Dhaka ০১:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার সাঁতরে পার হওয়ার সময় বাঙালি নদীতে এক বৃদ্ধ নিখোঁজ ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিতে রাজি মিয়ানমার: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেফতার সাঘাটায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বানে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ সাঘাটায় বিদেশে পাঠানোর নামে ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ! সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি লাওসে এশিয়া ন্যাশনাল ওয়াটার কনসালটেটিভ মিটিংয়ে এমপি মিলন নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার সবসময় থাকবে: এমপি মমতাজ আলো আড়াই বছর ধরে আটকে গাইবান্ধার ৯ সেতুর কাজ, ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কায় দুর্ভোগে মানুষ ধ্বংস আর মৃত্যুর মাঝেও ফুটবলকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াইয়ে ফিলিস্তিনিরা

‘আগামী নির্বাচনেই অংশ নিতে পারে আওয়ামী লীগ’: সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:১০:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
  • ৯৬ Time View

ঢাকা প্রতিনিধি:

দেশের মানুষজনের স্মৃতিশক্তি খুব দীর্ঘ নয়, তাই আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে একেবারে হারিয়ে যাবে না এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনেই দলটি অংশ নিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন। সম্প্রতি যমুনা টেলিভিশনকে দেওয়া একটি একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরের নানা অনালোচিত বিষয়, ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিস্ফোরক সব তথ্য তুলে ধরেন সাবেক এই উপদেষ্টা।

এম তৌহিদ হোসেন জানান, দায়িত্ব পালনের সময় তিনি তিনবার পদত্যাগের (কুইট করার) সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়, এই মুহূর্তে তার পদত্যাগ অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বড় ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করবে।

সরকারের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে তিনি একটি ‘কিচেন ক্যাবিনেটের’ অস্তিত্বের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন: “কোনো একটি উপলক্ষ্যে যমুনাতে (যমুনা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন) ‘কিচেন ক্যাবিনেটের’ একটি বৈঠকে আমাকে যেতে হয়েছিল। পরে জানতে পারি, প্রতি মঙ্গলবার তারা বসেন এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেন। এমন একটি গ্রুপ যে নিয়মিত বসে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, সেটি আগে আমার জানা ছিল না; শুধু কানে আসত।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ‘ডিপস্টেট’ (দৃশ্যপটের পেছনের প্রভাবশালী গোষ্ঠী) সক্রিয় ছিল কিনা—উপস্থাপকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পৃথিবীর প্রতিটি বড় ঘটনার পেছনেই কোনো না কোনোভাবে ডিপস্টেট জড়িত থাকে। তবে তারা স্রোতের বিপরীতে যায় না, বরং স্রোতের অনুকূলে থেকে পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা (ম্যানিপুলেট) করে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত চেয়ে পাঠানো চিঠির কোনো জবাব কেন আসেনি, সে বিষয়ে তৌহিদ হোসেন স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা কি আসলেই কোনো উত্তর আশা করেছিলাম? আমি অন্তত আশা করিনি।” তবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, “আমি মনে করি না আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে একেবারে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে। আমাদের মানুষের স্মৃতিশক্তি খুব দীর্ঘ না। তারা রাজনীতিতে ফিরে আসবে এবং আমার অনুমান, আগামী নির্বাচনেই তারা অংশ নেবে।”

জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য চুক্তি সই করা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে সাবেক এই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। তিনি দাবি করেন, এই চুক্তির বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি বিন্দুমাত্র জড়িত ছিলেন না।

তিনি বলেন, “এই প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণভাবে জড়িত ছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার (জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা)। নিশ্চয়ই নেপথ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছিল, যার কারণে আমরা এটি করতে বাধ্য হয়েছিলাম। তবে কোনো বড় বাধ্যবাধকতা না থাকলে, এই ধরনের চুক্তি সই করার বিষয়টি একটি নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়াই যথাযথ হতো।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার

‘আগামী নির্বাচনেই অংশ নিতে পারে আওয়ামী লীগ’: সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন

Update Time : ১১:১০:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

ঢাকা প্রতিনিধি:

দেশের মানুষজনের স্মৃতিশক্তি খুব দীর্ঘ নয়, তাই আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে একেবারে হারিয়ে যাবে না এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনেই দলটি অংশ নিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন। সম্প্রতি যমুনা টেলিভিশনকে দেওয়া একটি একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরের নানা অনালোচিত বিষয়, ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিস্ফোরক সব তথ্য তুলে ধরেন সাবেক এই উপদেষ্টা।

এম তৌহিদ হোসেন জানান, দায়িত্ব পালনের সময় তিনি তিনবার পদত্যাগের (কুইট করার) সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়, এই মুহূর্তে তার পদত্যাগ অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বড় ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করবে।

সরকারের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে তিনি একটি ‘কিচেন ক্যাবিনেটের’ অস্তিত্বের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন: “কোনো একটি উপলক্ষ্যে যমুনাতে (যমুনা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন) ‘কিচেন ক্যাবিনেটের’ একটি বৈঠকে আমাকে যেতে হয়েছিল। পরে জানতে পারি, প্রতি মঙ্গলবার তারা বসেন এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেন। এমন একটি গ্রুপ যে নিয়মিত বসে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, সেটি আগে আমার জানা ছিল না; শুধু কানে আসত।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ‘ডিপস্টেট’ (দৃশ্যপটের পেছনের প্রভাবশালী গোষ্ঠী) সক্রিয় ছিল কিনা—উপস্থাপকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পৃথিবীর প্রতিটি বড় ঘটনার পেছনেই কোনো না কোনোভাবে ডিপস্টেট জড়িত থাকে। তবে তারা স্রোতের বিপরীতে যায় না, বরং স্রোতের অনুকূলে থেকে পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা (ম্যানিপুলেট) করে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত চেয়ে পাঠানো চিঠির কোনো জবাব কেন আসেনি, সে বিষয়ে তৌহিদ হোসেন স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা কি আসলেই কোনো উত্তর আশা করেছিলাম? আমি অন্তত আশা করিনি।” তবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, “আমি মনে করি না আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে একেবারে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে। আমাদের মানুষের স্মৃতিশক্তি খুব দীর্ঘ না। তারা রাজনীতিতে ফিরে আসবে এবং আমার অনুমান, আগামী নির্বাচনেই তারা অংশ নেবে।”

জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য চুক্তি সই করা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে সাবেক এই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। তিনি দাবি করেন, এই চুক্তির বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি বিন্দুমাত্র জড়িত ছিলেন না।

তিনি বলেন, “এই প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণভাবে জড়িত ছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার (জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা)। নিশ্চয়ই নেপথ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছিল, যার কারণে আমরা এটি করতে বাধ্য হয়েছিলাম। তবে কোনো বড় বাধ্যবাধকতা না থাকলে, এই ধরনের চুক্তি সই করার বিষয়টি একটি নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়াই যথাযথ হতো।”