্যাচে রদ্রিগো ডি পলের গোলে এগিয়ে যায় ইন্টার মায়ামি। বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করেন এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। গোল উদ্যাপনের সময় জার্সি খুলে নিচে পরা মেসির ১০ নম্বর জার্সি দেখান তিনি।
আবেগঘন সেই মুহূর্তে ডি পল গোলটি উৎসর্গ করেন জাতীয় দলের অধিনায়ক মেসিকে—তবে তার চেয়েও বেশি করে নিজের বন্ধু মেসির প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থনের প্রতীক হিসেবে।
শেষ পর্যন্ত অবশ্য ২-১ ব্যবধানে ম্যাচটি হেরে যায় ইন্টার মায়ামি। ম্যাচ হারলেও কিংবদন্তির এই কঠিন সময়ে পুরো ফুটবলবিশ্বের বার্তা একটাই—‘ফোর্সা, লিও।’

Reporter Name 























