Dhaka ০৩:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরবে ভয়াবহ আগুনে নওগাঁর আত্রাইয়ের ৭ প্রবাসীর মৃত্যু

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৯ Time View
নওগাঁ প্রতিনিধি: সৌদি আরবের রিয়াদের খোরদাম শহরে একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাতজন রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে উপজেলা প্রশাসন। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রোববার (৯ আগষ্ট) বাংলাদেশ সময় আনুমানিক বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ওই কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে কারখানাটিতে কর্মরত বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি আগুনে পুড়ে প্রাণ হারান বলে জানা গেছে।
নিহতদের মধ্যে আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সাতজন রয়েছেন। তারা জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়ে ওই সোফা কারখানায় কর্মরত ছিলেন। প্রবাসের মাটিতে কাজ করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া এসব মানুষের এমন করুণ মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের মাতম।
রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আত্রাইয়ে সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান।
তিনি জানান, উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের চারজন, বিষা গ্রামের দুজন এবং পারকাসুন্দা গ্রামের একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে, ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও ১৫ জন, কোথাও ১৭ জন আবার কোথাও ১৯ জনের মৃত্যুর কথা বলা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে।

তবে আত্রাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিহতের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। পরিবারের একমাত্র বা প্রধান উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে অনেক পরিবার এখন দিশেহারা। যে স্বজনকে ঘিরে ছিল প্রবাস থেকে ফিরে আসার অপেক্ষা, সেই স্বজনের মরদেহ ফেরার খবরে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে এক অসহনীয় শোক।
প্রবাসে গিয়ে পরিবারের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন তারা। অথচ সেই স্বপ্নের পথেই এমন মর্মান্তিক পরিণতি যেন মুহূর্তেই নিঃস্ব করে দিয়েছে একেকটি পরিবারকে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সৌদি আরবে ভয়াবহ আগুনে নওগাঁর আত্রাইয়ের ৭ প্রবাসীর মৃত্যু

Update Time : ১১:০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
নওগাঁ প্রতিনিধি: সৌদি আরবের রিয়াদের খোরদাম শহরে একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাতজন রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে উপজেলা প্রশাসন। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রোববার (৯ আগষ্ট) বাংলাদেশ সময় আনুমানিক বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ওই কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে কারখানাটিতে কর্মরত বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি আগুনে পুড়ে প্রাণ হারান বলে জানা গেছে।
নিহতদের মধ্যে আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সাতজন রয়েছেন। তারা জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়ে ওই সোফা কারখানায় কর্মরত ছিলেন। প্রবাসের মাটিতে কাজ করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া এসব মানুষের এমন করুণ মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের মাতম।
রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আত্রাইয়ে সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান।
তিনি জানান, উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের চারজন, বিষা গ্রামের দুজন এবং পারকাসুন্দা গ্রামের একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে, ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও ১৫ জন, কোথাও ১৭ জন আবার কোথাও ১৯ জনের মৃত্যুর কথা বলা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে।

তবে আত্রাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিহতের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। পরিবারের একমাত্র বা প্রধান উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে অনেক পরিবার এখন দিশেহারা। যে স্বজনকে ঘিরে ছিল প্রবাস থেকে ফিরে আসার অপেক্ষা, সেই স্বজনের মরদেহ ফেরার খবরে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে এক অসহনীয় শোক।
প্রবাসে গিয়ে পরিবারের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন তারা। অথচ সেই স্বপ্নের পথেই এমন মর্মান্তিক পরিণতি যেন মুহূর্তেই নিঃস্ব করে দিয়েছে একেকটি পরিবারকে।